নিউজ ডেস্কঃ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস গত শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘে সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণ শেষে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ভয়েস অব আমেরিকা বাংলাকে সাক্ষাৎকার দেন। সেই সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো।
ড. ইউনূস: দেশের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার করার জন্য আমরা চেষ্টা করছিলাম, পুলিশকে দিয়ে করার জন্য। এটাই নিয়ম। কিন্তু পুলিশের মনোবল হারিয়ে গেছে। কারণটা হলো, মানুষের সামনে গেলে তাদের কটু কথা শুনতে হয়। মাত্র কয়েক দিন আগে তারা ছাত্রদের মেরেছে। তাই তারা মানুষের থেকে দূরে দূরে থাকছে। মানুষের সঙ্গে তারা মিশতে চাইছে না। কাজেই আমাদের শান্তিশৃঙ্খলার যে শক্তি, সেটা তাদের মনোবল হারানোয় ক্ষয়ে গেল। আমরা যেটা করলাম যে পুলিশের সবাই তো আর অন্যায় করেনি। যারা অন্যায় করেছে, তারা চিহ্নিত করব, তাদের শাস্তি হবে। বাকিরা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। কিন্তু এ প্রক্রিয়া তো একটা লম্বা প্রক্রিয়া। এটা তো হঠাৎ করে হচ্ছে না। ইতিমধ্যে কিন্তু শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হচ্ছে। নানা রকমের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে, সমাবেশ হচ্ছে। বিশেষ করে আমাদের পোশাকশিল্প কারখানাগুলোতে শ্রমিকদের সন্ত্রাস দেখা গেল। সেগুলো নিয়ে মনে করলাম যে এভাবে চলতে দিলে তো এগুলো বাড়তে আরম্ভ করবে। তখন প্রশ্ন উঠল সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়ার জন্য। ওদের অনুরোধ করলাম। ওরা রাজি হলো। তারা বলছে, আমরা তো আছিই। কিন্তু আমাদের তো কেউ পরোয়া করছে না। কারণ, আমাদের ক্ষমতা নেই। আমাদের একটা ক্ষমতা থাকলে তখন হয়তো আমাদের গণ্য করতে পারে। তখন আমরা সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিলাম। কিন্তু একটা সীমিত সময়ের জন্য, দুই মাসের জন্য। সেভাবেই হয়েছে এ ঘটনা।
ড. ইউনূস: আশা করি এ সময়টার মধ্যে তারা পারবে। তারাও দেখছে যে তারা দায়িত্ব পালন করতে পারছে না। সেই দায়িত্ব সেনাবাহিনী পালন করছে। এটা তাদের জন্যও খুব সুখকর কোনো বিষয় না। যে তাদের দায়িত্ব অন্যজন পালন করছে। মাঝখানে আনসার বাহিনীকে দিয়েও করা হয়েছিল। সেটাতেও কোনো কাজ হয়নি। কাজেই এভাবেই সমাধান করার চেষ্টা করছি।
ড. ইউনূস: করা তো উচিত। তরুণদের হাতেই তো ক্ষমতা যাওয়া উচিত। বুড়োদের তো কোনো কাজ নেই। বুড়োরা তো সব ভুল করে গেছেন এ পর্যন্ত। কাজেই চেষ্টা হোক যে তরুণেরা এগিয়ে আসুক। তারা দায়িত্ব নিক। তরুণরাও ভুলভ্রান্তি করবে। ভুলভ্রান্তি সংশোধন করবে নিজেদের। তাদের নেতৃত্বে তো এত বড় একটা কাণ্ড ঘটে গেল। কাজেই তাদের অবিশ্বাস করার তো কোনো কারণ আমি দেখছি না।
ড. ইউনূস: চালানো উচিত বলছি। চালাচ্ছে এ কথা বলছি না। চালানো উচিত। তরুণদের হাতে ছেড়ে দেওয়া, এটা আমি সব সময়ই বলে এসেছি। এ দায়িত্ব পালন করার আগে থেকেই বলছি। কারণ, তরুণেরাই নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরা রচনা করবে। আমরা তাদের হয়ে যেটা রচনা করব, সেটা ঠিক হবে না। তাই আমি আবারও মনে করি, শুধু বাংলাদেশে নয়, পুরো বিশ্বে তরুণদের হাতে দায়িত্ব দিয়ে দেওয়া ভালো।
ড. ইউনূস: আপনি ইচ্ছে করলে সেটা ধরে নিতে পারেন। কিন্তু সরকারের মতামত তো সেটা নয়। সরকার তো কোনো মত দেয়নি এ পর্যন্ত। কাজেই সরকার কখন মেয়াদ ঠিক করবে, সেটা সরকারকেই বলতে হবে। সরকার না বলা পর্যন্ত তো সেটা মেয়াদ হচ্ছে না।
ড. ইউনূস: হ্যাঁ, আমাদেরই বলতে হবে। আমাদের মুখ থেকে যখন শুনবেন, সেটাই হবে তারিখ।
ড. ইউনূস: আমরা আলোচনা করেছি। কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
ড. ইউনূস: আমরা পরিষ্কার করে বলে দিচ্ছি, আমরা সুসম্পর্ক চাই। এটা ভারতেরও দরকার। আমাদেরও দরকার। কারণ, আমরা দুই প্রতিবেশী। প্রতিবেশীর মধ্যে সম্পর্ক ভালো না হলে সেটা কোনো জাতির জন্য মঙ্গলজনক হয় না। তাদের জন্যও মঙ্গলজনক না। আমাদের জন্যও না। আমাদের দুই দেশের স্বার্থ হলো অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আর মধুর সম্পর্ক গড়ে তোলা। মাঝেমধ্যে প্রশ্ন এসে যায়, সম্পর্কে চিড় ধরে। যেমন সীমান্তে গুলি করল, বাচ্চা মেয়ে মরে গেল, বাচ্চা ছেলে মরে গেল, এগুলো মনে কষ্ট দেয়। এটাতে আমরা মনে করি না যে ভারতের সরকার ইচ্ছে করে এসব করেছে। যেসব কারণে এগুলো ঘটে, আমরা যেন সেই কারণগুলো উৎখাত করতে পারি। মানুষ যাতে নিরাপদে নিজের জীবন নিয়ে চলাফেরা করতে পারে, সেটা নিশ্চিত করা। কাজেই এই ধরনের খুঁটিনাটি জিনিস যখন হয়, তখন আমরা দৃষ্টি আকর্ষণ করি, যাতে ভবিষ্যতে সেটা আর না হয়। সেটাই চেষ্টা করা।
ড. ইউনূস: এটা একটা আইনগত বিষয়। নিশ্চয়ই আমরা তাঁকে ফেরত চাইব। তিনি যেখানেই থাকুন না কেন। আইনগতভাবে যে সিদ্ধান্ত আছে, সেই সিদ্ধান্ত আমরা বাস্তবায়ন করতে পারি।
ড. ইউনূস: আমি নেপালের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছি। ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছি। মালদ্বীপের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছি। শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী আসেননি বলে দেখা করতে পারিনি। এটা হলো সার্কভুক্ত যত দেশ আছে, আমরা চাই যে সে দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হোক। এ জন্য সবার সঙ্গে কথা বলি, আলোচনা করি। তার মানে এই নয় যে সবকিছু পাল্টে গেছে। সার্কের একটা কাঠোমো আছে, সেই কাঠামোর মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও আমরা ফোনে কথা বলেছি। ওনাকে এখানে এসে পাইনি। উনি আগেই চলে গেছেন। তাঁর সঙ্গে দেখা হয়নি।
ড. ইউনূস: সেটা পৃথক বিষয়। সেটা পাকিস্তানের সঙ্গে কিভাবে হবে…কিন্তু সার্ক প্রতিষ্ঠিত সত্য। সেই সত্যকে আমরা মেনে…আমরা চাই যে সার্ক শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হোক। সবাই একসঙ্গে কাজ করুক। সেখানে ভারত থাক, পাকিস্তান থাক। যত দেশ আছি, সবাই সমানভাবে থাকি। আমরা চাচ্ছিলাম তেমন সুযোগ যদি আসে, আমরা সার্কভুক্ত সরকারপ্রধানেরা একসঙ্গে একটা ছবি তুললাম। এটাও একটা সুন্দর বার্তা সবার কাছে যেত। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি। হয়তো ভবিষ্যতে যাতে সম্ভব হয়, সে চেষ্টা আমি করে যাব।
ড. ইউনূস: আপনি পুরানো দিনের কথাবার্তা বলছিলেন। এর মধ্যে একটি গণ–অভ্যুত্থান ঘটে গেছে, এটা বোধ হয় আপনার স্মরণে নেই। আপনি এমনভাবে কথা বলছেন যেন এসব ঘটনা ঘটেইনি। কাজেই নতুন ভঙ্গিতে যা হচ্ছে, সেটাকে দেখতে হবে তো। কত ছেলে প্রাণ দিল, সেটা নিয়ে আপনার প্রশ্ন নেই। কেন প্রাণ দিল। সেগুলো আসুক। কাজেই প্রথমে স্বীকার করতে হবে যে, ছাত্ররা বলেছে, আমরা রিসেট বাটন পুশ করেছি। এভরিথিং ইজ গন। অতীত নিশ্চিতভাবে চলে গেছে। এখন নতুন ভঙ্গিতে আমরা গড়ে তুলব। দেশের মানুষও তা চায়। নতুন ভঙ্গিতে চলার জন্য যেটা আছে, সেটা আমাদের সংস্কার করতে হবে।
ড. ইউনূস: যে যেখানে অপরাধ করেছে তার বিচার হবে। তা না হলে তো বিচার সম্পূর্ণ হলো না। আপনি একধরনের বিচার করবেন, আরেক ধরনের বিচার করবেন, সেটার বিরুদ্ধেই তো গণ–অভ্যুত্থান হলো। যে আপনি বিচার ঠিকমতো করছেন না। একপক্ষীয় বিচার করছেন। সেটাতেই যদি আমরা ফিরে যাই তাহলে তো আর এই গণ–অভ্যুত্থানের কোনো মানে হলো না। কাজেই অপরাধ করলে অপরাধী শাস্তি পাবে এটাই হলো নীতি। অপরাধ করলেই শাস্তি পেতে হবে। আজ দুই দিন পর বা দুই বছর পরে হোক শাস্তি পাবে।
ড. ইউনূস: সারা দেশের শান্তিশৃঙ্খলা নিয়েই উদ্বিগ্ন। আপনাকে একটু আগে বললাম, দেশে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা আমাদের বড় কাজ। এটা আমরা করতে পারছিলাম না। পুলিশের সমস্যা আছে ইত্যাদি ইত্যাদি। কাজেই আমরা এখানে শান্তি রাখব, ওখানে (পাহাড়ে) অশান্তি রাখব, এটা তো হয় না। শান্তি হলে সব জায়গাতেই শান্তি হবে। কোনো কোনো জায়গায় আমরা অপারগ হয়েছি। অপারগ হওয়ার অর্থ এই নয় আমরা ইচ্ছা করেই ওটা করছিলাম, তা না। আমাদের ইচ্ছা হলো যেখানে শান্তি রক্ষা করতে হবে সেখানেই শান্তি রক্ষা করা। পার্বত্য চট্টগ্রামে যেটা হয়েছে সেখানে শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয়েছে। কিন্তু সেটা তড়িৎগতিতে আবার সমাধানও হয়ে গেছে। এটা এমন নয় যে আজকেও (বিশৃঙ্খলা) চলছে। এ রকমটা যদি ঘটে, যেকোনো সময় ঘটতে পারে, ঘটলেই সরকারের দায়িত্ব হলো সেটাকে নিরসন করা, সমাধান করা। মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য নিয়ে আসা, যাতে পরস্পরের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে আবার। যেটা আমরা প্রথম দিকেই ডাক দিয়েছিলাম, সারা বাংলাদেশ একটা পরিবার, আমরা পরিবার হিসেবেই চলব। আমাদের মতভেদ থাকবে কিন্তু কেউ কারও শত্রু নয়।
ড. ইউনূস: আমি তো এলাম মাত্র। এত বছরের একটা সমস্যা আমরা দুই দিনে আমাদের দিয়ে সমাধান করে দেবেন, আমরা একটা সমাধান নিয়ে আসব, এটা আশা করা তো ঠিক হবে না। বহু বছরের চেষ্টায় একটা শান্তিচুক্তি হয়েছে, সেই শান্তিচুক্তিও বহাল করা যাচ্ছে না, মান্য করছে না। এখন কি আবার নতুন করে শান্তিচুক্তি করতে হবে। এটা আমাদের সরকার পেরে উঠবে না। এটা পরে নির্বাচিত সরকার যারা আসবে, তারা এগুলো করবে।
ড. ইউনূস: আন্তর্জাতিক আইন আছে। তারা (রোহিঙ্গারা) যদি (বাংলাদেশে) আসতে চায় আমরা আসতে দেব। আমরা তাদের গ্রহণ করব। তারপর যা যা করতে হয়, আন্তর্জাতিক কমিউনিটি (সম্প্রদায়) আছে, এটা তো আমাদের একার সমস্যা নয়। এটা সারা পৃথিবীর একটা দায়িত্ব। যখন মানুষ শরণার্থী হয়ে এক দেশ থেকে আরেক দেশে আশ্রয় চায়, যখন তাদের জীবনে শঙ্কা দেখা দেয়, তখন আমরা দরজা বন্ধ করে দেব, এটা হতে পারে না। এটা আইনবিরোধী কাজ। কাজেই আমরা তাদের নিয়ে আসছি, তারা থাকছে এবং কী করবে সেটা নিয়ে, এই যে জাতিসংঘে এলাম, রোহিঙ্গাদের নিয়ে আমাদের বহু বৈঠক হয়েছে। কী করা যায় এগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কাজেই আপনিও জানেন বহু বছর ধরেই এটা চলছে, সাত বছর ধরে তারা (রোহিঙ্গারা) এখানে আছে। তাদের ভবিষ্যৎ কী, সেটা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। শুধু তাদের ভবিষ্যৎ নয়, তাদের ছেলেমেয়েরও ভবিষ্যৎ। (রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে) বছরে গড়ে ৩২ হাজার শিশু জন্মগ্রহণ করছে। কাজেই যারা আসছিল ১২ লাখ, এর সঙ্গে (প্রতিবছরে) ৩২ হাজার বা আরও বেশি করে যোগ হচ্ছে। তারা (রোহিঙ্গারা) অনেক বাচ্চা কোলে নিয়ে এসেছিল। তাদের (সঙ্গে) শিশু ছিল, অল্প বয়সী বালক–বালিকা ছিল। সাত বছর চলে গেছে, তাদের (সেই শিশু ও বালক–বালিকারা) বয়স বেড়েছে। এদের কী করবেন? তারা এমন পরিবেশের মধ্যে আছে, নিজেদের একটা ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছে না। অথচ সারা দুনিয়ার সঙ্গে তারা যুক্ত। যেহেতু টেকনোলজির (প্রযুক্তি) সাহায্যে দুনিয়াতে কী ঘটছে, সব দেখছে। তারা একটা কারাগারের মধ্যে এখানে বসবাস করছে। তাদের মনে প্রশ্ন জাগবে, তাদের মনে বিদ্রোহ জাগবে, এটা তো ভালো জিনিস নয়। এই বিক্ষোভ কীভাবে ছড়িয়ে পড়বে, কার মাথায় গিয়ে পড়বে, এটা তো বোঝার উপায় নেই। কাজেই (রোহিঙ্গাদের প্রতি) সারা পৃথিবীর দৃষ্টি দিতে হবে, তারা যেন সন্তোষজনকভাবে বাল্যকাল কাটাতে পারে, একটা আশা নিয়ে আসতে পারে। সেটা যেন আমরা করতে পারি। সেই বিষয়গুলো আমরা (জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে রোহিঙ্গাদের নিয়ে বিভিন্ন বৈঠকে) আলাপ করেছি। আমরা একটা সমাধান খুঁজছি।
ড. ইউনূস: এই যে বললাম, আমাদের নতুন করে সব গড়তে হবে। সবকিছু ধ্বংস করে দিয়ে গেছে আগের সরকার। সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে আমাদের পুনর্জাগরণ করতে হবে। সেটার জন্য প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমরা (অন্তর্বর্তী সরকার) কমিশন গঠন করে দিচ্ছি। ছয়টা কমিশন করেছি। আরও নতুন কমিশন আসছে। এর মধ্যে একটা হলো সংবিধান (সংস্কার) কমিশন। সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে সারা দেশই একমত। কী বিষয়ে হবে, কীভাবে হবে, এটা নিয়ে বিতর্ক হবে। কমিশন একটা রূপরেখা দেবে। সেই রূপরেখা নিয়ে সারা দেশে একটা বিতর্কের সুযোগ করা হবে, যাতে রাজনৈতিক দলগুলো (এই বিতর্কে) অংশগ্রহণ করে। বিচার করে তারা ঠিক করবে (সংবিধান) সংশোধন তারা এখনই করে ফেলবে নাকি ভবিষ্যতে করবে। করলে কী করবে, সেটার জন্য একটা রূপরেখা দাঁড় করানোর জন্যই এই কমিশনগুলো গঠন করা হয়েছে। এটা খুব ন্যায্য জিনিস, উপকারী জিনিস। তা না হলে যে সংবিধান আমাদের আছে, এটা দিয়ে দেশ চলবে না। এটা নিয়ে দেশ চললে আবার এই ঘটনার (আওয়ামী লীগ সরকারের মতো সরকার) সৃষ্টি হবে।
ড. ইউনূস: এটা আইনগত ব্যাপার। কীভাবে হবে…আমাদের এখন কী দরকার, সেটা ঠিক করছি। কীভাবে সেটা সংশোধন করা হবে, আইনগত কী পর্যায়ে হবে, সেগুলো যখন আলোচনায় বসবে, সেখানেই তারা ঠিক করবে। আমরা যেটা করছি, কী কী দরকার সেখানে একটা ঐকমত্য সৃষ্টি করা। এখন কীভাবে করব, সেটা নিয়ে আবার একটা আলোচনা হবে। আইনসংগতভাবে কীভাবে হবে। সেগুলো এখন আমি স্পেকুলেট (ধারণা) করতে পারছি না।
ড. ইউনূস: আমাদের সংবিধান বলে প্রত্যেকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আছে। প্রত্যেকের রাজনীতি করার অধিকার আছে। সে অধিকার আমার নিশ্চিত করতে হবে। এটা সংবিধানের বিধান। সেটা থেকে আমি বেরিয়ে আসতে পারি না। এখন আপনি পছন্দ করেন বা অপছন্দ করেন। অপরাধ করলে শাস্তি পাবে। বিচারব্যবস্থা আছে, বিচারব্যবস্থা সেটা করবে। আমি রাগ করে তাঁকে আমার দুশমন ভাবি, আমি তাঁকে বেঁধে ফেললাম, তাঁর অধিকার কেড়ে নিলাম। এটা রাষ্ট্র হতে দিতে পারে না। তাহলে সেই রাষ্ট্র অচল রাষ্ট্র। রাষ্ট্রকে তার নীতিমালা অনুসারে চলতে হবে।
ড. ইউনূস: মূল লক্ষ্য হলো সংস্কার করা। একটা নির্বাচন দেওয়া। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। এটাই হলো আমাদের মূল লক্ষ্য। আর কিছু না। সিম্পল (সাধারণ) জিনিস।





