ঢাকা, বুধবার: রাজধানীর ২৬ ইস্কাটন গার্ডেন রোডস্থ ‘কাজল মিলনায়তন’-এ অনুষ্ঠিত হলো জাতীয় কবিতা পরিষদের ৭২তম কবিতাপাঠ ও আলোচনা অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হান।
সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এবারের অনুষ্ঠান।
জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হান সূচনা বক্তব্যে বলেন, “ধর্মান্ধ মৌলবাদী গোষ্ঠীর টার্গেট হচ্ছে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে মুছে ফেলা। এর অংশ হিসেবেই তারা আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যক্তিদের বারবার আঘাত করছে। কয়েক দিন আগেই রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি লাগিয়ে অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করেছে। তারা একটি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। আমরা ঠিক এ কারণেই এবারের আয়োজনের শিরোনাম দিয়েছি ‘অসাম্প্রদায়িক রবীন্দ্রনাথকে মুছে ফেলা যাবে না’।”

প্রধান আলোচক কবি মতিন বৈরাগী ইতিহাসের আলোকে ও সমাজবাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে রবীন্দ্রনাথের সৃজনকর্মের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “রবীন্দ্রনাথ আমাদের সম্পদ। রবীন্দ্রনাথকে ছাড়া প্রাত্যহিক জীবন শুরু করা যায় না। তাঁকে আঘাত দিয়ে তো থামানো যাবে না। এগুলো করে আধিপত্যবাদীরা। এদের থামাতে হলে একটা কালচারাল রেভল্যুশন লাগবে। রবীন্দ্রনাথকে নতুন করে সাজাতে হবে।”
জাতীয় কবিতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন বলেন, “রবীন্দ্রনাথ এতটাই শক্তিশালী যে, তাঁকে যত আঘাত করবেন, ধ্বংস করার চেষ্টা করবেন, তিনি ততই নতুন করে সৃষ্টি হবেন। আমাদের বাংলা ভাষার সৌকর্য, ব্যাকরণগত দিক ও বিজ্ঞানমনস্কতা রবীন্দ্রনাথেরই তৈরি। এখানে যে অপ্রগতিশীল শক্তি রয়েছে, তারা রবীন্দ্রনাথকে মুছে দিতে চাইবে, কিন্তু তাদের সেই স্বপ্ন পূরণ হবে না।”
কলকাতা থেকে আগত কবি মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায় বলেন, “আজ রবীন্দ্রনাথকে সামনে রেখে ধর্মের ভিত্তিতে বিভেদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। অথচ তৎকালীন সমাজে মুসলমানদের প্রতি রবীন্দ্রনাথের এবং রবীন্দ্রনাথের প্রতি মুসলমানদের যে আহ্বান ও সুসম্পর্ক ছিল, তা এক মাসেও বলে শেষ করা যাবে না। একজনের কথা না বললেই নয়—কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তারা কাজী নজরুল ইসলামের মতো অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তিকেও সাম্প্রদায়িক বানাতে চায়। আমরা তো তাঁদেরই সন্তান। এসব করে তাঁদের কালিমালিপ্ত করা যাবে না।”

কবি নাহিদ আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে দেশবরেণ্য কবি, লেখক, সাংবাদিক ও কবিতাপ্রেমীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে মিলনায়তনটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। এবারের আয়োজনে সংগীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী আবদুল ওয়াদুদ।
কবিতাপাঠে অংশ নেন কবি মতিন বৈরাগী, কবি মোহন রায়হান, কবি মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়, কবি হরষিত বালা, কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন, কবি গোলাম শফিক, কবি শ্যামল জাকারিয়া, কবি এবিএম সোহেল রশিদ, কবি ক্যামেলিয়া আহমেদ, কবি রফিক হাসান, কবি সাম্য শাহ, কবি শাহীন চৌধুরী, কবি নাহিদ হাসান, কবি রাসেল আহম্মেদ প্রমুখ।
ইতিহাসসমৃদ্ধ আলোচনা, সুমধুর কাব্যধ্বনি ও সুরের মূর্ছনায় প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে সমগ্র আয়োজন। অনুষ্ঠানের সভাপতি কবি মোহন রায়হানের সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে জমজমাট এই আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।
উল্লেখ্য, আগামী ২৮ অক্টোবর বিকেল চারটায় অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় কবিতা পরিষদের ৭৩তম কবিতাপাঠ ও আলোচনা অনুষ্ঠান হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় কবিতা পরিষদের কার্যনির্বাহী সদস্য রাসেল আহম্মেদ।





