দেশে এখন গণভোটের চেয়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণাগার তৈরি বেশি জরুরি: তারেক রহমান

99

ঢাকাঃ বর্তমান পরিস্থিতিতে এখন গণভোটের চেয়ে অনেক বেশী জরুরি প্রয়োজন দেশে পেঁয়াজ সংরক্ষণাগার তৈরি  এবং অধিক হারে পেঁয়াজ চাষে মনোযোগী হওয়া বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

জনগণের বিপুল পরিমাণ টাকা দিয়ে গণভোট আয়োজনের চেয়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণাগার তৈরি করা বেশি জরুরি বলে গুরুত্ব আরোপ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। গতকাল রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, ‘আলুচাষীদের যে পরিমাণ ভর্তুকি প্রয়োজন, সেই অর্থ দিয়েই গণভোট আয়োজনের চিন্তা করা হচ্ছে। অথচ গণভোটের চেয়ে আলুচাষীদের ন্যায্যমূল্য পাওয়া বেশি প্রয়োজন। জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা দিয়ে গণভোট আয়োজনের চেয়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণাগার তৈরি করা বেশি জরুরি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এসব বাস্তব সমস্যা নিয়ে কথা বলার মতো দেশে কেউ নেই।’

তিনি আরো বলেন, ‘দেশে বেকারত্বের হার বেড়েই চলেছে। সম্প্রতি একটি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের রিপোর্টে বলা হয়েছে দেশে বর্তমানে দারিদ্র্যের হার ২৮ শতাংশ। আরো ১৮ শতাংশ মানুষ যেকোনো সময় গরিব হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। দেশে শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার বাড়ছে। দেশে উচ্চমাধ্যমিক এবং গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রিধারী প্রতি পাঁচজনের একজন বেকার। সম্প্রতি বিজিএমইএ জানিয়েছে, গত ১৪ মাসে সাভার, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীতে কমপক্ষে ৩৫৩টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ১ লাখ ২০ হাজারের মতো শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। কর্মহীন এসব মানুষের কাছে রাষ্ট্রের হাজার টাকা ব্যয় করে কথিত ‘গণভোটের’ চেয়ে একটি চাকরি কি বেশি জরুরি নয়?’

নারী কর্মসংস্থান ইস্যুতেও উদ্বেগ প্রকাশ করে তারেক রহমান প্রশ্ন তোলেন, ‘কর্মঘণ্টা কমানোর নামে নারীদের চাকরিতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে না তো? পোশাক কারখানায় যদি নারীরা ৮ ঘণ্টার বদলে ৫ ঘণ্টা কাজ করেন, তাহলে বাকি সময়ের মজুরি কে দেবে? এতে কি তাদের কাজের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে না?’

তিনি বলেন, ‘গণভোটের চেয়ে নারীদের মধ্যে চাকরি সংকুচিত হওয়ার আতঙ্ক দূর করা বেশি প্রয়োজন। একজন কর্মহীনের চাকরি সৃষ্টি করাই আজ সবচেয়ে জরুরি।’

তারেক রহমানের দাবি, দেশে এখন গণভোট নয়, প্রয়োজন কৃষক, শ্রমিক ও কর্মহীন মানুষের বাস্তব সমস্যার সমাধান।

তারেক রহমান বলেন, ‘আনফরচুনেটলি আমরা মাসের পর মাস রাষ্ট্র মেরামতের নানা উপাদান নিয়ে আলোচনা করলেও এই রাষ্ট্রের লাখ লাখ বেকারের কর্মসংস্থান নিয়ে আলোচনার জন্য একটি দফাও উত্থাপন করিনি বলেই মনে হয়। দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। এত সংস্কার কমিটি হলো অথচ একটি শিক্ষা সংস্কার কমিটি করা হলো না।’ তার মতে, ‘তথাকথিত গণভোট’ নিয়ে গবেষণার পরিবর্তে শিক্ষা সংস্কার নিয়ে গবেষণা সবচেয়ে বেশি জরুরি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি কোনো কোনো রাজনৈতিক দল নানা শর্ত দিয়ে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে বাধা সৃষ্টি করতে চাইছে। জাতীয় নির্বাচন নিয়ে জটিলতা সৃষ্টির অর্থ একদিকে নির্বাচন না করেই রাষ্ট্রযন্ত্রে খবরদারির সুযোগ গ্রহণ করা, অন্যদিকে পতিত পরাজিত পলাতক স্বৈরাচারের পুনর্বাসনের পথ সুগম করা। পলাতক স্বৈরাচারীর সহযোগীরা গত কয়েকদিন খোদ রাজধানীতে যেভাবে আগুন-সন্ত্রাস চালিয়েছে ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির করণীয় সম্পর্কে এটি একটি সতর্কবার্তা হতে পারে বলে আমি মনে করি। ’

তিনি বলেন, ‘দেশ এবং জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং জনসমর্থিত দল হওয়া সত্ত্বেও ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য অটুট রাখার ব্যাপারে বিএনপি সর্বোচ্চ ছাড় দিয়েছে। এটি কথার কথা নয়, এটি প্রমাণিত সত্য। রাজনৈতিক ঐকমত্য কমিশনের প্রতিটি দফা পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, বিএনপি অধিকাংশ পয়েন্টেই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দিয়েছে। আমাদের বক্তব্য পরিষ্কার, জুলাই সনদে যা অঙ্গীকার করা হয়েছে বিএনপি এসব অঙ্গীকার রক্ষা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তবে কোনো রাজনৈতিক দল যদি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দুর্বল পেয়ে যা ইচ্ছা তাই আদায় করে নিতে চায় কিংবা বিএনপির বিজয় ঠেকাতে অপকৌশলের আশ্রয় গ্রহণ করে সেটি শেষ পর্যন্ত তাদের নিজেদের জন্যই রাজনৈতিক বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায় কিনা, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকা দরকার।’

পূর্বের খবরনির্বাচনের দিনই হবে গণভোট ড. ইউনূসের সিদ্বান্ত
পরবর্তি খবরআগে গণভোট, পরে সংসদ—আইনের প্রচলিত ধারণার পরিপন্থী: শাহদীন মালিক