বুধবার (২৮মে) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ‘তারুণ্যের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সমাবেশ’ শিরোনামে এই সমাবেশের প্রস্তুতি এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সমাবেশে ঢাকা, সিলেট, ফরিদপুর ও ময়মনসিংহ থেকে ১৫ লাখ তরুণ-তরুণীর জমায়েত হয়েছে।সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।এর মধ্যে ৪টি বিভাগ ও শহরে ২ দিন করে মোট ৮দিন সেমিনার ও সমাবেশ করছেন তারা।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, তরুণ জনগোষ্ঠীকে প্রাধান্য দিয়ে দলের কর্ম পরিকল্পনা ঢেলে সাজানো হচ্ছে।
বুধবার (২৮ মে) রাজধানী পল্টনে বিএনপির তিন অঙ্গ সংগঠনের আয়োজনে তারুণ্যের সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ পরিকল্পনার কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের বিশ্বাস ও ভালোবাসা নষ্ট হয় এমন কোন পদক্ষেপ অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া ঠিক হবে না। রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রতিপক্ষ বানাবেন না।
দেশকে এগিয়ে নিয়ে বিএনপির একাধিক উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে দাবি করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরও বলেন, যেকোনো দলের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হলে দরকার নির্বাচিত সরকার। তবে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা চলছে। অল্প ও বেশি সংস্কারের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে এই আলোচনা। মনে হচ্ছে সরকারের কোনো ভিন্ন উদ্দেশ্য আছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, আপনাদের কেউ যদি রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকতে চায় তাহলে সরকার থেকে পদত্যাগ করে নির্বাচন করুন। যদি জনগণের রায় পান তাহলে আবার সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
আন্দোলন এখনও শেষ হয়নি, দ্বিতীয় পর্যায়ে রয়েছি : ড. মঈন খান
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, আজকে নয়াপল্টনে মহাসমাবেশ তারুণ্যের সমুদ্রে পরিণত হয়েছে। আপনার (তারেক রহমান) নেতৃত্বে বাংলাদেশের তরুণরা জেগে উঠেছে। ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার আমাদের দেশকে ধ্বংস করেছিল। দেশের তরুণ ছাত্রসমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছে। জুলাই আগস্টে আমাদের প্রথম বিজয় হয়েছে। আমাদের আন্দোলন কিন্তু থেমে যায়নি। আমরা বিজয়ের দ্বিতীয় পর্যায়ে রয়েছি।
বুধবার (২৮ মে) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক তারণ্যর সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। এতে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বিএনপির তিন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের উদ্যোগে ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট ও ফরিদপুর বিভাগের সমন্বয়ে ‘তারুণ্যের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা’ শীর্ষক এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
ড. আবদুল মঈন খান বলেন, বাংলাদেশকে গণতন্ত্রে রূপ দিতে হবে। অবিলম্বে দ্রুত নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ দিতে হবে। জনগণ চায় গণতন্ত্র। আমরা সরকারকে সেজন্য সহযোগিতা করেছি। সহযোগিতা থাকবে। কিন্তু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। না হলে বিক্ষুব্ধ তরুণ সমাজের আন্দোলনে কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার পালাতে পারবে না।
তিনি বলেন, একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বিএনপি ১৫ বছর ধরে জেল জুলুমের শিকার হয়েছে। এটা সরকারকে উপলদ্ধি করতে হবে। আমরা সরকারকে সহযোগিতা করতে চাই, করেছি করবো। আওয়ামী লীগের সময় যেমন গণতন্ত্র উদ্ধারের জন্য যুদ্ধ করেছি, তেমনি রাজপথে থেকে গণতন্ত্রকে উদ্ধার করবো।
জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্নার সভাপতিত্বে ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান এবং ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরের সঞ্চালনায় মহাসমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।
নির্বাচন পেছানোর হেলাফেলা চলবে না: আমীর খসরু

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, গণতন্ত্রের পথ হলো নির্বাচন। নির্বাচন পেছানোর হেলাফেলা চলবে না। নির্বাচনের রোডম্যাপ নিয়ে টালবাহানা চলবে না। সংস্কারের যদি ঐকমত্য না হয়ে থাকে, কান খুলে শুনে রাখুন, সেই সংস্কার বাংলাদেশের জনগণ মানবে না। আপনারা সংস্কার করার কে? সংস্কার করবে দেশের জনগণ। নির্বাচনের মাধ্যমে সেই সংস্কার হবে।
আমির খসরু বলেন, সংস্কারের প্রথম প্রস্তাব দিয়েছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ভিশন ২০৩০। এরপর আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ২৭ দফা দিয়েছেন। পরবর্তীতে যুগপৎ আন্দোলনের দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ৩১ দফা দিয়েছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারে বেশিরভাগ বিদেশি নাগরিক : মির্জা আব্বাস

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার দেশের জন মানুষের আকাঙ্ক্ষিত সরকার, ছিল আস্থার সরকার। এ সরকারের কাছ থেকে আমরা কিছু পাইনি। এ সরকারের মধ্যে বেশি ভাগ এ দেশের নাগরিক নয়। তারা বলেন, সংস্কার করে নির্বাচন দেবে, কিন্তু তারা ৯ মাসেও সংস্কার করতে পারেননি, ৯ বছরেও পারবে না। কঠিন সিদ্ধান্ত নেবে, কী সিদ্ধান্ত নেবে তা তারা জানে।
বুধবার (২৮ মে) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে তারুণ্যের সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, সেন্টমার্টিন দ্বীপ, করিডর, দ্বিতীয় ওয়ার্ল্ড, স্টার লিঙ্ক দিয়ে কী করছেন? আপনারা মনে করছেন বুঝি না? আমরা বুঝি। দেশের মানুষকে বোকা ভাববেন না।
তিনি বলেন, দেশ প্রেমিক মানুষের ভেতরে ভীতির সঞ্চার হয়েছে। আমরা কথা বললেই, কাজ শেষ করার কথা বলেন। আমরা জানি, কোন কাজ শেষ করতে পারবেন না। এ সরকারের মাথা থেকে আগা পর্যন্ত পচন ধরেছে। এসময় কিছু লোক ইচ্ছাকৃত ভাবে চাঁদাবাজি করছে, এদেরকে প্রতিহত করতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সরকার পদত্যাগ নিয়ে নাটক করেছে: সালাহউদ্দিন আহমেদ
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা এমন রাষ্ট্র নির্মাণ করতে চাই যেখানে তারুণ্যের অংশগ্রহণ থাকবে। ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছি। অত্যন্ত সুকৌশলে ঐক্যে ফাটল ধরার চেষ্টা চলছে। আমরা ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্যাতন-নিপীড়ন ও তাদের লুটপাটের কথা ভুলতে বসেছি। আমরা গণতন্ত্রের জন্য রক্ত দিয়েছি। আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘ব্রিটিশ শাসন আমলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ২০০ বছরে যা লুটপাট করেছে তার চেয়ে বেশি সম্পদ লুট করেছে আওয়ামী লীগ। তারা ৩০ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে। ৪ লাখ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ। বিদ্যুৎ ও ব্যাংক খাতে লুটপাট চালিয়েছে। ব্যাংক থেকে যত টাকা লুট করেছে তা দিয়ে ৩৬টা পদ্মাসেতু বানানো যেত। আমাদের একমাত্র শত্রু আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ কখনো গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেনি। তারা গণতন্ত্র হত্যাকারী।’
সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, ‘তারেক রহমানের নেতৃত্বে যারা গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করেছি তারা নাকি বিভিন্ন দেশের এজেন্ট হয়ে গেছি। আসলে যারা আমাদের অন্তরায় মনে করে তারা এসব বলে।’





