যথাযোগ্য মর্যাদায় দেশের ৫৩তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত

198
ঢাকাঃ স্বাধীনতার ৫৩ বছরে সোনার বাংলার পথে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার সেই দিন উদযাপনে লাল-সবুজের বর্ণিল সাজে সেজেছে গোটা দেশ।

পরাধীনতা থেকে মুক্তি পেতে বাঙালির দীর্ঘ আন্দোলনের পথ ধরে নয় মাস মরণপণ যুদ্ধের পর এসেছিল যে স্বাধীনতা, পাকিস্তানি শোষণ-বঞ্চনার শৃঙ্খল ভেঙে উড়েছিল লাল-সবুজের পতাকা; সেই স্বাধীন স্বদেশ বিনির্মাণের ৫৩তম বার্ষিকীতে পৌঁছেছে বাংলাদেশ।

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভুটানের রাজা ওয়াংচুক।

ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে দাঁড়িয়ে নানা চড়াই উৎড়াই পেরিয়ে অগ্রযাত্রার ধারায় এখন উন্নয়নশীল হওয়ার পথে এগোনো দেশ স্বপ্ন দেখছে উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলা হওয়ার; মঙ্গলবার স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে ঝরছে সেই পথে দৃঢ় থাকার প্রত্যয়।

পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার সেই দিন উদযাপনে লাল-সবুজের বর্ণিল সাজে সেজেছে গোটা দেশ; মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণ করে আনন্দক্ষণ উদযাপনে প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।

উদযাপনে নতুন মাত্রা দিয়ে এবার সঙ্গী হচ্ছেন স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেওয়া দেশ ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগুয়েল ওয়াংচুক ও রানী জেৎসুন পেমা।

 

ছবি: ফোকাস বাংলা 
ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানালেন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

 

স্বাধীনতার ৫৩ বছর পূর্তির প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “আমাদের লক্ষ্য, যে উন্নয়ন-অগ্রগতি আমরা এখন পর্যন্ত সাধন করেছি, তা আরও এগিয়ে নিয়ে বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। যে বাংলাদেশ হবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্য-মুক্ত অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলাদেশ।”

জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে সোমবার সন্ধ্যায় তিনি সব কূট-কৌশল-ষড়যন্ত্রের বেড়াজাল ছিন্ন করে ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রাকে আরও সামনে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণ করে স্বাধীনতার সংগ্রামে পাশে দাঁড়ানো বিদেশি বন্ধুরাষ্ট্র, ব্যক্তি, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছেন তারা।

স্বাধীনতার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে জনমুখী ও টেকসই উন্নয়ন, সুশাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন রাষ্ট্রপ্রধান।

মহান স্বাধীনতা দিবসে দেশবাসীর প্রতি জেপির শুভেচ্ছা

 

তিনি বলেন, “গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পরমতসহিষ্ণুতা, মানবাধিকার ও আইনের শাসন সুসংহত করতে হবে। নতুন প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সুখী, সুন্দর ও উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা আমাদের পবিত্র কর্তব্য।”

এ মাহেন্দ্রক্ষণে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের স্বপ্নের উন্নত-সমৃদ্ধ অসাম্প্রদায়িক স্মার্ট ‘সোনার বাংলা’ বিনির্মাণের শপথ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগ সরকারের গণমুখী দর্শনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের ভাগ্য উন্নয়নের দর্শনে বিশ্বাসী। সাধারণ মানুষের জীবনমান এবং দেশের উন্নয়নে আমরা আশু, স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা করছি।

“এছাড়া নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন অগ্রগতি আমরা নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করে যাচ্ছি। এ সকল কারণে আওয়ামী লীগের প্রতি জনগণের আস্থা এবং জোরালো সমর্থন অব্যাহত রয়েছে।”

মুক্তির সংগ্রাম

বাঙালির মুক্তির আন্দোলনের শ্বাসরোধ করতে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে এ দেশের নিরস্ত্র মানুষের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনী, চলেছিল গণহত্যা।

ওই আক্রমণ বাংলাদেশের প্রতিরোধ যুদ্ধের পথ তৈরি করে দেয়; ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করে দেন, বাংলাদেশ এখন স্বাধীন।

পাকিস্তানিরা বন্দি করলেও বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বেই শুরু হয় মুক্তির সংগ্রাম, মুজিবনগর সরকারের পরিচালনায় নয় মাসের সেই সশস্ত্র সংগ্রামের পথ ধরে বাঙালি জাতি পৌঁছায় মুক্তির বন্দরে, বিশ্ব মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে বাংলাদেশের।

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশরা ভারত ছাড়লেও মুক্তি মেলেনি বাংলার মানুষের। জীবন ছিল পাকিস্তানি শেকলে বাঁধা। সেই শেকল ভাঙার মন্ত্র দিয়ে বাঙালিকে জাগিয়ে তোলেন শেখ মুজিব। বাংলার মানুষ যাকে ভালোবেসে নাম দেয় বঙ্গবন্ধু।

পূর্বের খবরবাংলাদেশের স্বাধীনতার অভ্যুদয়
পরবর্তি খবরস্বাধীনতা দিবসে বাংলাদেশের জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী