আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিক, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও প্রেসক্লাবে হামলার খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতের দিল্লিভিত্তিক ৬টি শীর্ষ সাংবাদিক সংগঠন। সেই সঙ্গে সাংবাদিক ও মিডিয়া হাউসের সুরক্ষার জন্য ‘কার্যকর ব্যবস্থা’ নিতে অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার (১২ আগস্ট) ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বরাবর চিঠি লেখে ভারতের দিল্লিভিত্তিক ৬টি শীর্ষ সাংবাদিক সংগঠন।
সোমবার (১২ আগস্ট) ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বরাবর লেখা এক চিঠিতে সংগঠনগুলোর পক্ষে এ দাবি জানান দ্য ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অফ সাউথ এশিয়ার (এফসিসিএসএ) সভাপতি এস ভেঙ্কট নারায়ণ। প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়ার (পিসিআই) অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেলেও চিঠিটি প্রকাশ করা হয়েছে।
দ্য ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অফ সাউথ এশিয়া (এফসিসিএসএ) ও প্রেস ক্লাব অফ ইন্ডিয়া (পিসিআই) ছাড়াও চিঠিতে স্বাক্ষর করা অন্য সংগঠনগুলো হলো ইন্ডিয়ান উইমেনস প্রেস ক্লাব (আইডব্লিউপিসি), কমনওয়েলথ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (সিজেএ, ইন্ডিয়া), প্রেস অ্যাসোসিয়েশন ও ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অফ ফরেন অ্যাফেয়ার্স করেসপন্ডেন্টস (আইএএফএসি)।
চিঠিতে বলা হয়, ‘ গত কয়েকদিন ধরে ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিক, প্রিন্ট, অনলাইন ও টেলিভিশন মিডিয়া আউটলেট ও প্রেসক্লাবের উপর হামলার খবরে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। প্রাপ্ততথ্য অনুযায়ী, হামলায় কয়েক সাংবাদিক নিহত হয়েছেন এবং অনেকে আত্মগোপনে চলে গেছেন। দায়িত্বশীল অনেক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের অব্যাহত হুমকি-ধমকিও দিচ্ছেন।’
এতে আরও বলা হয়, ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মুক্ত স্বাধীন, বহুমতের বৈচিত্র্যপূর্ণ গণমাধ্যম এবং অনলাইন ও অফলাইনে তথ্যের অবাধ প্রবাহের গুরুত্ব মৌলিকভাবে স্বীকৃত। আমরা নিশ্চিত যে, নোবেলবিজয়ী হিসেবে আপনিও স্বীকার করবেন, সাংবাদিক ও মিডিয়া হাউসের বিরুদ্ধে এ অপরাধ সামগ্রিকভাবে সমাজে একটি বিশাল বিরূপ প্রভাব ফেলবে।’
‘আমরা আপনার কাছে গণমাধ্যম কর্মীদের সুরক্ষা এবং তাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, হুমকি ও হামলা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। সমস্ত সহিংসতার বিষয়ে নিরপেক্ষ, দ্রুত, পুঙ্খানুপুঙ্খ, স্বাধীন ও কার্যকর তদন্ত পরিচালনা এবং দোষীদের শাস্তি দেয়া আপনার সরকারের জন্য অত্যন্ত অপরিহার্য।’
চিঠিতে ‘গণমাধ্যমকর্মীদের হেয় করা ও ভয়-ভীতি দেখানো থেকে বিরত থাকা’র আহ্বান জানানো হয়েছে। স্বাধীন সাংবাদিকতার অপরিহার্যতার প্রতি গুরুত্বারোপ করে সংগঠনগুলো সাংবাদিকদের বিশ্বাসযোগ্যতা ও আস্থা নষ্ট করে এমন সাম্প্রদায়িক বা বৈষম্যমূলক ভাষা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকার জন্যও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।





