উত্তরায় ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে ‘এক বেলার হাসি’ ফোটাচ্ছেন নারী উদ্যোক্তা আনুষা

69

মানবিকতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নারী উদ্যোক্তা আনুষা বেলায়েত। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী রাজধানীর উত্তরায় ক্ষুধার্ত ও অসহায় মানুষের জন্য প্রতি সোমবার আয়োজন করছেন একবেলার খাবারের। তাঁর এই উদ্যোগের নাম ‘এক বেলার হাসি’।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাজধানীর উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর রোডের ৩১ নম্বর বাসার সামনে ক্ষুধার্ত মানুষের মাঝে খাবার বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয় ‘এক বেলার হাসি’ কর্মসূচি। উদ্যোগটির মূল লক্ষ্য—ক্ষুধার্ত মানুষের একবেলার খাবারের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি তাঁদের মুখে একটু হাসি ফোটানো।

নিজের উদ্যোগ সম্পর্কে দৈনিক ঢাকা কণ্ঠ-কে আনুষা বেলায়েত বলেন, “আমার সাধ্য অনুযায়ী ভবিষ্যতেও

এ কার্যক্রম চালিয়ে যেতে চাই। সামর্থ্য বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্যোগটিও আরও বড় পরিসরে করার ইচ্ছা রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “সমাজের কোনো মহৎ ও সামর্থ্যবান ব্যক্তি যদি এই মানবিক উদ্যোগের পাশে দাঁড়াতে চান, তাহলে তাঁরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে পারেন। সম্মিলিতভাবে কাজ করতে পারলে আরও বেশি ক্ষুধার্ত মানুষের একবেলার খাবারের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে।”

আনুষা বেলায়েতের ভাষায়, “শুধু একজনের পক্ষে সব মানুষের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব নয়। তবে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ যদি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী আশপাশের একজন ক্ষুধার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ান, তাহলে অনেক মানুষের মুখে একবেলার হাসি ফোটানো সম্ভব। মানুষের জন্য কিছু করার ক্ষেত্রে টাকার চেয়ে ইচ্ছাটাই বড়।”

তাঁর এই উদ্যোগকে মানবিক ও প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করে উপস্থিত ব্যক্তিরা বলেন, সমাজে অসহায় মানুষের সংখ্যা কমাতে শুধু রাষ্ট্রীয় উদ্যোগই নয়, ব্যক্তিগত ও সামাজিক উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ। সামর্থ্য অনুযায়ী প্রত্যেকে যদি মানুষের পাশে দাঁড়ান, তাহলে একটি আরও সহানুভূতিশীল ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

উপস্থিত ছিলেন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব 

এক বেলার হাসি’ কর্মসূচির আজকের আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন উত্তরা মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি শরিফুল ইসলাম খান ডলারবং দৈনিক ঢাকার কণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক জাহাঙ্গীর শিকদার।

“এক বেলা হাসি” কার্যক্রম পরিচালনা সহযোগিতায়

নিলামা ইসলাম,নুসরাত ফয়সাল,ইফাত নাজমা, তুহিনা আলোর ভুবনের কর্ণধার, আরো ছিল শাহাদাত হোসেন, আজহার অনু,সিরাজ ও সবুজ ভাই।

আয়োজকরা জানান, ‘এক বেলার হাসি’ কোনো ব্যক্তিগত প্রচারণার উদ্যোগ নয়; বরং ক্ষুধার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি ছোট্ট মানবিক প্রয়াস। সমাজের সামর্থ্যবান ও মানবিক মানুষগুলো এগিয়ে এলে এ কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করা সম্ভব হবে।

একবেলার খাবার হয়তো একটি বড় সমস্যার সমাধান নয়, কিন্তু একজন ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য সেটিই হতে পারে দিনের সবচেয়ে বড় স্বস্তি। আর সেই স্বস্তির সঙ্গে জড়িয়ে থাকে—একটি হাসি।

পূর্বের খবরবিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী