যে সকল শর্তে মক্কা জোটে নতুন দেশ যোগ দিতে পারবে বাংলাদেশ

29

নিউজ ২১ ডেস্কঃ সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সমন্বয়ে গঠিত ‘মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ বা মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে ভবিষ্যতে বাংলাদেশকেও যুক্ত করার সুযোগ থাকবে। তবে নতুন কোনো দেশকে সরাসরি সদস্য করা হবে না। এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত, নিয়ম ও মানদণ্ড পূরণ করতে হবে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) ইস্তাম্বুলে মক্কা চুক্তির আওতায় গঠিত স্ট্র্যাটেজিক পলিটিক্যাল অ্যান্ড ডিফেন্স কমিটির প্রথম বৈঠকের পর এ কথা জানিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। বরং ফিদানের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, আগে তিন দেশের জোটকে কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, জোট অন্য যে কোনো দেশের অংশীদারত্ব ও অংশগ্রহণের জন্য উন্মুক্ত। তবে সম্ভাব্য সদস্যদের জন্য কিছু শর্ত, নিয়ম ও মানদণ্ড থাকবে। নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো দেশের নাম ঘোষণা না করা হলেও সেই আলোচনায় বেশ জোরেশোরেই বাংলাদেশের নাম এসেছে বলে  বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।

 

মক্কা জোটে নতুন দেশ যোগ দিতে পারবে, তবে থাকছে শর্ত

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি (Makkah Joint Defence Agreement – MJDA) বা মক্কা জোটে নতুন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের যোগদানের ক্ষেত্রে কিছু প্রাতিষ্ঠানিক ও কৌশলগত শর্ত এবং মানদণ্ড নির্ধারণ করা হচ্ছে। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সমন্বয়ে গঠিত এই জোটে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া নিয়ে ৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে প্রথম একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সেখানকার আলোচনা এবং কূটনৈতিক সূত্র অনুযায়ী, বাংলাদেশ বা অন্য যেকোনো নতুন দেশ এই জোটে যোগ দিতে চাইলে প্রধানত নিম্নোক্ত শর্ত ও নিয়মের মুখোমুখি হবে:
মক্কা জোটের মূল শর্ত ও প্রাতিষ্ঠানিক মানদণ্ড:
  • যৌথ রোডম্যাপ ও গাইডলাইন মেনে চলা: তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, নতুন সদস্য যুক্ত করার জন্য একটি নির্দিষ্ট গাইডলাইন বা রোডম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে। যেকোনো দেশকে জোটে আসতে হলে প্রথমত জোটের এই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও নীতিমালা মেনে নেওয়ার অঙ্গীকার করতে হবে।
  • যৌথ প্রতিরক্ষা অঙ্গীকার (Collective Defence Clause): এই জোটের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো ন্যাটোর (NATO) অনুচ্ছেদ ৫-এর মতো যৌথ নিরাপত্তা নীতি। অর্থাৎ, জোটের কোনো একটি সদস্য দেশের ওপর সশস্ত্র আক্রমণ হলে তা সবার ওপর আক্রমণ বলে গণ্য হবে। নতুন সদস্য হিসেবে যোগ দিলে বাংলাদেশকে এই পারস্পরিক প্রতিরক্ষা বাধ্যবাধকতা মেনে নিতে হবে।
  • প্রতিষ্ঠাতা তিন দেশের ঐকমত্য: মক্কা জোটের প্রতিষ্ঠাতা তিন দেশ—সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক। নতুন কোনো দেশ অন্তর্ভুক্ত হতে চাইলে এই তিনটি দেশেরই পূর্ণ সম্মতি ও যৌথ সিদ্ধান্ত প্রয়োজন হবে।                                                                                                               
    বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ও কৌশলগত শর্তসমূহ (বিশ্লেষকদের মতে):
    বাংলাদেশ সরকার মক্কা জোটে যোগদানের বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে এবং জানিয়েছে এতে দেশের দ্বিপাক্ষিক অংশীদারত্বে কোনো ঝুঁকি নেই। তবে দেশের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাংলাদেশ যদি চূড়ান্তভাবে এই জোটে যোগ দেয়, তবে অভ্যন্তরীণভাবে কিছু শর্ত বা নীতি বজায় রাখা জরুরি:
    • ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্র নীতি: বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ উল্লেখ করেছেন, যেকোনো জোটে যাওয়ার আগে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
        • আন্তর্জাতিক আইনের সাথে সামঞ্জস্য: জোটের যেকোনো কার্যক্রম জাতিসংঘ সনদ এবং আন্তর্জাতিক আইনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্র বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যাবে না।
        • সংসদের অনুমোদন ও সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া: দেশের বাইরে কোনো সামরিক অভিযানে বা যুদ্ধে বাংলাদেশের সেনা মোতায়েন করার প্রয়োজন হলে, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে হবে না। এর জন্য জাতীয় সংসদের অনুমোদন ও একটি সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।   বর্তমানে জোটের প্রতিষ্ঠাতা দেশগুলো এই জোটকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছে, যার পরই নতুন দেশগুলোর আনুষ্ঠানিক যোগদানের প্রক্রিয়া শুরু হবে

পূর্বের খবরশহীদ জিয়ার ১৯ দফাই বিএনপি’র পথনির্দেশক, দলটি পা রাখছে ৪৯ বছরে
পরবর্তি খবরবিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বাবা-মায়ের কবরে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা