যুক্তরাষ্ট্র ‘যুদ্ধাপরাধের ধারাবাহিক প্যাটার্ন’-এর অভিযোগ ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে পেয়েছে

171
বিশ্ব ডেস্কঃ সাম্প্রতি ‘যুদ্ধাপরাধের ধারাবাহিক প্যাটার্ন’ -এর অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্যানেল। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যেদিন ইসরায়েলকে ২৬শ কোটি ডলারের যুদ্ধকালীন সহায়তা প্রদানের প্যাকেজে স্বাক্ষর করেছেন, সেদিন যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাবিদ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তাদের একটি অনানুষ্ঠানিক প্যানেল ইসরায়েলের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র স্থানান্তর স্থগিত করার আহ্বান জানান। তারা ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিরুদ্ধে “যুদ্ধাপরাধের ধারাবাহিক প্যাটার্ন”এর অভিযোগ করেছে।
২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রকাশিত এই হ্যান্ডআউট ছবিতে গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালে সামরিক অভিযানের সময় সেনাদের দেখা যাচ্ছে। ফাইল ছবি।
২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রকাশিত এই হ্যান্ডআউট ছবিতে গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালে সামরিক অভিযানের সময় সেনাদের দেখা যাচ্ছে।

 

গত বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টাস্কফোর্স অন দ্য অ্যাপ্লিকেশন অব ন্যাশনাল সিকিউরিটি মেমোরেন্ডাম-২০ (এনএসএম-২০) প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের এই আশ্বাস নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে যেখানে তারা বলেছে, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ব্যবহার করছে। ফেব্রুয়ারিতে বাইডেনের জারি করা এনএসএম-২০ মেমোতে এই আশ্বাস দেয়া হয়েছিল।

ইসরায়েলের যুদ্ধ পরিচালনার সোচ্চার সমালোচক আছে, এমন এই ভলান্টিয়ার গোষ্ঠী বলেছে, তারা আল মাঘাজি শরণার্থী শিবির এবং জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে আইডিএফের বিমান হামলাসহ হাজার হাজার ঘটনার প্রতিবেদন পর্যালোচনা করেছে। এই দুই হামলায় যথাক্রমে ৬৮ এবং ৩৯ জন নিহত হয়েছিল। গাজার মধ্যাঞ্চলের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে আইডিএফের হামলায় ৫৪ শিশুসহ কমপক্ষে ১০৬ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

উপসংহারে গোষ্ঠীটি বলেছে, আইডিএফ-এর বেআইনি হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে এবং গাজার জনগণকে মানবিক সহায়তা প্রদানের ওপর বিধিনিষেধ আরোপসহ মানবিক আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে।

গত ১ এপ্রিল আন্তর্জাতিক খাদ্য সহায়তা সংস্থা ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেন পরিচালিত একটি গাড়িবহরে ইসরায়েলের প্রাণঘাতী হামলার পর বাইডেন নেতানিয়াহুকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ইসরায়েল যুদ্ধ আচরণে পরিবর্তন না আনলে তিনি নীতি পরিবর্তন করবেন। এই হুঁশিয়ারি সবাই আমলে নিয়েছে কারণ বাইডেন বলেছেন, তারা ইসরায়েলকে শর্তাধীন সহায়তা দেবে।

ইসরায়েল তখন থেকে গাজায় আরও ত্রাণের অনুমোদন দেয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে এবং সহায়তা সীমাবদ্ধ করার হুমকি হ্রাস পেয়েছে বলে মনে হচ্ছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে লেখা এক উপসম্পাদকীয়তে বাইডেন বলেন, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অবশ্যই “পুরোপুরি মজুদ ও প্রস্তুত থাকতে হবে।”

পূর্বের খবরবাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকে তাকালে আমাদের লজ্জা হয়: শাহবাজ শরিফ
পরবর্তি খবরআগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত তাপ বাড়তেই থাকবে, হিট অ্যালার্টের মধ্যেই রবিবার খুলছে স্কুল