ঢাকাঃ বিগত ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারে সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি তাদের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন। পরদিন ভোরে তাদের ক্ষত-বিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এরপর ১৬ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্তভার পড়ে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. রবিউল আলমের ওপর। এর দুই মাস পর হাইকোর্টের আদেশে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র্যাব)।
পরে বাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তদন্তের জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠনের আদেশ দেন হাইকোর্ট। বর্তমানে পিবিআই মামলাটির তদন্ত করছে।
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের সম্পৃক্ততার ক্লু
চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সাগর-রুনির তদন্তটা আমাদের তদন্ত সংস্থা করছে না। এটা অন্য সংস্থা পিবিআই করে। তবে আমরা একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে হয়তো ক্লু পেয়ে যাই। যেমন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যা নিয়ে মেজর মোজাফফরের বিষয়ে কিছুটা ক্লু পেয়েছিলাম। সাগর-রুনির ব্যাপারেও ক্লু পেয়েছি। সেটার নাম-পরিচয় প্রকাশ করতে পারছি না। তবে এটুকু বলতে পারি, একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সাগর-রুনির এই ঘটনার কানেকশন পাওয়া যায়।’
তিনি বলেন, ‘আমরা সেগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখছি। তার ওপর আমাদের নজরদারি আছে। আরও তদন্তের পর কোনো অথেনটিক তথ্য পাওয়া গেলে পিবিআইয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করব।’
‘এটা একটা ইনডিভিজ্যুয়াল মার্ডার কেস। এটা সংশ্লিষ্ট দায়রা আদালতে বিচার হবে.’ বলেন চিফ প্রসিকিউটর।
সাবেক র্যাব কর্মকর্তার বক্তব্যেও তথ্য
প্রসিকিউটর তানভীর জোহা বলেন, ‘একজন সাবেক মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে দুদকে একটি মামলা আছে। সে মামলায় তার বরিশালের বাসা থেকে বেশ কিছু জিনিস জব্দ করা হয়। সেখানকার ইলেকট্রনিক পার্টটাও ট্রাইব্যুনাল পুনরায় জব্দ করে। সেই ইলেকট্রনিক পার্টের মধ্যে আমরা ২০০৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত অনেক ধরনের ডকুমেন্টেশন পেয়েছি। সার্ভার পেয়েছি, কিছু ফাইল ডিলিট করা ছিল, সেগুলো আমরা রিকভার করেছি। আর কিছু ফাইল প্রিন্ট করা ছিল, সেখানে ডিলিট করার কিছু নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে তিন-চারজন সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হয়। তদন্ত চলাকালে বিষয়টি চিফ প্রসিকিউটর স্যারের নলেজে দিয়ে আমি একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করি। প্রথম জিজ্ঞাসাবাদেই প্রাথমিকভাবে তিনি কিছু স্টেটমেন্ট দিয়েছেন।’
জোহা বলেন, ‘তার স্টেটমেন্টের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, সেই সাবেক মহাপরিচালক, যিনি তখন র্যাবের দায়িত্ব পালন করছিলেন, তাকে বলেছিলেন—আগামীকাল কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। ঘটবে, আমি বললে সেখানে উপস্থিত থাকতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘এটা ঘটনা ঘটার দিন রাতে ১০টা বা ১১টার দিকে। পরের দিন দেখা যায়, এটা সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়। যদিও সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে আগে তিনি কোনো আভাস দেননি। তিনি শুধু বলেছিলেন, আগামীকাল একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটছে, সেখানে ভোরবেলায় এসে রিপোর্ট করতে হবে।’
‘আমাদের চিফ প্রসিকিউটর মহোদয়ের সিদ্ধান্তক্রমে এই এভিডেন্সগুলো কোলাবোরেট করে আমরা পরবর্তীতে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে দিতে পারি,’ বলেন প্রসিকিউটর তানভীর জোহা।
স্পর্শকাতর তথ্যের সন্ধান?
জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তি আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন উল্লেখ করে প্রসিকিউটর জোহা বলেন, ‘বিডিআর অথবা ওই সময়কার সরকারের কোনো স্পর্শকাতর ডকুমেন্টেশন ছিল। যেটা অবশ্যই একটা ডিস্ক-রিলেটেড, টেপ-রিলেটেড বা কোনো মেমোরি-রিলেটেড একটা ব্যাপার, যেটা এসেছিল। সেই কারণেই ব্যাপারটা রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি তার কাছ থেকে আরও জানতে পেরেছি, বেশ কিছু ইলেকট্রনিক ডিভাইস মিসিং আছে।’






