নফল ইবাদত ও নিয়তের গুরুত্ব

224

নিউজ ডেস্কঃ আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর অশেষ রহমতে আমরা রমজানের রোজা পালনের মাধ্যমে দিনগুলো অতিবাহিত করার সৌভাগ্য পাচ্ছি। রমজানে নফল ইবাদতকে ফরজের মর্যাদা দেওয়া হয়। তাই বেশি বেশি নফল ইবাদত করা উচিত। আসুন রমজানের দ্বিতীয় দিনের জন্য ইবাদত সহায়ক কিছু বিষয় জেনে নিই!

জেনে রাখা ভালো : রোজা শব্দটি ফার্সি যার অর্থ দিবস। আরবিতে একে বলে সাওম। আর হিজরি বর্ষের নবম মাস হলো রমজান। মুসলমান প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ সবার ওপর রোজা ফরজ।

কোরআন থেকে : ‘তোমাদের মধ্যে যারা এ মাস পাবে তারা যেন এ মাসে রোজা রাখে এবং কেউ অসুস্থ থাকলে কিংবা সফরে থাকলে অন্য সময় এ সংখ্যা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য যা সহজ তা চান এবং যা তোমাদের জন্য কষ্টকর তা চান না, এ জন্য যে তোমাদের সংখ্যা পূর্ণ করবে এবং তোমাদের সৎপথে পরিচালিত করার কারণে তোমরা আল্লাহর মাহিমা ঘোষণা করবে এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারো।’ সুরা বাকারা ১৮৫

হাদিস থেকে : হজরত রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তোমাদের নিকট রমজান মাস উপস্থিত। এটা এক অত্যন্ত বরকতময় মাস। আল্লাহতায়ালা এ মাসে তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করেছেন। এ মাসে আকাশের দরজাগুলো উন্মুক্ত হয়ে যায়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানকে আটক রাখা হয়। সুনানে নাসায়ি

করব : দৃষ্টিকে সংযত।

ছাড়ব : মিথ্যা বলা।

মাসআলা : বমি হলে রোজা ভঙ্গ হবে না, যদিও মুখ ভরে বমি হয়।

ভুল ধারণা : রোজা রেখে রক্ত দিলে রোজা ভেঙে যাবে।

আমল : প্রতিদিন কিছু নফল নামাজ পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার চেষ্টা করা। কমপক্ষে দুই রাকাত করে হলেও শুরু করা উচিত।

সুসংবাদ : বিশ্বাস আর পুণ্যের আশায় রোজা রাখলে পূর্বের কৃত সকল পাপ মোচন করে দেওয়া হয়।

উপকারিতা : শরীরের মেদ কমে এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে ওঠে।

দোয়া : ‘আল্লাহুম্মা লা সাহলা ইল্লা মা জায়ালতাহু সাহলান, ওয়া আনতা তাজআলুল হুজনা সাহলান ইজা শি’তা।’ অর্থ : ‘হে আল্লাহ, আপনি যা সহজ করে দেন তা ছাড়া কোনো কিছুই সহজ নয়। আর আপনি ইচ্ছা করলে কঠিন কাজকেও সহজ করে দেন।’ ইবনে হিব্বান ৯৭৪

রোজার নিয়ত : রোজা পালনে সাহরি ও ইফতার গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি রোজার নিয়তও জরুরি। তবে এই ক্ষেত্রে রোজা রাখার উদ্দেশে ঘুম থেকে ওঠা ও সাহরি খাওয়াটাই রোজার নিয়তের অন্তর্ভুক্ত। বস্তুত মনের ইচ্ছাই হলো নিয়ত। নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা জরুরি নয়। তাই কেউ মুখে নিয়ত না করলেও তার রোজাগুলো আদায় হয়ে যাবে। আল বাহরুর রায়েক ২/৪৫২

রোজার প্রচলিত নিয়ত : আমাদের দেশে রোজার একটি আরবি নিয়ত প্রসিদ্ধ আছে, যেটা মানুষ মুখে পড়ে থাকে। এটি হাদিস ও ফিকহের কোনো কিতাবে বর্ণিত হয়নি। তবে কেউ চাইলে পড়তে পারেন। তবে নিয়ত পড়ার চেয়ে নিয়ত করা গুরুত্বপূর্ণ।

উচ্চারণ : ‘নাওয়াইতু আন আছুমা গাদাম মিন শাহরি রমাদানাল মুবারাকি, ফারদাল্লাকা ইয়া আল্লাহু, ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নাকা আনতাস সামিউল আলিম।’

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আগামীকাল তোমার পক্ষ থেকে পবিত্র রমজানের নির্ধারিত ফরজ রোজা রাখার ইচ্ছা পোষণ (নিয়ত) করলাম। অতএব তুমি আমার পক্ষ থেকে (আমার রোজা তথা পানাহার থেকে বিরত থাকাকে) কবুল করো। নিশ্চয় তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।

পূর্বের খবরআসছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন চাপ
পরবর্তি খবরগ্যাস সংকটে এলপিজি ব্যবহারের পরামর্শ দিলেন প্রতিমন্ত্রী