নিউজ২১ডেস্কঃ আজ সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রোহানাকে নিয়ে দেশও ছেড়ে পালিয়েছেন। বিশ্বস্ত সুত্রে জানা যাচ্ছে তিনি যাওয়ার আগে পদত্যাগ করেছিলেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবির মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন শেখ হাসিনা। পদত্যাগ করে বেলা আড়াইটার দিকে থেকে একটি সামরিক হেলিকপ্টার শেখ হাসিনাকে নিয়ে যাত্রা করে। তাঁর সঙ্গে ছোট বোন শেখ রেহানা ছিলেন। হেলিকপ্টারটি ভারতের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে বলে জানা গেছে।
সংবাদমাধ্যমের খবর, সামরিক হেলিকপ্টারে দেশ ছেড়েছেন শেখ হাসিনা
কদিন আগেই তিনি বলেছিলেন শেখ হাসিনা পালায় না। কিন্তু তার কথায় তিনি মিথ্যা প্রমাণ করলেন। তিনি সত্যি সত্যি পালিয়ে গেছেন। আওয়ামী লীগ গত সাড়ে ১৫ বছরে অনেক উন্নয়ন করেছে। কিন্তু দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়ন, অর্থপাচার সীমাহীন পর্যায় চলে গিয়েছিল। কিছু কিছু ব্যক্তির লাগামহীন দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচরিতার কারণে সরকার জনগণের কাছ থেকে ক্রমশ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। সুশাসনের অভাব এবং ভোটার বিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার জনগণের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছিল। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি নির্বাচন জনগণ বর্জন করে। এই নির্বাচনের পর অবশ্য আন্তর্জাতিক মহল থেকে সরকারকে সমর্থন জানানো হয়, সহানুভূতি জানায়। কিন্তু কোটা সংস্কার আন্দোলন শেষ পর্যন্ত সামাল দিতে পারেনি।
টানা ১৫ বছর ৬ মাস ক্ষমতায় থাকার পর অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ভাগ্যজনক ভাবে পতন ঘটলো শেখ হাসিনার নেতৃত্বের আওয়ামী লীগ সরকারের। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পদত্যাগ করে শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলেন।
পশ্চিমবঙ্গের বাংলা সংবাদপত্র আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বোন রেহানাকে নিয়ে তিনি ঢাকার বাসভবন তথা ‘গণভবন’ ছেড়েছেন। তাঁকে কপ্টারে করে ‘নিরাপদ’ আশ্রয়ের উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারটি ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
একটি সূত্রের উল্লেখ করে খবরে বলা হয়, তার আগে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর তরফে প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকে সময় বেঁধে দেওয়া হয় ইস্তফা দেওয়ার জন্য। ৪৫ মিনিট সময় তাঁকে দেওয়া হয়েছিল বলে একটি সূত্রের দাবি। তবে অন্য একাধিক সূত্রের দাবি, পুরো বিষয়টিই হয়েছে সেনাবাহিনী এবং দিল্লির সঙ্গে আলোচনার সাপেক্ষে। তার পরেই হাসিনা ইস্তফা দিয়েছেন।





