নিউজ ২১ ডেস্কঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রাতিষ্ঠানিক বা সাংগঠনিকভাবে ঢাকার অটোরিকশা খাতের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এমন কোনো নির্ভরযোগ্য বা প্রশাসনিক প্রমাণ যদিও নেই। গণমাধ্যম বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো তদন্তে দলটির নিয়ন্ত্রণে থাকার সত্যতাও পাওয়া যায়নি। এটি মূলত সাম্প্রতিক অটোরিকশা আন্দোলন এবং ঢাকার পরিবহন খাতের রাজনৈতিক ক্ষমতার পটপরিবর্তনকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া একটি স্বচ্ছ রাজনৈতিক গুঞ্জন, যা অটোরিকশা খাতকে টিকিয়ে রাখতে দলটির জোরালো ভূমিকা সন্দেহের সৃষ্টি করে।
আন্দোলনে জামায়াত নেতাদের রাজনৈতিক বক্তব্য: অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঢাকার প্রধান সড়কগুলোতে বিশৃঙ্খলা ও যানজট কমাতে অটোরিকশা চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিলে চালক ও মালিকরা তীব্র আন্দোলন শুরু করেন । এই সময়ে জামায়াতের শীর্ষ নেতারা প্রকাশ্যে রিকশাচালকদের পক্ষে অবস্থান নেন এবং “উপযুক্ত নীতিমালা ও পুনর্বাসন ছাড়া রিকশা বন্ধ না করার” দাবি জানান। এই রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রতিপক্ষ দলগুলো “উসকানি” এবং “খাতটি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা” হিসেবে প্রচার করছে।
-
- সাবেক ক্ষমতাসীনদের নিয়ন্ত্রণ বদল: ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে ঢাকার অটোরিকশা ও গ্যারেজগুলোর নিয়ন্ত্রণ, লাইন বা টোকেন বাণিজ্য মূলত আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীদের হাতে ছিল। সরকার পতনের পর সেই পুরোনো নিয়ন্ত্রণ ভেঙে যাওয়ায় ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে, যার দায় রাজনৈতিকভাবে প্রতিপক্ষরা জামায়াতের ওপর চাপাচ্ছে।
- রাজনৈতিক দলগুলোর কাদা ছোড়াছুড়ি: ঢাকার অটোরিকশা খাতে লক্ষাধিক চালক ও বিশাল অঙ্কের দৈনিক লেনদেন জড়িত। এই বিশাল “ভোটব্যাংক” ও অর্থনৈতিক খাতের ওপর কোনো দলের পরোক্ষ প্রভাব তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর সন্দেহ ও কাদা ছোড়াছুড়ি চলছে । যেমন—সম্প্রতি গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান অভিযোগ করেছেন যে জামায়াত অটোরিকশা চালকদের উসকানি দিচ্ছে । অপরদিকে সরকারের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে যে চালকদের আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা কোনো কোয়ার্টারের চাপ থাকতে পারে ।
- গ্রিডের ওপর অতিরিক্ত চাপ: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে বর্তমানে আনুমানিক ৪৫ থেকে ৫০ লাখেরও বেশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ই-বাইক রয়েছে। এই বাহনগুলো প্রতিদিন চার্জ করার জন্য প্রায় ৩,৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়, যা দেশের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের একটি বড় অংশ। মধ্যরাতের পর একসাথে লাখ লাখ অটোরিকশা চার্জে দেওয়ায় জাতীয় গ্রিডের ওপর অস্বাভাবিক চাপ তৈরি হয় এবং লোডশেডিং বা বিদ্যুৎ সংকট দেখা দেয়।
- অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের সমস্যা: অটোরিকশা খাতের বড় সমস্যা হলো চার্জিং গ্যারেজগুলোর অবৈধ সংযোগ। অধিকাংশ গ্যারেজ মালিক আবাসিক লাইন থেকে বা সরাসরি মেইন লাইন থেকে অবৈধ ‘হুকিং’-এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ চুরি করে অটোরিকশা চার্জ দেয়। এর ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে এবং বিদ্যুৎ বিতরণ লাইনে বিপর্যয় ঘটছে।
- জামায়াতকে জড়িয়ে গুজবের কারণ: সম্প্রতি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অবৈধ চার্জিং বন্ধে অটোরিকশা গ্যারেজগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযান শুরু করে। এর প্রতিবাদে চালক ও মালিকরা আন্দোলনে নামলে জামায়াতের শীর্ষ নেতারা “বিকল্প কর্মসংস্থান বা সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ছাড়া অটোরিকশা বন্ধ না করার” রাজনৈতিক বক্তব্য দেন। এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলো দাবি করতে শুরু করে যে—”জামায়াত নেতাদের হাজার হাজার রিকশা আছে বলেই তারা অটোরিকশা সচল রাখতে চায় এবং এই কারণেই বিদ্যুৎ সংকট হচ্ছে”। কিন্তু গণমাধ্যম বা প্রশাসনের তদন্তে জামায়াত নেতাদের মালিকানায় বিদ্যুৎ সংকটের সম্পর্ক থাকার কোনো প্রমাণ খোজা হচ্ছে।






