গলিতে গলিতে বাহারি ইফতারির পসরা

176

অনলাইন ডেস্ক:

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার অলিতে গলিতে বাহারি ইফতারির পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। স্থায়ী ও অস্থায়ী এসব দোকান থেকে পছন্দের ইফতারি সামগ্রী কিনে নিয়ে যাচ্ছেন রাজধানীর বাসিন্দারা। গলির অস্থায়ী দোকানগুলো থেকে ইফতারি সামগ্রী কেনাদের বেশিরভাগই কর্মব্যবস্থা নিম্ন আয়ের মানুষ।

এসব মানুষের পছন্দ ও সামর্থ্যের বিষয়টি মাথায় রেখেই দোকানিরা ইফতারির পসরা সাজিয়েছেন। যেখানে রয়েছে- বেগুনি, পেঁয়াজু, ছোলার ঘুগনি, মুড়ি, জিলাপি, জালি কাবাব, হালিম, আলু সমুচা, আলুর চপ, শাকের চপ, ভেজিটেবল রোলসহ বাহারি ইফতারি আইটেম। অল্পদামেই এসব ইফতারি সামগ্রী সংগ্রহ করতে পারছেন কর্মব্যস্থ ও নিম্ন আয়ের মানুষ।

মহল্লার গলির পাশাপাশি বাণিজ্যিক এলাকার ফুটপাতেও রয়েছে মৌসুমি ইফতার সামগ্রী বিক্রেতা। কোথাও কোথাও সারিবদ্ধভাবে রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে বসানো হয়েছে ইফতারির দোকান। কোথাও কোথাও ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে দোকানিরা রাস্তার ওপর সামিয়ানা ঝুলিয়ে টেবিল পেতে বসে পড়েছেন।

রাজধানীজুড়ে গড়ে ওঠা এসব ইফতারির দোকানগুলোতে জোহরের নামাজের পর থেকেই শুরু হয়ে যায় কর্মব্যস্ততা। দোকানিরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন জিলাপি, ছোলার ঘুগনি, বেগুনি, পেঁয়াজু, আলুর চপ, ডিমের চপ, জালি কাবাব, হালিম, সমুচা, ভেজিটেবল রোল, ভেজিটেবল চপসহ নানা রকমের ইফতারি আইটেম বিক্রি করতে। বিকেল ৩টার পর থেকে শুরু হয় বেচাকেনা। চলে ইফতারের আগ পর্যন্ত।

এসব ইফতারির দোকানগুলোতে বেগুনি, পেঁয়াজু, সমচা, আলুর চপ বিক্রি হচ্ছে ৫ টাকা পিস হিসেবে। ডিমের আলুর চপ ১০ থেকে ১৫ টাকা, জালি কাবাব ১০ থেকে ২০ টাকা, ভেজিটেবল রোল ২০ টাকা, জিলাপি প্রতিকেজি ২০০ টাকা থেকে ২২০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। ছোলার ঘুগনি বিক্রি হচ্ছে ১০-২০ টাকা প্যাকেট। কেউ কেউ এক’শ গ্রাম ঘুগনি ২০ টাকা বিক্রি করছেন।

মতিঝিলে ইফতারির সামগ্রী নিয়ে বসা মো. সবুজ বলেন, কয়েক বছর ধরেই আমি মতিঝিলে ইফতারি সামগ্রী বিক্রি করি। প্রতিদিনই ভালোই বিক্রি হয়। আমরা পেঁয়াজু, আলুর চপ, বেগুনি ৫ টাকা পিস বিক্রি করছি। ১০-২০ টাকা দিয়ে ছোলা কেনার সুযোগ আছে। ১০ টাকা দিয়ে মুড়িও কেনা যাবে। কেউ চাইলে ৩০ টাকা দিয়ে মুড়ি, ছোলা, চপ, পেঁয়াজু এক সঙ্গে প্যাকেজ কিনতে পারেন।

মালিবাগ হাজিপাড়ায় ইফতারি সামগ্রী বিক্রি করা মো. মিলন বলেন, আমাদের কাছে জিলাপি, পেঁয়াজু, ছোলা, মুড়ি, আলুর চপ, জালি কাবাব, বেগুনে, বুন্দিয়া আছে। পেঁয়াজু, আলুর চপ, বেগুনি ৫ টাকা পিচ বিক্রি করছি। জালি কাবাব ১০ টাকা পিস।

তিনি বলেন, ইফতারির প্রায় সবরকম আইটেম আমরা বিক্রি করছি। তবে আমাদের বেশিরভাগ ক্রেতা কর্মব্যবস্ত নিম্ন আয়ের মানুষ। যারা কাজের চাপে বাসায় ইফতারি বানাতে পারেন না, তারা আমাদের কাছে থেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছে।

রামপুরার ব্যবসায়ী জুয়েল বলেন, ঢাকায় বসবাসকারীরা খুব ব্যস্ত। অনেকে কাজের চাপে বাসায় ইফতারি বানাতে পারেন না। আবার যারা গার্মেন্টসে কাজ করেন তাদের অনেকে ইফতারির আগে আগে ছুটি পান। তাদের পক্ষে বাসায় গিয়ে ইফতারি বানানো সম্ভব হয় না। এ ধরনের মানুষগুলেই মূলত আমাদের কাছে থেকে ইফতারি কেনেন।

রামপুরার একটি অস্থায়ী দোকান থেকে ইফতারি সমগ্রী কেনা আলেয়া বেগম বলেন, গার্মেন্টসে কাজ করি। কিছুক্ষণ আগে অফিস ছুটি হয়েছে। এখন বাসায় গিয়ে ইফতারি বানানো সম্ভব না। তাই এখন থেকে ইফতারি কিনি নিয়ে যাচ্ছি।

মালিবাগ থেকে ইফতারি কেনা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, প্রথম রোজা তাই ইফতারির আইটেম একটু বেশি রাখার ইচ্ছ। বাসায় কিছু কিছু ইফতারি বানিয়েছে। জিলাপি আর হালিম এখন থেকে কিনছি।

তিনি বলেন, রাস্তার এসব দোকানে ইফতারির সব ধরনের সামগ্রী পাওয়া যায়। বড় দোকানগুলোর তুলনায় দামও কম। বেগুনি, চপ, পেঁয়াজু ৫ টাকা পিস পাওয়া যাচ্ছে। ৪০ টাকা দিয়ে হালিম কেনা যাচ্ছে। ২০ টাকা দিয়ে জিলাপিও পাওয়া যাচ্ছে।

পূর্বের খবরবাংলাদেশ নাকি মায়ানমার, সামরিক শক্তিতে এগিয়ে কে?
পরবর্তি খবরস্ত্রীসহ সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের সাবেক সহকারীর বিরুদ্ধে মামলা