ঢাকাঃ একজন কেরামত মাওলা। সংস্কৃতির পরিমন্ডলে যাকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেবার প্রয়োজন পড়ে না। নিভৃতচারী অনবদ্য এক অভিনয় শিল্পী এবং চিত্রকর। “সূর্য দীঘল বাড়ি” ছবিতে জয়গুনের স্বামী, করিম বক্স চরিত্রে আজও আমি এই শিল্পীর বিকল্প কোন শিল্পী ভাবতেই পারিনা। তেমনি “মহানায়ক” ছবির যোশী, “রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত” ছবির ডা. নাথ, “পদ্মা নদীর মাঝি” ছবির নকুলের বিকল্প খুঁজে পাইনা।
মসিহউদ্দিন শাকের ভাইয়ের সঙ্গে তেমন একটা কথা হতো না, কিন্তু শেখ নিয়ামত আলী ভাইয়ের সঙ্গে প্রায়ই আড্ডা হতো। মাঝে মাঝেই প্রশ্ন করতাম, একজন কেরামত মাওলা না থাকলে “সূর্য দীঘল বাড়ি” কেমন করে হতো। উনি ‘হো হো’ করে হাসতেন। “সৎ মানুষের খোঁজে” মঞ্চ নাটকের একটি চরিত্র যেন তার জন্য নির্ধারিত ছিলো। বছরের পর বছর এই নাটকটি যতবার মঞ্চায়িত হয়েছে তিনি সেই চরিত্রে অভিনয় করে গেছেন। মঞ্চ, বেতার, চলচ্চিত্র এবং টেলিভিশনের এই অভিনয় শিল্পী মূলত একজন চিত্রকর। ১৯৫৯ সালে ঢাকা আর্ট কলেজে ভর্তি হন তিনি। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন সহ অনেক খ্যাতিমান অংকন শিল্পীকে তিনি শিক্ষক হিসেবে পেয়েছেন। অভিনয় করতেন আগে থেকেই। শিক্ষকরা তাঁর অংকন প্রতিভার পাশাপাশি, অভিনয়ের প্রশংসা করতেন এবং তা অব্যাহত রাখার অনুরোধ করতেন।

ঢাকা টেলিভিশন শুরু হবার পর তিনি সেখানে শিল্প নির্দেশক হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির নাট্য, চলচ্চিত্র ও গণমাধ্যম বিভাগের খণ্ডকালীন অধ্যাপক। তাঁর অভিনীত মঞ্চ নাটকের সংখ্যা ৩৬টি, টেলিভিশন নাটকের সংখ্যা ১৫০টি, পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের সংখ্যা ১৫টি এবং স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের সংখ্যা ৬টি।
অভিনয় জীবনে পেয়েছেন “একুশে পদক”, জাতীয় টেলিভিশন পুরস্কার, শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার, থিয়েটার উৎসবে শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার, উৎপল দত্ত সম্মাননা, মুনীর চৌধুরী পদক সহ আরও অনেক পুরস্কার, পদক ও সম্মাননা। ১৯৪২ সালের ১৫ নভেম্বর যশোরে জন্মগ্রহণ করেন কেরামত মাওলা। জন্মদিনে শুভেচ্ছা, শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা এই শিল্পীর প্রতি।

ছবিঃ (বামে) কেরামত মাওলা। ১৯৫৯ সালে কেরামত মাওলা সহ চার বন্ধু পায়ে হেঁটে ঢাকা থেকে চিটাগং যাবার পথে তোলা ছবি। অমর্ত্য সেনের সঙ্গে। দুটি পারিবারিক ছবি।





