দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে একটি ‘বিতর্কিত ও সাজানো মামলায়’ কারাবন্দী বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম সরকার

95

ঢাকাঃ দুই দশকেরও অধিক সময় ধরে বিএনপি নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম সরকার বর্তমানে গাজীপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী রয়েছেন বলে জানা গেছে। পরিবারের ভাষ্য, নূরুল ইসলাম সরকার দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে একটি ‘বিতর্কিত ও সাজানো মামলায়’ কারাবন্দী আছেন, যা নেতাকর্মীদের এবং গাজীপুরবাসীর মধ্যে গভীর ক্ষোভ ও বেদনার জন্ম দিয়েছে।

তাদের দাবি, রাজনৈতিক কারণে তাকে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে এবং তার মুক্তির মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

টঙ্গীতে মহাসড়ক দখল করে বিএনপির সমাবেশ, যাত্রীদের ভোগান্তি | প্রথম আলো

প্রয়াত এমপি আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ও বিএনপি নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম সরকারের মুক্তির দাবিতে টঙ্গীতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে যাচ্ছেন তার সমর্থক ও পরিবারের সদস্যরা।
গাজীপুরের বহুল আলোচিত সাবেক সংসদ সদস্য শহিদ আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলার শুনানি জন্য আগামী মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছেন আদালত। দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এই মামলাকে ঘিরে গাজীপুরজুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে নতুন করে আলোচনা ও প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়েছে।
গাজীপুরবাসীর দাবি, বহু বছর ধরে চলমান এই মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিতের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন হোক। একই সঙ্গে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক উদ্দেশ্যে যাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে, তাদের বেকসুর খালাস দেওয়া হবে— এমন আশায় আদালতের দিকে তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্ট পরিবার ও সর্বস্তরের মানুষ।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এই মামলার রায় শুধু একটি হত্যাকাণ্ডের বিচারই নয়, বরং ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের প্রতিফলন হিসেবেও বিবেচিত হবে। তাই আগামী মঙ্গলবারের রায়কে ঘিরে গাজীপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মাঝে বিরাজ করছে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎকণ্ঠা।
গাজীপুরবাসীর প্রত্যাশা, আদালত সকল তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষ্য পর্যালোচনা করে ন্যায়ভিত্তিক রায় প্রদান করবেন এবং দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটবে।
উল্লেখ্য,গত (১৪ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখের দিন গাজীপুরের টঙ্গীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিএনপি নেতা নূরুল ইসলাম সরকারের মুক্তির দাবিকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরের সামনে নেতাকর্মীদের ঢল নামে।  টাঙ্গাইলগামী পথে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর ঘিরে ধরে দলীয় নেতাকর্মীরা তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।

সকাল থেকেই টঙ্গীর বিআরটি প্রকল্পের উড়াল সড়কের স্টেশন রোড এলাকাসহ মহাসড়কের দুই পাশে ব্যানার-ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে অবস্থান নেন বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী। সকাল পৌনে ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর সেখানে পৌঁছালে নেতাকর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে এলাকা মুখরিত করে তোলেন।

একপর্যায়ে তারা গাড়িবহরের গতি কমিয়ে সামনে মানবপ্রাচীর তৈরি করে নূরুল ইসলাম সরকারের মুক্তির দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরেন।

টঙ্গীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল ইসলাম সরকারের মুক্তির দাবি

এ সময় উপস্থিত জনতার ঢল ও স্লোগানে পুরো এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নেতাকর্মীরা দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে থাকা এই প্রবীণ রাজনীতিকের প্রতি ‘ন্যায়বিচার’ নিশ্চিত করতে হবে এবং অবিলম্বে তাকে মুক্তি দিতে হবে।

এ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক এমপি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার।

তিনি বলেন, ‘আমার ভাই নূরুল ইসলাম সরকার দীর্ঘদিন ধরে বিনা অপরাধে কারাবন্দী। আমরা তার নিঃশর্ত মুক্তি চাই।’

ঘটনাস্থলে বিএনপি নেতা ও নূরুল ইসলাম সরকারের একমাত্র ছেলে সরকার শাহনূর ইসলাম রনিসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, টাঙ্গাইল সফরকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই গাজীপুরজুড়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। মহাসড়কের টাঙ্গাইলমুখী পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তারা প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি দলীয় বিভিন্ন দাবিও তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বাসের সামনের আসনে বসে হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ৭ মে টঙ্গী নোয়াগাঁও স্কুল মাঠে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনে দলীয় সন্ত্রাসীদের গুলিতে খুন হন আহসান উল্লাহ মাস্টার। এ ঘটনায় আহসান উল্লাহ মাস্টারের ছোট ভাই মতিউর রহমান মতি বাদী হয়ে ১৭ জনের নামে টঙ্গী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় নূরুল ইসলাম সরকারকে সরাসরি আসামি করা না হলেও এজাহারের শেষাংশে উল্লেখ করা হয়, ‘বর্ণিত আসামিরা বিএনপি নেতা নূরুল ইসলাম সরকারের লালিত পালিত’।

এদিকে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল বিচারিক আদালত এই মামলায় বিএনপি নেতা নূরুল ইসলাম সরকারসহ ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন। পরে হাইকোর্ট ডেথ রেফারেন্স শেষে ২০১৬ সালের ১৫ জুন ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল এবং সাতজনের মৃত্যুদণ্ড বদলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এ ছাড়া দুজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখেন। রায়ে ১১ জনকে মামলা থেকে খালাস দেন উচ্চ আদালত।

এরপর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন আসামিরা। যা বর্তমানে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগে।

পূর্বের খবরশহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী মিডিয়া সেল ও মিডিয়া সেল ১৭-এর প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত