রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের যেকোনো সময় পদত্যাগ

184

নিউজ ২১ ডেস্ক: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর যেকোনো সময় পদত্যাগ করতে পারেন। । ঘনিষ্ঠজনদের তিনি বলেছেন, ‘আমি ভালো অবস্থায় নেই, যেকোনো সময় চলে যেতে পারি।’ ইতোমধ্যে পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর জন্য সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে রাষ্ট্রপতির পরামর্শেই গত সোমবার পদত্যাগ করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। এরপর বৃহস্পতিবার পদত্যাগ করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালসহ চার কমিশনার। কাজী হাবিবুল আউয়াল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলাপের বিষয়টি চার নির্বাচন কমিশনারকে অবহিত করেন। তিনি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, পদত্যাগের বিষয়ে পরামর্শ চাইলে রাষ্ট্রপতি তাকে বলেছেন ‘আপনারা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে ‘মানসম্মান নিয়ে চলে যান। আমারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাই আমিও পদত্যাগ করে চলে যেতে পারি।’

রাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদ ও পদত্যাগ সম্পর্কে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫০-এর দফা (১)-এ বলা হয়েছে, ‘এই সংবিধানের বিধানাবলী সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি কার্যভার গ্রহণের তারিখ হইতে পাঁচ বৎসরের মেয়াদে তাঁহার পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন।’ একই (৫০) অনুচ্ছেদের দফা (৩)-এ বলা হয়েছে, ‘স্পিকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে রাষ্ট্রপতি স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।’ যদিও পদত্যাগের কারণে স্পিকারের পদটি এখন শূন্য রয়েছে। স্পিকার পদত্যাগ করেছেন, তা গৃহীত হয়েছে: ডেপুটি স্পিকার জেলে। এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন কার কাছে পদত্যাগ করবেন? এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দিন খান গণমাধ্যমকে বলেন, স্পিকার পদত্যাগ করলেও ডেপুটি স্পিকার রয়েছেন। তিনি ‘জেলে আছেন ঠিক, কিন্তু এখনো তার অপরাধ প্রমাণ হয়নি। তাই তার (ডেপুটি স্পিকার) পদ রয়েছে।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর সাংবিধানিক সংকট হতে পারে কি? এমন প্রশ্নের উত্তরে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক গতকাল বলেন, সার্বিকভাবে সংবিধান এখন বন্ধ রয়েছে। অতএব সংবিধানে কী সংকট হচ্ছে না হচ্ছে- এটা এখন গুরুত্বপূর্ণ নয়। মূল কথা হলো গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র মেরামত ও সংস্কারের যে কাজগুলো হচ্ছে বা শুরু করা হয়েছে, সেখানে সংবিধানের বাইরের অনেক কাজ হচ্ছে। সুতরাং এই পরিস্থিতিতে কোন কাজটা সংবিধানের ভেতরে কিংবা বাইরে হচ্ছে, সেই প্রশ্নের গুরুত্ব খুবই কম।

বিসিএস (বিচার) ক্যাডারের সাবেক কর্মকর্তা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ছাত্রজীবনে আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। জেলা ও দায়রা জজ পদে দায়িত্ব পালন করে ২০০৬ সালে অবসর গ্রহণ করেন তিনি। এরপর পাঁচ বছর দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনারের দায়িত্বও পালন করেন। গত বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি মো. সাহাবুদ্দিন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

পূর্বের খবররাজধানীতে আজ পবিত্র ঈদ-এ মিলাদুন্নবী উপলক্ষে গাউসিয়া কমিটির জশনে জুলুস
পরবর্তি খবরঢাকার মূল সড়কে রিকশা চলতে দেওয়া হবে না, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ‘উচ্ছেদ’ শুরুঃ ডিএমপি কমিশনার