মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা ৩৩০ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে

198
এর আগে তাদের ফেরত নিতে মিয়ানমার সরকারের ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী নৌ-বাহিনীর জেটি ঘাটে আসে। একটি স্পিডবোটে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত অং কিউ মোয়ের নেতৃত্বে তাঁরা ইনানী ঘাটে পৌঁছেন।

প্রতিনিধিদলের আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম।

মিয়ানমার থেকে আসা ওই ৩৩০ জনকে সকালে উখিয়া ও টেকনাফ থেকে ইনানী নৌবাহিনীর জেটিঘাটে নিয়ে আসা হয়। এ সময় নিরাপত্তার জন্য বন্ধ রাখা হয় কক্সবাজার–টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক।

হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নাসিম আহমেদ, জেলা পুলিশ সুপার মাহফুজুল ইসলাম প্রমুখ।

 

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী নৌবাহিনী জেটিঘাট থেকে তাঁদের জাহাজে তোলা হয়। ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪।
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী নৌবাহিনী জেটিঘাট থেকে তাঁদের জাহাজে তোলা হয়। ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪।

 

 

মিয়ানমারের রাখাইনে সংঘর্ষ

এ বছরের ২ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে বাংলাদেশের বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ওপারে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সঙ্গে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সংঘর্ষ চলছে। ৪ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত তিনটা থেকে দুই পক্ষের মধ্যে থেমে থেমে গোলাগুলি ও মর্টার শেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটছে। পরদিন নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের জলপাইতলী গ্রামের একটি রান্নাঘরের ওপর মিয়ানমার থেকে ছোড়া মর্টার শেলের আঘাতে দুজন নিহত হন। নিহত দুজনের মধ্যে একজন বাংলাদেশি নারী, অন্যজন রোহিঙ্গা পুরুষ। এ ছাড়া মিয়ানমারের সেনা, সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্য, শুল্ক কর্মকর্তাসহ ৩৩০ জন বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে।

 

মিয়ানমার সীমান্তে সংঘর্ষ ও উত্তেজনা। ফাইল ছবি।
মিয়ানমার সীমান্তে সংঘর্ষ ও উত্তেজনা। 

 

উল্লেখ্য, জাতিগত সংখ্যালঘু রাখাইন আন্দোলনের প্রশিক্ষিত ও সুসজ্জিত সামরিক শাখা আরাকান আর্মি। তারা মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে স্বায়ত্তশাসন চায়।

আরাকান আর্মি সশস্ত্র জাতিগত গোষ্ঠীর একটি জোটের সদস্য। তারা সম্প্রতি মিয়ানমারের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি কৌশলগত অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করেছে। মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মি এবং তা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির সঙ্গে থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স নামে একত্রে কাজ করে আরাকান আর্মি। এই জোট, ২০২৩ সালের ২৭ অক্টোবর চীন সীমান্তবর্তী উত্তরাঞ্চলীয় শান রাজ্যে একটি সমন্বিত আক্রমণ শুরু করে।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারের কাছ থেকে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকে এই অভিযান মিয়ানমারের সামরিক শাসকদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ জোটের বরাত দিয়ে অ্যাসোসিয়েট প্রেস (এপি) জানিয়েছে, তারা ২৫০টির বেশি সামরিক চৌকি, পাঁচটি সরকারি সীমান্ত ক্রসিং এবং চীন সীমান্তের কাছে একটি বড় শহরসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর দখল করে নিয়েছে।

২০১৭ সালের ২৫ অগাস্ট মিয়ানমারের সেনাবাহিনী উত্তর রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে হিংসাত্মক অভিযান শুরু করে। যা ছিল আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে গুরুতর অপরাধ। তখন সেনাবাহিনী গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়। সেনাবাহিনীর নৃশংস অভিযানের ফলে, সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের অন্তত ৭ লাখ ৪০ হাজার সদস্য সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। রাখাইনের পুরোনো নাম আরাকান।

পূর্বের খবরজাপানকে টপকে জার্মানি এখন ৩য় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ
পরবর্তি খবরএকদিনে কারামুক্ত ফখরুল-খসরুর সহ বিএনপি’র ৩ নেতা