নিউজ২১ডেস্কঃ দেশের অন্যতম শীর্ষ কোম্পানি ট্রান্সকম গ্রুপের গৃহ বিবাদ প্রকাশ্য এবং তীব্র আকার ধারণ করছে। একের পর এক মামলা হচ্ছে। শেয়ার জালিয়াতি এবং কোম্পানির সম্পত্তি আত্মসাতের জেরে মামলার পর এখন হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। শাযরেহ হক তার বড় বোন সিমিন রহমানের বিরুদ্ধে ভাই হত্যার অভিযোগে মামলা করেছেন। ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিমিন রহমানের বিরুদ্ধে তার আপন ভাইকে হত্যার অভিযোগে মামলা করেছেন তারই ছোট বোন শাযরেহ হক। গুলশান থানায় দায়ের করা এই মামলায় সিমিন রহমানের ছেলে যারাইফ আয়াত হোসেনকেও আসামী করা হয়েছে।
ডিএমপির গুলশান বিভাগের কমিশনার রিফাত রহমান শামীম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, সিমিন রহমান এবং তার ছেলে ছাড়াও আর নয় জন আসামী রয়েছেন। তারা হলেন এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস এর ব্যবস্থাপক ডা. মুরাদ এবং পরিচালক (বিপণন ও বিক্রয়) ডা. মো. মুজাহিদুল ইসলাম, ট্রান্সকম গ্রুপের পরিচালক (অর্থ) কামরুল হাসান, আইন কর্মকর্তা মো. ফখরুজ্জামান ভূঁইয়া, ব্যবস্থাপক (করপোরেট অ্যাফেয়ার্স) কে এইচ মো. শাহাদত হোসেন, কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন ও সেলিনা সুলতানা।
উল্লেখ্য যে, আরশাদ ওয়ালিউর রহমান গত বছরের ১৬ জুন রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে মারা যান। তিনি ট্রান্সকম গ্রুপের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছিলেন। আরশাদ ওয়ালিউর রহমান ট্রান্সকম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক চেয়ারম্যান লতিফুর রহমানের বড় ছেলে। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল মাত্র ৫৮ বছর।
শাযরেহ হক মামলার অভিযোগে দাবি করেছেন যে, তার বড় বোন সিমিন রহমান সহ অন্যান্য অভিযুক্তরা তার বড় ভাই আরশাদ ওয়ালিউর রহমানকে বিষ প্রয়োগ করে শ্বাসবোধে হত্যা করেছেন। এর আগে কোম্পানির সম্পত্তি ও শেয়ার-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বড় বোন সিমিন ও গ্রুপের বর্তমান চেয়ারম্যান মা শাহনাজ রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন শাযরেহ। ওই মামলায় বিশ্বাসভঙ্গ, জালিয়াতি ও দলিল জালের মাধ্যমে শাযরেহ ও তার প্রয়াত ভাই আরশাদ ওয়ালিউর রহমানকে ১০ হাজার কোটি টাকা মূল্যের পারিবারিক সম্পত্তির ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ আনা হয়।
একের পর এক মামলার কারণে দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্প পরিবার হিসেবে পরিচিত ট্রান্সকম গ্রুপ এখন টালমাটাল অবস্থানে বিরাজ করছে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারিরা এক ধরনের অনিশ্চিয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। বিশেষ করে শাযরেহ হক এর সঙ্গে যারা যোগাযোগ করছেন তারাও যেমন আতঙ্কে আছেন অন্যদিকে যারা সিমিনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিল তারাও এক ধরনের অনিশ্চিয়তা এবং আতঙ্কের মধ্যে আছেন। কারণ শাযরেহ যদি তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা করেন বা অভিযোগ দাখিল করেন তাহলে বিপদে পড়তে পারে। এ আশঙ্কা এখন ট্রান্সকম গ্রুপের মধ্যে একটি অস্থির অবস্থায় চলছে।
ট্রান্সকম গ্রুপের কর্তৃত্বে আছে দেশের দুটি প্রভাবশালী গণমাধ্যম। এগুলো হল ডেইলি স্টার এবং প্রথম আলো। প্রশ্ন উঠেছে যে, ডেইলি স্টার এবং প্রথম আলো এখন কার নিয়ন্ত্রণে আছে এবং কোন বোনকে সমর্থন করছে। এখন পর্যন্ত লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, দুটি পত্রিকা অভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করেছে এবং একই কৌশল গ্রহণ করেছে। তারা যদিও সিমিনের পক্ষে। কিন্তু আদালতের এবং মামলা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে তারা একটি নির্মোহ নৈব্যক্তিক এবং নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করছে। দুটি পত্রিকারই পেছনের পাতায় আজ সিঙ্গেল কলামের নিউজ করা হয়েছে। যেখানে প্রথম আলো লিখেছে, ট্রান্সকমের সিইও সহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা। অন্যদিকে একটি হুবহু ইংরেজি অনুবাদ করে ডেইলি স্টার লিখেছে অ্যানাদার কেস এগেইনস্ট ট্রান্সকমস সিইও এন্ড টেন আদারস।
দুটি পত্রিকার সংবাদ একই রকম এবং বোঝায় যাচ্ছে যে, মতিউর রহমান এবং মাহফুজ আনাম একে অন্যের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করেই সংবাদ দুটি প্রকাশ করেছেন। তবে এই মামলা গড়াতে থাকলে মতিউর রহমান এবং মাহফুজ আনাম কোন পক্ষে যান সেটা দেখার বিষয়। কারণ অনেকে মনে করছেন যে, শাযরেহ হক এর প্রতি সরকারের একটি প্রচ্ছন্ন সমর্থন রয়েছে। তিনি যেন ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে পারেন সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সহানুভূতিশীল। এরকম পরিস্থিতি যদি হয় এবং সিমিন রহমান যদি চাপে পড়ে তাহলে মতিউর রহমান এবং মাহফুজ আনাম কখন তাদের চেহারা পাল্টে ফেলেন সেটাই দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন। এই দুজন ব্যক্তি বিভিন্ন সংকটে তাদের চেহারা পরিবর্তন করেছেন এবং মুখোশ পরিবর্তন করেছেন। যেকোন সংকটে চরিত্র বদল করতে, অবস্থান পাল্টাতে তারা দুজনই সিদ্ধহস্ত। এখন দেখার বিষয় যে, সামনের দিনগুলোতে এই দুই পত্রিকার সম্পাদক কোন পক্ষে যান এবং কি অবস্থান গ্রহণ করেন।





