আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের লোকসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। এরইমধ্যে চতুর্থ দফার ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। এর মধ্যদিয়ে সম্পন্ন হলো দেশটির প্রায় ৭২ শতাংশ আসনের ভোট। তবে নির্বাচন শুরুর আগেই যেভাবে মনে করা হচ্ছিল নরেন্দ্র মোদি সরকার বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরবে- নানা কারণে সেই আত্মবিশ্বাস কমেছে খোদ বিজেপি শিবিরেও।
ভারতের লোকসভা নির্বাচনের চতুর্থ দফায় ভোট পড়েছে আগের তিন দফার চেয়ে তুলনামূলকভাবে কিছুটা বেশি। প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় ভোট পড়ে গড়ে ৬৬ শতাংশ। তৃতীয় দফায় ৬২ শতাংশ আর চতুর্থ দফায় ভোট পড়েছে ৬৭ শতাংশ। চতুর্থ দফার ভোটের লাইনে পুরুষের তুলনায় নারী ভোটারের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

চার দফার ভোটে দেশটির প্রায় ৭২ শতাংশ আসনের নির্বাচন সম্পন্ন হয়ে গেছে। এবার নজর পঞ্চম দফার ভোটের দিকে।
এদিকে ভারতের জাতীয় লোকসভা নির্বাচনের পর্বগুলো শেষ হতেই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও উত্তেজনা বাড়ছে। শুধু রাজনৈতিক দলই নয়, আগামী পাঁচ বছর একটি শক্তিশালী সরকার থাকবে নাকি দুর্বল জোট সরকার আসবে, আর সে সরকার এলেও ভারতের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে নাকি দুর্বল হবে- এমন চিন্তায় দেশের শেয়ারবাজারেও শুরু হয়েছে চরম অস্থিরতা।
গত কয়েকদিনে ১০ লাখ কোটি টাকার বিনিয়োগ খুঁইয়েছেন লগ্নিকারীরা। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই অবস্থা চলতে থাকলে ভারতের শেয়ারবাজার ‘পতনের রেকর্ড’ ছুঁয়ে ফেলবে।
এবার বিজেপির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে নানা ইস্যু প্রকাশ্যে আসায় বেশ কয়েকটি রাজ্যে ভালো ভোটের আশা করলেও, তা ঘুরে যেতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে দলটির নেতাকর্মীদের। যেমন, কর্ণাটকের জোট শরিক জেডিএস সংসদ সদস্য প্রাজ্জ্বল রেভান্নার যৌন কেলেঙ্কারির তথ্য ফাঁস হওয়ায় যেমন রাজ্যটিতে ভোট হারানোর ভয় রয়েছে, একইসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে বশিরহাটের সন্দেশখালির নারী নির্যাতন ইস্যুতেও স্থানীয় কয়েকজন বিজেপি নেতানেত্রীর ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় মমতার বাংলায় ধাক্কা খেতে পারে গেরুয়া শিবির। এছাড়াও উত্তরপ্রদেশের ইন্ডিয়া জোটের শরিকদের সমঝোতার কারণে সেখানে বিজেপিবিরোধী লড়াই জমেছে বলেও মনে করা হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে চার দফার ভোটের পর দেশটির গণমাধ্যম, টকশোর আলোচকরা বলছেন, মোদি ফিরলেও আসন কমবে বিজেপির। তাদের যুক্তি, দেশটিতে চার দফায় গড় ভোট পড়েছে ৬২ শতাংশের মতো। বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ১৫টি রাজ্যে গড় ভোট পড়েছে আরও কম।
যদিও নরেন্দ্র মোদি দাবি করেছেন, চার দফার ভোটের মধ্যদিয়ে বিজেপির ৪০০ আসনের টার্গেট পূরণ হয়েছে। তবে পাল্টা জবাব দিয়েছেন মমতা বন্দোপাধ্যায়ও। বলেছেন, মোদির দল বা এনডিএ জোট ইন্ডিয়া জোটের চেয়েও কম আসন পাবে। তার দাবি, বিজেপি ১৯০ থেকে ১৯৫ আসন আর ইন্ডিয়া জোট ৩১৫ আসন পেতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ১৯ এপ্রিল শুরু হওয়া লোকসভা নির্বাচনের চার দফায় ভোটগ্রহণ হয়েছে ৩৭৯ আসনে। ৫৪৩ আসনের পরের তিন দফায় ভোট হবে ১৬৪ আসনে। আগামী ২০ মে পঞ্চম দফার ভোটগ্রহণ হবে। মোট সাত দফায় ভোটের পর ফল প্রকাশ হবে আগামী ৪ জুন।





