বিএনপির ৮০ শতাংশ নেতা-কর্মী নির্যাতনের শিকারঃ মির্জা ফখরুল

196

ঢাকাঃ বিরোধী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপির ৮০ শতাংশ নেতাকর্মী ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

তিনি বলেন, “নির্যাতন ও জনগণকে দমন করা ছাড়া তারা ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবে না। তাদের দমন-পীড়নের প্রথম শিকার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, যার জন্য তিনি লড়াই করছেন।”

বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) রাজধানী ঢাকার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ আয়োজিত গুমের শিকার পরিবারের সদস্যদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ফ্যাসিস্ট সরকার বা একদলীয় শাসনের বিরুদ্ধে বিএনপি আন্দোলন শুরু করলে নেতা-কর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন শুরু করে তারা।

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, “তারা এমন ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে, যেখানে কেউ স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছে না, লিখতেও পারছে না।”

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের দমন-পীড়ন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বিরোধী দলের নেতা-কর্মীর বাবা-মা, ছেলে–মেয়ে ও স্ত্রীসহ পরিবারের অন্য সদস্যরাও রেহাই পায়নি।

তিনি আরও বলেন, জামিন পেয়ে কারাগার থেকে বের হয়ে নখ উপড়ে ফেলা, পা ভাঙাসহ নানা অমানবিক নির্যাতনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন ভুক্তভোগীরা। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, তারা কোনো চিকিৎসা করাতে পারেননি।

সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “এই ভয়াবহ অবস্থা থেকে দেশকে মুক্ত করতে একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা আমাদের সামর্থ্যের চেয়ে বেশি কাজ করে যাচ্ছি।”

তিনি বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য ১৯৬৯, ১৯৭১, ১৯৯০ সালের মতো ঐক্য গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। সেসময় জনগণ একতাবদ্ধ হয়ে ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল।

এদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, “২০০১ সালের পর বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় আওয়ামী লীগের প্রায় ২১ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে।” বুধবার (২৭ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।

স্বৈরশাসনের গর্ভে জন্ম নেওয়া বিএনপি মহান মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্রের আদর্শ ও মূল্যবোধকে ধ্বংস করার অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, “বিএনপি নেতাদের উচিত অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের জন্য জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া। কিন্তু তারা তা না করে বরাবরের মতো অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দিচ্ছেন।”

তিনি বলেন, আজকে গণতন্ত্রের ঘাতকরা যখন গণতন্ত্রের কথা বলেন, তার মানে তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন।

গণতন্ত্রের প্রতি বিএনপির কোনো দায়বদ্ধতা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, “গণতন্ত্রের জন্য এটা তাদের মায়াকান্না ছাড়া আর কিছুই নয়।”

ওবায়দুল কাদের বলেন, গণতন্ত্রের জন্য তাদের কান্না মূলত দেশকে ১ অগাস্ট গ্রেনেড হামলার মাস্টারমাইন্ড, হাওয়া ভবনের মাস্টারমাইন্ড, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বরপুত্র তারেক রহমানের দুঃশাসনের যুগে দেশকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া।

তিনি আরও বলেন, “এ দেশে গণতান্ত্রিক আদর্শ বাস্তবায়নে বিএনপি প্রধান বাধা। … এই অন্ধকারের অপশক্তির বিরুদ্ধে এ দেশের গণতান্ত্রিক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক সমাজ আজ ঐক্যবদ্ধ।”

পূর্বের খবর২ কিলোমিটার দৌড়াতে গিয়ে ধরাশায়ী আজম খান
পরবর্তি খবরমুসলমানদের চট্টগ্রাম বিজয়ের স্মারক যে মসজিদ