চলতি বছর বিশ্ব সুখী দেশের তালিকায় ১১ ধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশ রয়েছে ১২৯তম অবস্থানে। গত বছর এ অবস্থান ছিল ১১৮। সেই প্রতিবেদনে দেখা গেছে চলতি বছর বিশ্বের সুখী দেশগুলোর মধ্যে রাজত্ব করছে নর্ডিক দেশগুলো
টানা সাত বছর ধরে বিশ্বের সুখী দেশগুলোর মধ্যে রাজত্ব করছে উত্তর ইউরোপীয় দেশ ফিনল্যান্ড। আর সবচেয়ে কম সুখী দেশ হল আফগানিস্তান। এছাড়া গতবারের মত এবারও তালিকায় পিছিয়েছে বাংলাদেশ।
বিশ্বের সুখী দেশ নিয়ে বার্ষিক তালিকা ‘ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট ২০২৪’ এ উঠে এসেছে এ তথ্য। আজ ২০ মার্চ আন্তর্জাতিক সুখ দিবসে বিশ্বের সুখী দেশের তালিকা প্রকাশ করা হয়ে থাকে।
জাতিসংঘের পৃষ্ঠপোষকতায় বিশ্বের ১৪৩টি দেশকে নিয়ে এ সংক্রান্ত জরিপ করা হয়।
খবর সিএনএন।
২০২৪ সালের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ রয়েছে ১২৯তম অবস্থানে। গত বছর এ অবস্থান ছিল ১১৮। সে হিসাবে এ বছর বাংলাদেশের অবস্থান ১১ ধাপ পিছিয়েছে। এছাড়া ২০২২ সালে বাংলাদেশ ছিল তালিকার ৯৪ নম্বরে।
ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট ২০২৪ তালিকায় গত সাত বছরের মত এবারও শীর্ষে রয়েছে ফিনল্যান্ড। সেখানকার মানুষের ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের তিন বছরের গড় জীবনযাপনের ওপর মূল্যায়ন করে তালিকা করা হয়েছে।
ফিনল্যান্ডের মানুষের এতটা সুখী হওয়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে, প্রকৃতির সঙ্গে তাঁদের নিবিড় সান্নিধ্য, সেই সঙ্গে স্বাস্থ্যসম্মত কর্মজীবন বলছেন গবেষকরা।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে চলতি বছর বিশ্বের সুখী দেশগুলোর মধ্যে রাজত্ব করছে নর্ডিক দেশগুলো। ফিনল্যান্ড ছাড়াও এ অঞ্চলের আরও তিনটি দেশ ডেনমার্ক, আইসল্যান্ড ও সুইডেন প্রথম পাঁচটি সুখী দেশের মধ্যে রয়েছে।
এছাড়া তালিকার ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম ও দশম স্থানে রয়েছে যথাক্রমে নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, লুক্সেমবার্গ, সুইজারল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া।
অন্যদিকে তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশ পাকিস্তান ১০৮তম, মিয়ানমার ১১৮তম, ভারত ১২৬তম অবস্থানে রয়েছে।
তবে বিশ্বের সুখী দেশের তালিকার সর্বনিম্নে রয়েছে আফগানিস্তানের অবস্থান। ২০২০ সালে দেশটির শাসনক্ষমতায় তালেবান আসার পর থেকেই দেশটি এক নজিরবিহীন মানবিক সংকটে রয়েছে।
জাতিসংঘের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রকাশিত হয়েছে বিশ্বের সুখী দেশের বার্ষিক তালিকা। বুধবার (২০ মার্চ) আন্তর্জাতিক সুখ দিবসে বিশ্বের ১৪৩টি দেশ নিয়ে করা জরিপে দেখা গেছে, সুখী দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১২৯তম। আর ১০৫তম অবস্থানে রয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন।
দেশভিত্তিক মানুষের ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের তিন বছরের গড় জীবনযাপনের ওপর মূল্যায়ন করে এ তালিকা করা হয়েছে। ছয়টি সূচকে নির্ধারিত হয়েছে এই অবস্থান। সূচকগুলো হলো— মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি), সামাজিক সহায়তা, সুস্থ জীবনযাপনের প্রত্যাশা, জীবনযাপনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা, বদান্যতা, দুর্নীতি নিয়ে মনোভাব ও ডিসটোপিয়া।
২০২৩ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১১৮তম। সে হিসাবে এ বছর বাংলাদেশের অবস্থান ১১ ধাপ পেছাল। এছাড়া ২০২২ সালে বাংলাদেশ ছিল তালিকার ৯৪ নম্বরে।
অন্যদিকে ইউক্রেনের গত বছর অবস্থান ছিল ৯২তম। এবার তা পিছিয়ে ১০৫তম হয়েছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, রাশিয়ার আক্রমণের মধ্যেও তরুণ ইউক্রেনীয়রা নিজেদের সুখী মনে করে। সেখানে বয়স্ক লোকেরা সবচেয়ে কম সুখী। এছাড়াও দেশের সরকারের প্রতি তাদের মনোভাব, জীবনযাপনের প্রতি প্রত্যাশা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতার কারণে তারা এগিয়ে।
অপরদিকে বাংলাদেশের ৩০ বছরের কম তরুণ-তরুণী ও ৬০ বছরের বেশি বয়স্করা সুখী হলেও উচ্চ-মধ্যবয়সীদের (৪৫-৫৯ বছর) মধ্যে সুখের মাত্রা কমে গেছে। তালিকায় দেখা যায়, বাংলাদেশে সবচেয়ে কম সুখী হলো উচ্চ মধ্যবয়সীরা যাদের বয়স ৪৫-৫৯ এবং নিম্ন মধ্যবয়সী যাদের বয়স ৩০ থেকে ৪৪ বছর।







