অনলাইন ডেস্ক:
নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে শ্রম আইন ও আয়কর আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে, তা আদালতে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে কোনো মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার বা সম্মাননা দেওয়া সমীচীন নয় বলে মনে করে বাংলাদেশ ইউনেসকো জাতীয় কমিশন।
বুধবার (২৭ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো ‘ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ট্রি অব পিস প্রদান: বাংলাদেশ ইউনেসকো জাতীয় কমিশনের বক্তব্য’ শীর্ষক এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়। বিবৃতিতে সই করেছেন ইউনেসকো কমিশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল জোবাইদা মান্নান।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১ জানুয়ারি বাংলাদেশের আদালত ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং গ্রামীণ টেলিকমের আরও তিনজন সিনিয়র কর্মকর্তাকে শ্রম আইন লঙ্ঘনের দায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন। ড. মুহাম্মদ ইউনুস এবং তার সহযোগীরা এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন, যেটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।
‘এছাড়া আয়কর আইন লঙ্ঘনের জন্য তার ব্যক্তিগত আয়কর দাবি আদালতে বিচারাধীন। সুতরাং তিনি (ড. ইউনূস) যতদিন আদালত কর্তৃক নির্দোষ প্রমাণিত নন, ততদিন তাকে কোনো মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার কিংবা সম্মাননা দেওয়া সমীচীন নয়।’
ট্রি অব পিস পুরস্কারের প্রাপ্তি নিয়ে ড. ইউনূস ও ইউনূস সেন্টার প্রতারণা ও মিথ্যাচার করেছে উল্লেখ করে তা রুখতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়।
এতে বলা হয়, বাংলাদেশে ইউনেসকোর সঙ্গে কার্যক্রমের জন্য সরকারের ফোকাল পয়েন্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়াধীন বাংলাদেশ ইউনেসকো জাতীয় কমিশনের দায়িত্ব হচ্ছে, কেউ যাতে ইউনেসকোর নামের অপব্যবহার কিংবা অপপ্রয়োগ না করতে পারে— সেটি নিশ্চিত করা। সে হিসেবে ইউনেসকোর নাম অপব্যবহারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ইউনেসকো জাতীয় কমিশনের পক্ষ থেকে ইউনেসকো ঢাকা অফিস এবং ইউনেসকোতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির সঙ্গে পরামর্শ করে ইউনেসকো সদরদপ্তরকে অবহিত করা হবে।’
প্রতারণা ও পরিকল্পিত মিথ্যাচারের জন্য আইনি ব্যবস্থা কেন নেওয়া হবে না, সেই ব্যাখ্যাও চাইবে ইউনেসকো জাতীয় কমিশন। বিবৃতিতে বিষয়টি উল্লেখ করে বলা হয়, ‘বিষয়টি যেহেতু প্রতারণামূলক এবং পরিকল্পিত মিথ্যাচার, সেহেতু তাদের (ড. ইউনূস ও ইউনূস সেন্টার) বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তার ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।’
এতে আরও বলা হয়েছে, সম্প্রতি ঢাকার কয়েকটি দৈনিক পত্রিকায় এবং ইউনূস সেন্টারের অফিসিয়াল ওয়েব পেজে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ইউনেসকো কর্তৃক ‘ট্রি অব পিস’ পুরস্কার দেওয়ার সংবাদটিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়াধীন বিএনসিইউ দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে।
‘ইউনূস সেন্টার থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে পত্রিকায় যে সংবাদ ছাপা হয়েছে, তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৬ মার্চ আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত ১১তম গ্লোবাল বাকু ফোরোমে ড. ইউনূসকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। কিন্তু ইউনেসকো ঢাকা অফিস জানিয়েছে, প্যারিস অবস্থিত ইউনেসকো সদরদপ্তর এ বিষয়ে একেবারেই অবহিত নয়।’
‘১১তম বাকু ফোরাম যেখানে এ সম্মাননা দেওয়ার সংবাদ প্রচার হয়েছে, সেখানে ইউনেসকোর কোনো অফিসিয়াল প্রতিনিধিই ছিল না। অধিকন্তু ইউনূস সেন্টারের দাবি করা সম্মাননা ইউনেসকোর কোনো পুরস্কার বা সম্মাননাও নয়। ড. ইউনূসকে ট্রি অব পিস নামক একটি ভাস্কর্য স্মারক/সম্মাননা দেন ইসরায়েলি ভাস্কর্যশিল্পী মিজ হেদভা সের। মিজ হেদভা নিজে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ট্রি অব পিস’ প্রদানে ইউনেসকোর কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।’
‘নিজামি গনজবি ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারের আমন্ত্রণে ইসরায়েলি ভাস্কর্যশিল্পী মিজ হেদভা সের ড. ইউনূসকে এটি দেন। মিস হেদভা সের ইউনেসকোর সাংস্কৃতিক কূটনীতিবিষয়ক গুইউইল অ্যাম্বাসেডর। কিন্তু ইউনেসকোর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিনিধি নন এবং ইউনেসকোর কোনো পুরস্কার/সম্মাননা দেওয়ার এখতিয়ার রাখেন না।’
‘সুতরাং উল্লিখিত বাস্তবতার নিরিখে বাংলাদেশ ইউনেসকো জাতীয় কমিশন ড. মুহাম্মদ ইউনূস পরিচালিত ইউনূস সেন্টারের পাঠানো এবং প্রচারিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং প্রতারণামূলক বলে মনে করে এর নিন্দা জানাচ্ছে। বাংলাদেশ ইউনেসকোর অন্যতম সক্রিয় সদস্যরাষ্ট্র। ভবিষ্যতে ইউনেসকোর মতো জাতিসংঘের এমন একটি মর্যাদাপূর্ণ এবং সুখ্যাতিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নাম অপব্যবহার থেকে ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং ইউনূস সেন্টারকে সতর্ক করা হলো।’





