বিএনপি সরকারের ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনায় কী থাকছে?

35

 

ঢাকাঃ দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর নেতৃত্বে বিএনপি সরকার শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বাড়াতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এছাড়া চলতি গ্যাস সংকট নিরসনে সরকার কাজ করছে।
আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় গ্যাসের অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানো, বাপেক্সের সক্ষমতা বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালনব্যবস্থা আধুনিকায়নে নানামুখী পদক্ষেপ হাতে নেওয়া হয়েছে। এজন্য আগামী ১০ বছরের একটি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিকল্পনা নিতে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার।

 

                                     মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানে

‘আমদানির ফাঁদ’ থেকে দেশকে বের করে টেকসই, নিরবচ্ছিন্ন ও সাশ্রয়ী জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এ পরিকল্পনার লক্ষ্য।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ৯ আগস্ট চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এক সমাবেশে আগামী ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা জাতীয় সংসদের অধিবেশনে উপস্থাপনের কথা জানান।

বিগত দেড় দশকের অপরিকল্পিত নীতি, আমদানিনির্ভর জ্বালানি এবং কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে জ্বালানি খাতে তৈরি হওয়া চাপ কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো ছাড়া এলএনজি, কয়লা ও তেলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করবে।

ডলার সংকটের সময় আমদানিনির্ভর জ্বালানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতও চাপে পড়েছে।

গ্যাস সংকট নিরসনে সরকার কাজ করছে

এ অবস্থায় নতুন পরিকল্পনায় দেশীয় গ্যাসের অনুসন্ধান বাড়ানো, এলএনজি আমদানি কমানো, ক্যাপাসিটি চার্জের ব্যয় কমানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো, স্মার্ট গ্রিড তৈরি, প্রতিবেশী দেশ থেকে বিদ্যুৎ আমদানি এবং কৃষি ও শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আমদানিনির্ভরতা কতটা
দেশে বর্তমানে ব্যবহৃত গ্যাসের প্রায় ৭৩ শতাংশ আসে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে। বাকি ২৭ থেকে ২৯ শতাংশ ঘাটতি মেটানো হয় বিদেশ থেকে আমদানি করা ব্যয়বহুল এলএনজি দিয়ে।

সামগ্রিক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতেও আমদানিনির্ভরতা বেড়েছে। ২০১০ সালের দিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমদানিকৃত জ্বালানি—বিদেশি কয়লা ও তেলের ওপর নির্ভরতা ছিল ১০ শতাংশের কম। বর্তমানে রামপাল, মাতারবাড়ী ও পায়রার মতো বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং আমদানিকৃত এলএনজি ও তেলের ব্যবহার বেড়েছে।

সরকারি প্রক্ষেপণ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ থেকে ২০৪১ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতা প্রায় ৭০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

এই নির্ভরতা কমাতে বিএনপি সরকারের পরিকল্পনার প্রথম সারিতে রাখা হচ্ছে দেশীয় গ্যাস ও জ্বালানি অনুসন্ধান।

মহাপরিকল্পনায় বেসরকারি খাতের জন্য যা থাকছে
পরিকল্পনা অনুসারে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে রাষ্ট্রীয় একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ ও বিনিয়োগ ব্যাপকভাবে বাড়াতে যাচ্ছে সরকার। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব এবং বেসরকারি খাতের মাধ্যমে তেল, গ্যাস ও এলএনজি আমদানির পথ উন্মুক্ত করা হবে।

এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ

 

বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে সরাসরি পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন ও দেশীয় বাজারে বিপণনের সুযোগ দিতে একটি অভিন্ন নীতিমালা বা ‘কমন পলিসি ২০২৬’ চূড়ান্ত করা হচ্ছে। এলপিজির দাম স্থিতিশীল রাখতে বেসরকারি খাতের অবকাঠামো ব্যবহার করে সরকারের বাল্ক আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি মাতারবাড়ীতে স্থলভিত্তিক বড় এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা হবে। সৌরবিদ্যুৎ ও গ্রিন এনার্জি খাতে বেসরকারি খাতের টেকসই বড় বিনিয়োগ আকর্ষণে নীতিমালায় বড় ধরনের সংস্কার আনা হচ্ছে।

১০ বছরে গ্যাস উৎপাদনের লক্ষ্য
পেট্রোবাংলার প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০২৯-৩০ সাল নাগাদ দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা বেড়ে ৬ হাজার ৬৫৫ মিলিয়ন ঘনফুটে (এমএমসিএফডি) দাঁড়াতে পারে। এর বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন বাড়িয়ে দৈনিক ৪ হাজার ৩৫২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

শুধু নতুন ১০০টি কূপ খনন ও সংস্কারের মাধ্যমে ২০২৭-২৮ সালের মধ্যে দৈনিক অন্তত ১ হাজার ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট বা ১৫০ কোটি ঘনফুট নতুন গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।

১০০ কূপ খননের পরিকল্পনা
গ্যাস সংকট নিরসনে পেট্রোবাংলা ২০২৮ সালের মধ্যে স্থলভাগে নতুন ও পুরোনো মিলিয়ে মোট ১০০টি গ্যাসকূপ খনন ও সংস্কারের (ওয়ার্কওভার) পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মধ্যে বাপেক্স একাই ৫২ থেকে ৬৮টি কূপ খননের দায়িত্ব নিতে চায়।

এর আগে ২০২২ সালে নেওয়া একটি প্রকল্পের আওতায় ২০২৫ সালের মধ্যে ৫০টি কূপ খননের কাজ শুরু হয়েছিল। বর্তমান সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ২০৩১ সালের মধ্যে মোট ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার সম্পন্ন করার উদ্যোগ রয়েছে।

বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়ানো
দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে আরও শক্তিশালী করার ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, গভীর কূপ খনন এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

স্থলভাগের পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরেও গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানোর উদ্যোগ রয়েছে। অফশোর ব্লকে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলোর জন্য বিডিং রাউন্ড আয়োজন করা হয়েছে।

কত টাকা বিনিয়োগ প্রয়োজন
গ্যাস অনুসন্ধান ও গভীর কূপ খনন ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া। সম্প্রতি বাপেক্সের নেওয়া তিনটি গভীর কূপ: শ্রীকাইল ডিপ, মোবারকপুর ডিপ ও ফেঞ্চুগঞ্জ সাউথ খননের একটি প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা। কূপের ধরন ও গভীরতা অনুযায়ী প্রতিটি কূপ খননে গড়ে ২৫০ থেকে ৩৮০ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে।

সে হিসাবে ১০০টি কূপ খনন ও সংস্কারে আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা বা তারও বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন হতে পারে।

এর আগে গ্যাস উন্নয়ন তহবিল (জিডিএফ) থেকে প্রায় ৭ হাজার ৪০০ কোটি টাকা অনুসন্ধান ও খননে ব্যয় করা হয়েছে। তহবিলটি বর্তমানে প্রায় নিঃশেষের পথে। ফলে নতুন কূপ খননে সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগের দিকেও নজর দিচ্ছে সরকার।

সংসদে হবে ১০ বছরের রূপরেখা
সরকার আগামী ১০ বছরের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার পুরো রূপরেখা জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে জনপ্রতিনিধিদের আলোচনা ও বিতর্কের সুযোগ থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এরই মধ্যে বলেছেন, আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশের জ্বালানি পরিকল্পনা কী হবে এবং দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কী হবে, সেই প্রস্তাবনা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। সংসদে পরিকল্পনা উপস্থাপনের মাধ্যমেই কাজ শুরু করা হবে।

সরকারের লক্ষ্য, দীর্ঘমেয়াদি একটি নীতিকাঠামোর মাধ্যমে জ্বালানি খাতের অনিশ্চয়তা কমানো এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা।

সাধারণ মানুষের জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি
পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য সাধারণ মানুষ ও জরুরি সেবা খাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা। স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, শিল্পকারখানা ও বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহের পাশাপাশি পরিবহন খাতেও পর্যাপ্ত জ্বালানি নিশ্চিত করার কথা রয়েছে।

শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বাড়াতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও মাতারবাড়ীকে ঘিরে যে শিল্প ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গড়ে উঠছে, সেখানেও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জোর
আমদানিনির্ভরতা কমানোর আরেকটি বড় উপায় হিসেবে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

দেশের বিদ্যুৎ গ্রিড আধুনিকায়নের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির অবকাঠামো তৈরিতেও উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা নেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে।

ক্যাপাসিটি চার্জের ব্যয় কমানোর উদ্যোগ
জ্বালানি খাত পুনর্গঠনে পুরোনো চুক্তিগুলোও পর্যালোচনা করা হবে। বিশেষ করে রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ শেষ হলে নতুন করে চুক্তি না করার নীতিতে এগোনোর কথা বলা হয়েছে।

‘নো ইলেকট্রিসিটি, নো পে’ বা বিদ্যুৎ না দিলে বিল নয়—এ ধরনের শর্তে যেসব কেন্দ্র পরিচালনা করা সম্ভব, সেগুলো রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়ার চাপ কমানোর লক্ষ্য রয়েছে।

 

স্মার্ট গ্রিড ও আন্তঃদেশীয় বিদ্যুৎ সংযোগ
বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি সঞ্চালন ও বিতরণব্যবস্থার আধুনিকায়নেও জোর দেওয়া হচ্ছে। নতুন পরিকল্পনায় ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন লাইন শক্তিশালী করার পাশাপাশি ‘স্মার্ট গ্রিড’ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর কথা রয়েছে।

এ ছাড়া নেপাল ও ভুটান থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানির জন্য আন্তঃদেশীয় গ্রিড সংযোগ সম্প্রসারণের বিষয়টিও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে। এতে তুলনামূলক কম খরচে ও পরিবেশবান্ধব উপায়ে বিদ্যুৎ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

কৃষি ও শিল্পে জ্বালানি সরবরাহ
জ্বালানি পরিকল্পনায় কৃষি খাতকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেচের মৌসুমে কৃষকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা রয়েছে।

গ্রামীণ এলাকায় সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প স্থাপনে উৎসাহ ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। এতে সেচে ডিজেলের ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি আমদানির ওপর চাপও কমতে পারে।

শিল্প খাতের জন্যও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য, জ্বালানি সংকটের কারণে যেন শিল্প উৎপাদন ব্যাহত না হয় এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের জন্য একটি স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হয়।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সম্প্রতি এক সেমিনারে বলেন, ‘সরকার বেসরকারি বিনিয়োগের প্রতি অত্যন্ত বান্ধব, বিশেষ করে জ্বালানি খাতে। এই খাতের সংকট দূর করতে বেসরকারি বিনিয়োগ অপরিহার্য। সে কারণেই প্রধানমন্ত্রী নিজে এবং আমরা বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত বসছি এবং তাদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছি।’

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বাংলানিউজকে জানান, বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে গ্যাস, কয়লা ও পেট্রোলিয়াম অবকাঠামো শক্তিশালী করা হবে। তবে বেসরকারি আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও বাজার ও দামের ওপর সরকারের শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে। যেন ভোক্তারা কোনোভাবেই প্রতারিত না হন।

সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম তামিম। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ‘অর্থনীতি বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রীয় একচেটিয়াত্ব ধরে রাখা সম্ভব নয়’। তবে বেসরকারি খাতকে আমদানির সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত ও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) মতো একটি শক্তিশালী ‘রেগুলেটর’ থাকা বাধ্যতামূলক বলে মনে করেন তিনি।

জ্বালানি বিশ্লেষক ইব্রাহীম কবির বাংলানিউজকে বলেন, এতদিন জ্বালানি খাতে কোনো মাস্টারপ্ল্যান ঠিকভাবে মানা হয়নি। এখন সরকার যদি সংসদে আলোচনার মাধ্যমে ১০ বছরের একটি রূপরেখা চূড়ান্ত করে এবং দেশীয় গ্যাস উত্তোলনে মনোযোগ দেয়, তাহলে আগামী ৫ থেকে ৭ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ জ্বালানি খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দিকে অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারে।

পূর্বের খবরসরকারের ঘুরে দাঁড়ানোর ৬ মাস: স্বৈরাচারের রেখে যাওয়া ধ্বংসস্তূপ থেকে পুনরুদ্ধারের চেষ্টাঃ সামনে কী পরিকল্পনা
পরবর্তি খবরআজ ঢাকা আসছেন পীরে বাঙ্গাল আওলাদে রাসুল আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ (মা.জি.আ.)