হরিদাসের আসল পরিচয়, তার পেছনের মাস্টারমাইন্ড কিংবা তার চূড়ান্ত মিশন কী—তা সাধারণ মানুষের কল্পনারও বাইরে। উত্তরাঞ্চলের পলাশবাড়ীর মাটিতে আজ যে মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে, সেটি কোনো সাধারণ উপাসনালয় নয়। এটি একটি “ট্রোজান হর্স”। মাস্টারমাইন্ডদের ছক অত্যন্ত নিখুঁত। ধর্মের আবেগকে ঢাল বানিয়ে হরিদাসকে প্রথমে জনমানসে এক অলৌকিক বা পরমেশ্বর রূপ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু আসল খেলা শুরু হবে এর পর। ধর্মের এই মোহ তৈরি করে হরিদাস ধাপে ধাপে প্রবেশ করবে মূলধারার জাতীয় রাজনীতিতে। রাষ্ট্রযন্ত্রের শীর্ষ ক্ষমতা, সংসদ কিংবা নীতি-নির্ধারণী আসনগুলো একে একে চলে যাবে হরিদাসের কব্জায়। ততদিনে আর কিছুই করার থাকবে না।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে শত কোটি টাকা ব্যয়ে শিবমূর্তি নির্মাণ করা, ধর্মান্তরিত তাওহীদ ইসলাম ওরফে হরিদাস কি ভারতীয় এজেন্ট হিসেবে বাংলাদেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছে ?
হরিদাস ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় অবৈধ উপায়ে ভারতে আত্মীয়ের বাসায় চলে যান।
সেখানকার পঞ্চায়েত প্রধানের কাছে থেকে এতিম সার্টিফিকেট নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন ও ইলেক্ট্রনিক বিষয়ে দুই বছরের বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
২০১০ সালে দেশে ফিরে রাজধানীর উত্তরায় পুরাতন এসি মেকানিকের কাজ শুরু করেন।
২০১৮ সালে সবজি বিক্রেতার সাথে সাবলেট বাসা ভাড়া নেন। সেখানেই বিয়ে ও ২০১৯ সালে ধর্মান্তরিত হয়ে তাওহীদ ইসলাম নাম ধারণ করেন।
সেই সময় জিজ্ঞাসাবাদে হরিদাস র্যাবকে জানান, তার শ্বশুরের পরিচয়ে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া এলাকায় কিছু জমি ক্রয় করেন।

শ্বশুড়ের মাধ্যমে এলাকার লোকের সাথে নিজেকে একজন বিত্তশালী লোক হিসেবে পরিচিত হন।
পাশাপাশি প্রচার করতে থাকেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের প্রটোকল অফিসার।
দামি গাড়ি হাঁকিয়ে এবং পোশাক পরিধান করে স্থানীয় রাজনীতিবিদ, গণ্যমান্য বিত্তশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে পরিচয় ও সখ্যতা গড়ে তোলেন।
প্রধানমন্ত্রীর নিকটাত্মীয়ের সহায়তায় প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক প্রজেক্টে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখান।
এ ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি দপ্তর থেকে অর্থ এবং উন্নয়ন মূলক কাজ করতে তাদেরকে আশ্বস্ত করতেন।
তার মিষ্টি আচরণে প্রলুব্ধ হয়ে অনেকেই চাকুরি, বদলি, টেন্ডারসহ বিভিন্ন বিষয়ে তদবির নিয়ে তার কাছে আসা শুরু করেন।

তিনি এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চাকুরি প্রত্যাশী, পছন্দমত জায়গায় বদলি, সরকারি চাকুরি, বিভিন্ন ক্রয়-বিক্রয় ও উন্নয়নমূলক কাজের টেন্ডারে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে কাজ বাগিয়ে এনে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাত শুরু করেন।
এ সময় র্যাব আরো জানায়, হরিদাসের সঙ্গে গ্রেফতার হওয়া ইমরান মেহেদী হাসান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কর্মরত তার বিভিন্ন সহযোগীসহ অন্যান্য ক্লায়েন্ট সংগ্রহ করে হরিদাসের নিকট নিয়ে আসতেন।
এ সময় হরিদাস স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বিভিন্ন পদে চাকুরি, পদোন্নতি এবং দলীর বিষয়ে আশ্বাস দিয়ে মোটা অংকের অর্থ আত্মসাত করেন।
মজার ব্যাপার হলো- RAB কমান্ডার মঈন বলেন, গ্রেফতারকৃত হরিদাস অত্যন্ত বচনপটু।
একবার তার সাথে কেউ পরিচিত হলে তার প্রতারণার খপ্পর হতে বের হতে পারতো না।
তিনি প্রতারণার মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে ২০১৯ সালে ফুলবাড়িয়া এলাকায় প্রায় এক বিঘা জমি ক্রয় করে প্যারিস সুইমিংপুল এন্টারটেইনমেন্ট পার্ক নামে রিসোর্টের কাজ শুরু করেন।
![]()
সেখানে তার প্রলোভনে পড়ে অনেকেই টাকা লেনদেনের রসিদ ছাড়া তাকে লাখ লাখ টাকা লগ্নি করেন।
২০২০ সালে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে রিসোর্টের কাজ শেষে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেন।
রিসোর্টে প্রবেশ মূল্য ৫০ টাকা, সুইমিংপুলে গোসল ১০০ টাকা এবং রিসোর্টের ভিতরে ঘোরাঘুরির জন্য ৫০ টাকা করে টিকেট বিক্রি করা শুরু করেন।
অনেকে বিবাহ, জন্মদিনসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য তার রিসোর্ট ভাড়া নিতে থাকে।
শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরনীদাস বিভিন্ন বিত্তশালী ব্যক্তিদের তার রিসোর্টে আমন্ত্রণ জানাতেন।

এসময় তাদেরকে পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে তার এডিট করা ছবি প্রদর্শন করে তার প্রজেক্টসহ অন্যান্য প্রজেক্টে বিনিয়োগ করার কথা বলে অর্থ হাতিয়ে নেন।
প্রতারণার কৌশল সম্পর্কে র্যাব কর্মকর্তা আরও বলেন, তার মোবাইলে বিভিন্ন নম্বর প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের এবং তাদের নিকটাত্মীয়ের বিভিন্ন সদস্যদের নামে সেইভ করে ও কল দিয়ে দেখাতেন।
নিজেকে প্রভাবশালী বলে জাহির করতেন। যদিও প্রকৃতপক্ষে তার কোন রাজনৈতিক নেতা বা কর্মীর সাথে পরিচয় নেই। তার কোন দলীয় পরিচয় নেই। প্রতারণা করে অর্থ উপার্জনই তার মূল লক্ষ ও পেশা।
সুতরাং উল্লেখিত প্রতারক শ্রী হরিদাস চন্দ্র যেহেতু RAB এর হাতে আটক হয়ে, পরবর্তীতে জামিনে মুক্তি পেয়ে গাইবান্ধা জেলা ও পলাশবাড়ি উপজেলার সংশ্লিষ্ট প্রশাসনসহ সকল মহলকে ম্যানেজ করে পলাশবাড়ির কোমরপুরে এশিয়া মহাদেশের মধ্যে সর্বোচ্চ দাবি করে রাধা গোবিন্দের মন্দির স্থাপন করেন।
তাই তার টাকার উৎস খুঁজতে, তাঁকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা দরকার।
হরিদাস একদিকে ভারতীয় নাগরিক, অন্যদিকে ধর্মান্তরিত তাওহীদ ইসলাম। এখন তিনি আবার হিন্দু ধর্মের ত্রাণকর্তা।
বাংলাদেশের সাধারণ হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ হিসেবে আমাদের খোঁজা দরকার হরিদাসের ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে মন্দির নির্মাণ ও ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা শিবমূর্তি স্থাপনের পেছনের উদ্দেশ্য কি?
এছাড়া হরিদাস আরও কিছু বৃহৎ আকৃতির মূর্তি নির্মাণের কারণ কি ?
হরিদাস কি ভারতীয় এজেন্ট হয়ে বাংলাদেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছে ?
নাকি হরিদাস মুসলমান সম্প্রদায়ের অধ্যুষিত এলাকায় মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষদের উত্তেজিত করার চেষ্টা করছে।
বাংলাদেশের সাধারণ হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ হিসেবে আমরা হরিদাসের এমন কর্মকাণ্ডে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
আমরা চাই না ভারতীয় নাগরিক ও ধর্মান্তরিত হরিদাস বাংলাদেশের সাধারণ হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের জীবন নিয়ে টানাটানি করুক।
প্রতারক হরিদাস সম্পর্কে জানতে চাইলে পলাশবাড়ীর হরিদাস লিখে গুগলে সার্চ দেন।
তারপর বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদ পত্রে প্রকাশিত তাঁর প্রতারণার খবর গুলিতে চোখ বুলিয়ে নিন।
তবে দুঃখজনক বিষয় হলো বাংলাদেশের সনাতনী হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ কি সত্যিই বোকা, নাকি এরা অতিরিক্ত ভারতপ্রেমী ?
যার কারণে হরিদাসের মতো আন্তর্জাতিক মানের একজন প্রতারক আজ হিন্দু ধর্মের গুরু ঠাকুর হলেন ?





