অনলাইন ডেস্কঃ উত্তরবঙ্গে রাজ্য সরকারের তরফে দার্জিলিং, কালিম্পং এবং রায়গঞ্জে এই হেলি ট্যুরিজম চালু করার প্রকল্প নিয়েছে রাজ্য সরকার। এই হেলিকপ্টার সার্ভিস শুরু হলে উত্তরের পর্যটনে একটা নতুন দিশা খুলে যাবে। রাজ্যের পর্যটন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি হেলিপ্যাড তো থাকবেই। তার সঙ্গে থাকবে একটি ছোট টার্মিনাল বিল্ডিং বা ওয়েটিং লাউঞ্জ। ঠিক যেমন বিমানবন্দরে থাকে। তবে, হেলিপোর্টে থাকা টার্মিনাল হবে তুলনায় অনেক ছোট। সঙ্গে থাকবে নিরাপত্তা, যাত্রীদের মালপত্র এক্স-রে করার ব্যবস্থা। থাকবে দমকল বাহিনীও।

কেন্দ্রীয় সরকারের গতিশক্তি প্রকল্পের অধীনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছোট বিমানবন্দর ও হেলিপোর্ট তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের তিন শহরে হেলিপোর্টের টাকা আসবে ওই প্রকল্প থেকেই। আর হেলিপোর্ট তৈরি হবে রিজিওনাল কানেক্টিভিটি স্কিম (আরসিএস)-এর অধীনে। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের অধীনস্থ পবন হংস সংস্থাকে ওই তিনটি হেলিপোর্ট বানানোর বরাত দেওয়া হয়েছে।
*পর্যটকদের জন্য দারুন খবর। এবার উত্তরের পর্যটনের জুড়তে চলেছে নতুন পালক। উত্তরবঙ্গের তিন জেলায় তৈরি হবে হেলিবন্দর। ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে দার্জিলিং বরাবরই একটি আকর্ষণের স্থান। আর সেই দার্জিলিঙে এতদিন টয়ট্রেন ছিল অন্যতম আকর্ষণ। প্রতিবেদনঃ অনির্বাণ রায়।

*পাহাড়ের সৌন্দর্যকে ঘুরে দেখতে টয়ট্রেনের কোনও বিকল্প এতদিন ছিল না। তবে এবার থেকে আকাশ পথেও ঘুরে দেখা যাবে পাহাড়ের সেই অপরূপ সৌন্দর্য। হেলিকপ্টারে চড়ে আকাশ পথে পাহাড়ের সৌন্দর্য ঘুরে দেখতে পারবেন পর্যটকরা। বাংলার পর্যটনকে ঢেলে চালাতে রাজ্য এমনইটাই চিন্তাভাবনা করছে।

*দার্জিলিং ও রায়গঞ্জে হেলিপোর্টের জমি অধিগ্রহণ করে তুলে দেওয়া হয়েছে পবন হংসের কাছে। কালিম্পংয়ে জমি খোঁজার কাজ চলছে। নবান্ন সূত্রের খবর, ওই তিন হেলিপোর্ট নিয়ে পবন হংস শীঘ্রই ডিটেলস প্রজেক্ট রিপোর্ট (ডিপিআর) জমা দেবে। পর্যটন দপ্তরের কর্তাদের বক্তব্য, রাজ্যের অন্য সব জেলায় স্থায়ী হেলিপ্যাড থাকলেও উত্তর দিনাজপুরে নেই।

*অনেক সময়ই পাহাড়ে ধস? টয়ট্রেন বন্ধ? সড়কপথেও উপরে যাওয়া যাচ্ছে না? তারপরও যাতে পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগে কোনও অসুবিধা না হয় তার জন্য বড় পদক্ষেপ করতে চলেছে রাজ্য সরকার।

*হেলিকপ্টারে পাহাড় দর্শনের সুযোগ নিয়ে এসেছেন রাজ্য। এখন শুধু সার্ভিস শুরু হওয়া সময়ের অপেক্ষা। পশ্চিমবঙ্গ ইকো ট্যুরিজম দফতরের চেয়ারম্যান রাজ বসু বলেন, ‘হেলি ট্যুরিজম সারা বিশ্বেই একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জায়গা নিয়েছে। উত্তরবঙ্গে রাজ্য সরকারের তরফে দার্জিলিং, কালিম্পং এবং রায়গঞ্জে এই হেলি ট্যুরিজম চালু করার প্রকল্প নিয়েছে রাজ্য সরকার। এই হেলিকপ্টার সার্ভিস শুরু হলে উত্তরের পর্যটনে একটা নতুন দিশা খুলে দেবে।’

*পর্যটক রুপন রায় বলেন, ‘রাজ্য সরকার যদি হেলিকপ্টার সার্ভিস চালু করে তাহলে অনেক সুবিধা হয়, আমরা পাহাড়ে অনেক সময় ধসের মধ্যে আটকে পড়ার ঘটনা শুনেছি বৃষ্টি হলে পাহাড়ে যাওয়া মুশকিল হয়ে যায়। সেই জায়গা যদি এই সার্ভিস চালু হয় তাহলে দারুন হবে।’

*বছরের বিভিন্ন সময় দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পর্যটকরা পাহাড়ের টানে দার্জিলিং-সহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় এসে থাকেন। পাহাড়ের সৌন্দর্য এবং পাহাড়ের টান পর্যটকদের টানার পাশাপাশি আরও আকর্ষণ বৃদ্ধি করার জন্য একাধিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়ে থাকে বিভিন্ন সময়।

*দার্জিলিংয়ে হেলিকপ্টার পরিষেবা চালু হলে এ দেশের তো বটেই বিদেশের পর্যটকদেরও অনেক সুবিধা হবে। দার্জিলিং, কালিম্পংয়ের পাহাড়ি সৌন্দর্য পর্যটকরা আকাশ পথে দেখার সুযোগ পাবে। অন্যদিকে, রায়গঞ্জেও হেলিকপ্টার সার্ভিস চালু হলে ক্রস বর্ডার ট্যুরিজমের ক্ষেত্রে অনেক সুবিধা হবে।





