আজ ঢাকা আসছেন পীরে বাঙ্গাল আওলাদে রাসুল আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ (মা.জি.আ.)

41

 

নিউজ 21 ডেস্কঃ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অন্যতম শীর্ষ আলেম, আওলাদে রাসুল আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ (মা.জি.আ.) আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বাংলাদেশে আসছেন।তিনি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বংশধর এবং প্রখ্যাত আধ্যাত্মিক সাধক আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (র.)-এর কনিষ্ঠ পুত্র।

এই সফরটি মূলত ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক কর্মসূচিকেন্দ্রিক। আল্লামা সাবির শাহ পাকিস্তানের সিরিকোট দরবার শরিফের সাজ্জাদানশীন এবং আনজুমান ট্রাস্টের এক্সিকিউটিভ প্রেসিডেন্ট।

দেশের বিভিন্নস্থানে আনজুমান ট্রাস্ট দুই শতাধিক আলিয়া মাদ্রাসা পরিচালনা করে। তার পিতা হজরত আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়ব শাহ (রা) ১৯৭৪ সালে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স) উপলক্ষে এ জশনে জুলুসের প্রবর্তন করেন। তাঁর ভক্ত ও অনুসারীদের কাছে তিনি “পীরে বাঙাল” ও “আওলাদে রাসুল” হিসেবে পরিচিত। তাঁর মূল বংশ ও নিবাস পাকিস্তানের সিরিকোট শরিফে।

 

No photo description available.

 

 

উল্লেখ্য, গাউসে জামান আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (রা.) এর জ্যেষ্ঠ পুত্র  রেহনুমায়ে শরীয়ত ও তরিকত আওলাদে রাসূল আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহ (মা:জি:আ) অসুস্থতার কারণে না আসায় বিগত কয়েক বছর তাঁর স্থলে সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ বাংলাদেশে পবিত্র জশনে জুলুস ও বিভিন্ন মিলাদ মাহফিলে তিনি প্রধান অতিথি ও রাহবার হিসেবে অংশগ্রহণ করে আসছেন। 

আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহ ১৯৪১ সালে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার সিরিকোটের শেতালু শরিফে এক ঐতিহ্যবাহী সুফি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

আওলাদে রাসূল: বংশপরম্পরায় তিনি ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সরাসরি ৩৯তম এবং ইমাম হুসাইন (রা.)-এর ৩৮তম পবিত্র বংশধর বা আওলাদে রাসূল।

পিতা ও পিতামহ: তাঁর পিতা গাউসে জামান আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (রা.) এবং তাঁর পিতামহ হলেন চট্টগ্রামের জামেয়া আহমাদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া কামিল মাদ্রাসা-এর প্রতিষ্ঠাতা কুতুবুল আউলিয়া হযরত আল্লামা সৈয়দ আহমদ শাহ সিরিকোটি (রা.)।

 

AI-জেনারেটেড ছবি
আওলাদে রাসূল হুজুর কেবলা সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহ (মা:জি:আ)

আধ্যাত্মিক জীবন ও বায়আত

বায়আত গ্রহণ: ১৯৫৮ সালে পবিত্র হজ পালনকালে ইসলামের অন্যতম পবিত্র স্থান আরাফাতের ময়দানে তিনি তাঁর পিতামহ আল্লামা সৈয়দ আহমদ শাহ সিরিকোটি (রা.)-এর হাত মোবারকে বায়আত (দীক্ষা) গ্রহণ করেন।

 খেলাফত লাভ: ১৯৮৭ সাল থেকে পিতার নির্দেশে তিনি এই সিলসিলার প্রচার-প্রসারে সরাসরি হাল ধরেন এবং কাদেরিয়া তরিকার খেলাফত লাভ করেন।

বিশ্ববিখ্যাত সুফি সাধক হজরত আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (রা.)-এর জ্যেষ্ঠ সাহেবজাদা এবং কাদিরিয়া তরিকার বর্তমান প্রধান ধর্মীয় পীর ও পথপ্রদর্শক। আধ্যাত্মিক জগতের এই মহান সংস্কারক পাকিস্তানের হ্যারিপুরের ঐতিহ্যবাহী সিরিকোট দরবার শরিফের প্রধান সাজ্জাদানশীন। একই সাথে তিনি বাংলাদেশে সুন্নি মুসলমানদের সর্ববৃহৎ দ্বীনি ও অরাজনৈতিক সংগঠন আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট-এর শীর্ষ অভিভাবক ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বাংলাদেশ সংযোগ ও কার্যক্রম
  • জশনে জুলুস: বাংলাদেশে পবিত্র জশনে জুলুস ও বিভিন্ন মিলাদ মাহফিলে তিনি প্রধান অতিথি ও রাহবার হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।
  • আধ্যাত্মিক খেদমত: দেশের সুন্নি মতাদর্শের অনুসারী ও আধ্যাত্মিক অঙ্গনে তাঁর অগাধ প্রভাব ও অনুসারী রয়েছে।

দেশের বৃহত্তম দ্বীনি ও অরাজনৈতিক সংগঠন আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত জশনে জুলুসে নেতৃত্ব দিতে তার এ সফর।

সফরকালে আগামী রোববার (২৩ আগস্ট) ঢাকায় এবং বুধবার (২৬ আগস্ট) চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক জশনে জুলুসে নেতৃত্ব দেবেন পীর আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ। তার সফরসঙ্গী হিসেবে থাকছেন সাহেবজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ ও সাহেবজাদা সৈয়্যদ আকিব আহমদ শাহ।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, আজ আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে তারা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন। তাদের অভ্যর্থনা জানাতে ঢাকার মোহাম্মদপুর কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া কামিল মাদ্রাসা ও সংশ্লিষ্ট খানকাহ শরিফে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ (মা.জি.আ.) একাধারে একজন প্রখ্যাত আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব, সুফি সাধক এবং পীর সাবির শাহ পাকিস্তানের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও রাজনীতিবিদ পীর সাবির শাহ। তিনি বিশ্বখ্যাত সুফি সাধক হযরত সৈয়্যদ আহমদ শাহ সিরিকোটি (রহ.)-এর পৌত্র এবং আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (রহ.)-এর সুযোগ্য পুত্র পীর সাবির শাহ – উইকিপিডিয়া। তিনি গাউছিয়া তরিকা ও কাদেরিয়া সিলসিলার অন্যতম শীর্ষ মুরুব্বি এবং বাংলাদেশের বৃহত্তম দ্বীনি সংগঠন আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট-এর নির্বাহী প্রেসিডেন্ট আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট

 

May be an image of text

ঢাকার জশনে জুলুছে পীর সাবির শাহ

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ১৫০০তম শুভাগমনে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট ও গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ ঢাকা শাখার উদ্যোগে প্রতি বছরের মতো  আগামী রবিবার (২৩ আগস্ট) এক বর্ণাঢ্য র‌্যালির (জুলুছ) আয়োজন করেছে।

আওলাদে রাসুল, রাহনুমায়ে শরিয়ত ও ত্বরিকত, পীরে বাঙ্গাল, হজরতুল আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ্ (মাদ্দাজিল্লুহুল আলী)’র নেতৃত্বে এ জুলুছে লক্ষ লক্ষ আশেকে-রাসুলগণের অংশগ্রহণে হাতে কলেমা খচিত বিভিন্ন রং-বেরংয়ের পতাকা নিয়ে ইয়া নবী সালাম আলাইকা, মুস্তফা জানে রহমত ও ইসলামিক সঙ্গীত নতুন আবহ তৈরি হবে।

আগামী রবিবার (২৩ আগস্ট) ঢাকা মহানগরীর মোহাম্মদপুরস্থ কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া আলিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ হতে বর্ণাঢ্য র‌্যালি শুরু হয়ে শাহজাহান রোড, ইকবাল রোড, মোহাম্মদপুর পোস্ট অফিস মোড় হয়ে মোহাম্মদপুর টাউন হল, বাস স্টান্ড, নুরহাজান রোড, কেন্দ্রীয় কলেজ মোড় ঘুরে শিয়া মসজিদ, রিং রোড, আদাবর সম্পা মার্কেট থেকে ইউটার্ন নিয়ে সাফরা মসজিদ টিক্কাপাড়া হয়ে শ্যামলী মাঠে গিয়ে মাহফিলে পরিণত হবে।

এতে বিশেষ মেহমান হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সাহেবজাদা হুজুর কেবলা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ্ (মাদ্দাজিল্লুহুল আলী) এবং সাহেবজাদা হুজুর কেবলা সৈয়্যদ মেহমুদ আহমদ শাহ্ (মাদ্দাজিল্লুহুল আলী)।

 

 

কাদেরিয়া মাদ্রাসা ময়দানে জুলুছোত্তর নুরানী মাহফিলে আল্লামা পীর সৈয়দ সাবির শাহ (মাদ্দাজিল্লুহুল আলী) নেতৃত্ব দিবেন, আল্লাহ পাকের নিয়ামতসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ নিয়ামত হাবিবের সৃজন। তার সৃজনে ধন্য করেছেন সমগ্র সৃষ্টি জগৎকে। যার সম্পর্কে স্বয়ং আল্লাহ বলেন, আপনাকে সৃষ্টি না করলে কিছুই সৃষ্টি করতাম না (আল হাদিস)। আমি আপনাকে সমগ্র সৃষ্টির জন্য রহমত স্বরূপ পাঠিয়েছি। আল্লাহর রহমত ও করুনা প্রাপ্তির কারণে খুশি উদ্‌যাপন করা সব সঞ্চিত এবাদত হতেও উত্তম এবং নবিজির শুভ জন্ম সংবাদে দাসীকে মুক্ত করে আনন্দ বহিঃপ্রকাশ করায় আবু লাহাবের মত অভিশপ্ত কাফেরও প্রতি সোমবার ভয়াবহ শাস্তি হতে কিছুটা পরিত্রাণ পায়। একজন কাফের হয়েও মিলাদুন্নবী অর্থাৎ নবীর (সা.) জন্ম উপলক্ষে খুশী প্রকাশের কারণে আবু লাহাব যদি আল্লাহর এমন করুণা লাভ করে, তবে আমরা কেন এ মহান নেয়ামত থেকে বঞ্চিত হব?

মাহফিলে স্বাগত বক্তব্য রাখ্বেন ঢাকা আনজুমানের চেয়ারম্যান হাজি মোহাম্মদ শহীদ উল্লাহ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় আনজুমানের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মনজুর আলম (মনজু), সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, ঢাকা আনজুমানের সেক্রেটারি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনে প্রিয় নবীর (সা.) আদর্শিক চেতনার বিকল্প নেই। যেখানে অশান্তি, জঙ্গিবাদ উপস্থিত তার বিপরীতে প্রিয় হাবিবের দর্শনই যথেষ্ট। সর্বত্র রাসুলের (সা.) দর্শন থেকে যোজন দূরে থাকার কারণে মানুষ পথভ্রষ্ট হচ্ছে। অশান্তি, অন্যায়ে ভরপুর আরব জাহানকে শান্তির নীড় তৈরিতে হাবিবের প্রচেষ্টা কখনো ব্যর্থ হয়নি। সর্বত্র যিনি সফল তিনি হলেন আমাদের নবী (সা.)। সুতরাং যিনি সফলতার চাবিকাঠি, তাঁর অনুস্মরণই সকল সমস্যার সমাধান নিহিত।

জুলুছের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বক্তারা আরও বলেন, নবী করিম (সা.) এ ধরায় আবির্ভাব মুহূর্তে জিব্রাইলের (আ.) নেতৃত্বে অসংখ্য ফেরেশতা জুলুসসহ মারহাবা ধ্বনিতে ধরায় অবতরণ এবং নবীকরিম (সা.) হিজরত করে মদীনা উপকণ্ঠে পৌঁছালে সানিয়াতিলবেদা নামক স্থানে মদীনাবাসীগণ জুলুছ সহকারে সালাত সালাম ও সংবর্ধনা জ্ঞাপনের অনুকরণে আমরা যদি রবিউল আউয়াল মাসে নবীজির সম্মানে জশনে জুলুছে ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (সা.) পালন করি তাহলে অবশ্যই আমরা আল্লাহর অনুগ্রহ ও নেয়ামত প্রাপ্ত হব।

রাসুলে করিম (সা.) -এর ৩৯তম বংশধর কাদেরিয়া ত্বরিকতের উজ্জল নক্ষত্র যুগ শ্রেষ্ঠ আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব পাকিস্তান ছিরিকোট দরবার শরীফ এর আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ (রাহ.)- এর নির্দেশে আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের উদ্যোগে ১৯৭৪ সালে এদেশে সর্ব প্রথম জশনে জুলুছের প্রবর্তনের পরে তারই ধারাবাহিকতায় পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসে হুজুরে করিম (সা.) এর এ ধরায় শুভাগমনকে স্মরণ করে আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের উদ্যোগে প্রতি বছর ৯ রবিউল আউয়াল ঢাকা মহানগরীতে এবং ১২ রবিউল আউয়াল চট্টগ্রাম বন্দর নগরীতে জাক-জমক ও যথাযোগ্য মর্যাদার এর সহিত জশনে জুলুছে ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন করা হয়। পরবর্তীতে অনুপ্রাণিত হয়ে বিভিন্ন ধর্মীয় সংস্থা ও সিলসিলার পীর মাশায়েখদের উদ্যোগে সমগ্র বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জশনে জুলুছ ঈদ-এ মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন শুরু হয়।

পরিশেষে খতমে গাউসিয়া ও মিলাদ শরীফ সমাপনান্তে বাংলাদেশসহ সমস্ত মুসলিম উম্মার শান্তি কামনায় দোয়া করেন হযরতুল আল্লামা পীর সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ্ (মাদ্দাজিল্লুহুল আলী)।

পূর্বের খবরবিএনপি সরকারের ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনায় কী থাকছে?