রাষ্ট্রপতির পদ থেকে যেসব কারণে সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ

39
ঢাকাঃ বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের ২৪ জুলাই—এই তিন বছর তিন মাস অধ্যায় দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম চমকপ্রদ ও বিতর্কিত। আওয়ামী লীগের একচ্ছত্র রাজনৈতিক প্রাধান্যের সময়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতার পালাবদলের সাক্ষী হয়েছেন।

তার হাতেই প্রথমে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার, পরে নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার শপথ নিয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন ভিন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতায় দায়িত্ব পালন করা রাষ্ট্রপতির নজির বিরল।
 

গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার মধ্য দিয়ে বঙ্গভবনে সাহাবুদ্দিন অধ্যায়ের অবসান ঘটে। পদত্যাগপত্রে গুরুতর শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করা হলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে এ সিদ্ধান্তের পেছনে আরও কিছু কারণ নিয়ে আলোচনা চলছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক চাপ, গ্রহণযোগ্যতার সংকট এবং একটি ‘নিরাপদ প্রস্থান’ (সেফ এক্সিট) নিশ্চিত করার সমঝোতাই শেষ পর্যন্ত তার পদত্যাগের পথ তৈরি করে।

 

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্রে শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতাকে আনুষ্ঠানিক কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদও সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, শারীরিক অক্ষমতার কারণেই তিনি পদত্যাগ করেছেন। 

যেসব কারণে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ
পদত্যাগের দুদিন পর রোববার দুপুরে রাষ্ট্রপতির বাসভবন বঙ্গভবন ছাড়েন মো. সাহাবুদ্দিন
 

বঙ্গভবন ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ৭৪ বছর বয়সী মো. সাহাবুদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। এর আগে তার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারিও হয়েছিল। সম্প্রতি তার শরীরে ‘অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি’ নামে একটি বিরল স্নায়বিক রোগ শনাক্ত হয়। এ রোগের কারণে তিনি মাঝেমধ্যে সাময়িকভাবে চেতনা হারাতেন। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নথিতে স্বাক্ষর ও সাংবিধানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্বে থাকা একজন রাষ্ট্রপতির জন্য এমন শারীরিক অবস্থা দায়িত্ব পালনে বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়ায়। চিকিৎসকদের পরামর্শ ও নিজের শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন, শারীরিক অসুস্থতা বাস্তব হলেও সেটিই একমাত্র কারণ ছিল না; বরং এটি সম্মানজনকভাবে দায়িত্ব ছাড়ার একটি গ্রহণযোগ্য ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।

মো. সাহাবুদ্দিনের বিদায়ের মোড় ঘুরে যায় গত মে মাসে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার একটি ফোনালাপের খবর প্রকাশ্যে আসে।

জানা যায়, চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থানকালে তিনি শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় একজন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর এমন যোগাযোগ সরকার ও রাষ্ট্রপতির সম্পর্কের ক্ষেত্রে আস্থার সংকট তৈরি করে।

ফোনালাপের খবর প্রকাশের পর রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবি নতুন করে জোরালো হয়। এর একদিন আগে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ শুধু বলেছিলেন, ‘শুক্রবার পর্যন্ত অপেক্ষা করেন’। পরে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে সেই বক্তব্যের তাৎপর্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলের আগেই ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই মো. সাহাবুদ্দিনকে ঘিরে রাজনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল। ৫ আগস্টের পর গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতারা তার পদত্যাগ দাবি করেন এবং বঙ্গভবন ঘেরাও কর্মসূচিও পালন করেন। তবে সাংবিধানিক শূন্যতা এড়াতে বিএনপি তখন তার দায়িত্বে বহাল থাকার পক্ষে অবস্থান নেয়।

তবুও অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে তার সম্পর্ক কখনোই স্বাভাবিক হয়নি। ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের আচরণে তিনি নিজেকে ‘অপমানিত’ মনে করেছেন। তার অভিযোগ ছিল, প্রধান উপদেষ্টা দীর্ঘসময় তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি, তার প্রেস বিভাগ সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল এবং বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশন থেকেও তার ছবি নামিয়ে ফেলা হয়েছিল।

একই সাক্ষাৎকারে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, সংসদ নির্বাচনের পর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দায়িত্ব ছাড়তে পারেন। তখনই রাজনৈতিক মহলে ধারণা তৈরি হয় যে, তার পদত্যাগ সময়ের ব্যাপার মাত্র।

মো. সাহাবুদ্দিনের গ্রহণযোগ্যতায় সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র নিয়ে তার পরস্পরবিরোধী বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশত্যাগের দিন জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেছিলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং আমি তা গ্রহণ করেছি।’

কিন্তু কয়েক মাস পর একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তার কাছে শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্রের কোনো দালিলিক প্রমাণ বা আনুষ্ঠানিক কপি নেই।

দুই বক্তব্যের এই অসামঞ্জস্য ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দেয়। তৎকালীন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা তার বক্তব্যকে ‘মিথ্যাচার’ ও ‘শপথ ভঙ্গ’-এর অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত করে পদত্যাগের দাবি জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে ঘিরে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। পরে বঙ্গভবন থেকে ‘মীমাংসিত বিষয় নিয়ে বিতর্ক না করার’ আহ্বান জানানো হলেও এ ঘটনার পর রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার নৈতিক গ্রহণযোগ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগেও মো. সাহাবুদ্দিনকে ঘিরে বিভিন্ন বিতর্ক ছিল। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার হিসেবে তার দায়িত্ব পালন (২০১১-২০১৬) এবং পরে ২০১৭ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে।

দুদক আইনে অবসরের পর কমিশনারদের প্রজাতন্ত্রের লাভজনক পদে নিয়োগের বিষয়ে বিধিনিষেধ থাকায় তাকে রাষ্ট্রপতি করার পর ‘রাষ্ট্রপতির পদ লাভজনক কি না’, এ নিয়ে আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। যদিও ২০২৩ সালের মার্চে হাইকোর্ট এ-সংক্রান্ত রিট খারিজ করে দেন।

তবে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ ওঠে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) তদন্ত প্রতিবেদনে। সেখানে বলা হয়, ২০১৭ সালে সাহাবুদ্দিন জেএমসি বিল্ডার্সের প্রতিনিধি হিসেবে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক হন, যা বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। এ-সংক্রান্ত মামলাটি এখনো হাইকোর্টে বিচারাধীন। পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই অভিযোগগুলোও তার ওপর চাপ বাড়িয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি সরকারের সঙ্গে তার সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘সপ্তাহখানেক ধরে ভালো আছি বেশ’। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্পর্কে তিনি ইতিবাচক মন্তব্যও করেছিলেন।

তবে শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপের খবর প্রকাশের পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এরপর রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে নেপথ্যে আলোচনা শুরু হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, মো. সাহাবুদ্দিন একটি ‘বিঘ্নহীন প্রস্থান’ বা সেফ এক্সিট নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন।

আলোচনার অংশ হিসেবে দেশে অবস্থানকালে তার অবাধ চলাচল এবং চিকিৎসার প্রয়োজনে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়েও সমঝোতা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। পদত্যাগের পর তিনি নিজেও জানিয়েছেন, আগামী ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাবেন। ইতোমধ্যে গুলশান-১-এর গ্রিন ভিলায় তার জন্য একটি ফ্ল্যাটও প্রস্তুত করা হয়েছে।

তবে একটি বিষয়ে বিএনপি কঠোর অবস্থান নেয়। সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি থাকাকালে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে যে আইনি সুরক্ষা রয়েছে, তা বহাল থাকলেও রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ, বিশেষ করে এস আলম গ্রুপ ও ইসলামী ব্যাংক-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সরকার বা বিএনপি কোনো দায় নেবে না। আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানও জানিয়েছেন, অতীতের কোনো অভিযোগ বা মামলা থাকলে তা আইন অনুযায়ী তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হবে।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পরপরই জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-সহ কয়েকটি রাজনৈতিক সংগঠন তাকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি তোলে। তাদের অভিযোগ, তিনি পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের একজন সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এ পর্যায়ে নতুন করে আলোচনায় আসে সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ। সংবিধানের ৫১(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনকালে গৃহীত কর্মকাণ্ডের জন্য আদালতের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য নন। ৫১(২) অনুচ্ছেদে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির সুযোগ নেই। আর ৫১(৩) অনুচ্ছেদে দেওয়ানি মামলার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে।

তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব সাংবিধানিক সুরক্ষা রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকাল পর্যন্তই কার্যকর। পদত্যাগের পর তিনি একজন সাধারণ নাগরিক। ফলে রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে সংঘটিত কোনো কর্মকাণ্ডে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ বা মামলা থাকলে, সেগুলো প্রচলিত আইন অনুযায়ী তদন্ত ও বিচারাধীন হতে পারে। বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংক ও এস আলম গ্রুপ-সংক্রান্ত অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ তাকে সুরক্ষা দেবে না বলেই আইনজ্ঞদের অভিমত।

সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। জাতীয় সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি থেকে দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার, এরপর ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান এবং সবশেষে দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের রাজনৈতিক ও পেশাগত পথচলা ছিল ঘটনাবহুল। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তার নাম রাষ্ট্রপতি পদে ঘোষণা করলে দলটির অনেক নেতাও বিস্মিত হয়েছিলেন।

আওয়ামী লীগের সমর্থনে রাষ্ট্রপতি হলেও দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতায়। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতার পরিবর্তন, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ, পরে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান সবমিলিয়ে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অস্থির সময়ের রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত শারীরিক অসুস্থতার পাশাপাশি রাজনৈতিক চাপ, বিতর্ক, আস্থার সংকট এবং গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্ন তার মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই বঙ্গভবন ছাড়ার পথ তৈরি করেছে, এমন মূল্যায়নই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি আলোচিত।

পূর্বের খবররাজপথে আমরা একসাথে ছিলাম, আছি এবং একসাথেই থাকবো: প্রধানমন্ত্রী