আওয়ামী লীগে দলীয় স্বতন্ত্র প্রার্থী নিয়ে ভিন্নমত

166

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের উৎসাহ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে আওয়ামী লীগে। দলের নীতিনির্ধারকদের একটি বড় অংশ প্রার্থী মনোনয়নে আগের সিদ্ধান্তে ফিরে যেতে চাইছে। অর্থাৎ প্রতিটি আসনে নৌকা প্রতীকের একজন প্রার্থী থাকবেন। এর বাইরে দলের কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারবেন না।

ঝিনাইদহ-১ আসনের উপনির্বাচন সামনে রেখে এমন চিন্তা আলোচনায় এসেছে। ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই এমপির মৃত্যুর পর এই আসনটি শূন্য হয়েছে। আওয়ামী লীগের কয়েকজন নীতিনির্ধারক নেতার দৃষ্টিতে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে গত ৭ জানুয়ারির দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের উৎসাহ দেওয়া হলেও বর্তমানে সেই পরিস্থিতি নেই। তা ছাড়া দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ের ঘটনা নিয়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-বিবাদ দেখা দিয়েছে।

এই অবস্থায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের কাউকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার উৎসাহ দেওয়া ঠিক হবে না বলে মনে করছেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর অন্যতম সদস্য ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক।

দলীয় স্বতন্ত্র প্রার্থী নিয়ে ভিন্নমত  আওয়ামী লীগে

তিনি সমকালকে জানিয়েছেন, আগামী দিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনেক কিছুই বদলে দিতে পারে। অনেক সমীকরণও তৈরি হতে পারে। তবে দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীকে উৎসাহ দেওয়া ঠিক হবে না।
এদিকে আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সুযোগ থাকবে না আওয়ামী লীগে। দল মনোনীত প্রার্থীকেই সমর্থন জানাতে হবে নেতাকর্মীকে। এই সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেই বিদ্রোহের দায়ে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। ঝিনাইদহ-১ আসনের উপনির্বাচন থেকেই দলের এমন সিদ্ধান্ত কার্যকর করার সম্ভাবনা রয়েছে।
দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের বেলায় এই নিয়ম আগেও কার্যকর ছিল আওয়ামী লীগে। কিন্তু দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রক্রিয়ার বেলায় এর ব্যতিক্রম হয়েছে। বিএনপি ওই নির্বাচনে অংশ নেয়নি। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির জন্য দলীয় প্রার্থীর পাশাপাশি দলের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচনে উৎসাহিত করে আওয়ামী লীগ। অবশ্য এই সিদ্ধান্ত সব সময়ের জন্য হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম।

দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন বলেছেন, দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী নিয়ে নির্বাচন চলাকালে ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে। নির্বাচনের পর নেতাকর্মীর মধ্যে দূরত্ব বেড়েছে। এ কারণে দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী না থাকাই ভালো বলে মনে করছেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহীর মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। এমনকি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দলের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের অনেকেই দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলেন। অবশ্য তাদের কাউকেই অতীতের মতো সাংগঠনিক শাস্তির অংশ হিসেবে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়নি।
এই স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ৫৯ জন দলীয় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচনে বিজয়ী হন। তবে নির্বাচনের পর স্বতন্ত্র এমপি ও পরাজিত স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিয়ে দলের ভেতরে দ্বন্দ্ব-বিবাদ শুরু হয়েছে। এ নিয়ে খুনাখুনির মতো অপ্রিয় ঘটনাও ঘটেছে। বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তৃণমূলে। এমন বিরূপ পরিস্থিতি সামাল দিতে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন।

এমন অবস্থায় ঝিনাইদহ-১ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে দলের ভেতরে নানামুখী আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এখনও ওই আসনের উপনির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করেনি। তবে এই উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের উৎসাহিত করা হবে কিনা, তার খোঁজ-খবর নেওয়ার চেষ্টা করছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলার জন্য আজকালের মধ্যেই ঢাকায় আসছেন ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছাইদুল করিম মিন্টু।

পূর্বের খবরদেশে ৩৪ লাখ অর্থাৎ ২ শতাংশ মানুষের দুই বেলা খাবার অনিশ্চিত!
পরবর্তি খবরপবিত্র রমজানে রোজার নিয়ত ও ইফতারের দোয়া জেনে নিন