বিএনপির জন্য কি আওয়ামী লীগও দুর্বল হচ্ছে?

224

 

Thumbnail

এরকম একটি দুর্বল প্রতিপক্ষের কারণে আওয়ামী লীগের মধ্যে এক ধরনের উদাসীন, আত্মম্ভরিতা এবং অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস পেয়ে গেছে। যেহেতু রাজনীতির মাঠে শক্তিশালী কোনো বিরোধী দল নাই, সে কারণে আওয়ামী লীগও লাগামহীন। আওয়ামী লীগের নেতারা এখন একে অন্যের বিরুদ্ধে কোন্দল করছেন, দলের ভেতর বিভক্তি করছেন, চাওয়া পাওয়ার হিসাব নিকাশ মেলাচ্ছেন। আর এর ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী সংগঠন আওয়ামী লীগ।

বিরোধী দল শক্তিশালী না থাকলে বা দুর্বল বিরোধী দল থাকলে ক্ষমতাসীন দলও যে দুর্বল হয়ে যায় তার একটি বড় প্রমাণ বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা। দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর আওয়ামী লীগ এবার চতুর্থ বারের মতো টানা ক্ষমতায় এসেছে এবং আগামী পাঁচ বছর দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। কিন্তু এই সময়ে আওয়ামী লীগের সংগঠনের কি অবস্থা?

এ কথা অস্বীকার করার কোনো কারণ নেই যে, আওয়ামী লীগ এখন তার জন্মের পর থেকে সবচেয়ে সুসময় পার করছে। একদিকে কোনো বিরোধী দলের চাপ নেই, অন্যদিকে টানা ক্ষমতায়। এরকম একটি সুসময়ে যে কোন রাজনৈতিক দলের জন্য আরাধ্য। কিন্তু বাস্তবতা হল, এই সুসময় দলের সংগঠনকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। রাজনৈতিক আন্দোলন, বিরোধী দলের সমালোচনা এবং বিরোধী দলের চাপ না থাকার কারণে ক্ষমতাসীন দল এখন জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে উঠে গেছে।

আওয়ামী লীগের অনেক নেতা মনে করছেন যে, ক্ষমতা চিরস্থায়ী, তারা যা খুশি তা করতে পারেন। এটির লাইসেন্স তারা পেয়ে গেছেন। জনগণকে তারা খুব একটা পাত্তা দিচ্ছেন না বা জনগণের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করার আগ্রহ অনেকের কম। অনেক আওয়ামী লীগ নেতাই জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। বরং এক ক্ষমতার কেন্দ্রে থেকে কি কি পাওয়া যায়, কত ধরনের সুবিধা আদায় করা যায়, কত ধনী হওয়া যায় তার প্রতিযোগিতাও দেখা যাচ্ছে কারও কারও মধ্যে।

এর ফলে আওয়ামী লীগের মধ্যে এখন ক্ষমতার লড়াই তীব্র হয়ে গেছে। আর এই ক্ষমতার লড়াই দলকে বিভক্ত করে ফেলেছে। কিছুতেই দলের বিভক্তি দূর করা যাচ্ছে না। অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠনগুলো দিবস ভিত্তিক কর্মসূচির মধ্যে নিজেদেরকে ব্যতিব্যস্ত রেখেছে। আর বাকি সময় তারা তাদের নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য নানা মিশনে নেমেছে। আওয়ামী লীগের যারা ত্যাগী রাজনীতিবিদ ছিলেন তাদের কেউ কেউ হতাশ হয়ে নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ গড্ডালিকা প্রবাহে নিজেদের গা ভাসিয়েছেন। সারাজীবন ত্যাগ তিতিক্ষার পর এখন কিছু পাওয়ার আশায় তারাও কেউ টেন্ডারের ব্যবসা, কেউ নিয়োগ বাণিজ্য, কেউ কমিটি বাণিজ্যতে গা ভাসাচ্ছেন।

এমন একটি বাস্তবতায় সংগঠনের ভিতর আদর্শের চর্চা ক্রমশ হ্রাস পেয়ে যাচ্ছে। সঙ্কটের সময় দলের জন্য রুখে দাঁড়ানো নেতাকর্মীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে। দলের স্বার্থ চিন্তা করা এবং সংগঠনকে এগিয়ে নেওয়ার ভাবনা গুলো আস্তে আস্তে লোপ পাচ্ছে আওয়ামী লীগের। ফলে সার্বিক ভাবে ক্ষমতায় থাকলেও সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগ ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। সংগঠন গোছানোর ব্যাপারে আওয়ামী লীগের যে আগ্রহ থাকার কথা ছিল সেই আগ্রহ কমে যাচ্ছে। কারণ মাঠে তাদের কোনো প্রতিপক্ষ নেই। প্রতিপক্ষহীন আওয়ামী লীগ এখন নিজেরাও দুর্বল হয়ে যাচ্ছে কি না সেটাই বড় প্রশ্ন।

পূর্বের খবরবাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে চূড়ান্ত রিপোর্ট,গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড পূরণ করেনি: ইউরোপীয় ইউনিয়ন
পরবর্তি খবরগবেষণাপ্রতিষ্ঠান ভ্যারাইটিজ অব ডেমোক্রেসির ‘গণতন্ত্র প্রতিবেদন’: ৪ সূচকে বাংলাদেশের অবনতি