নবীজির ঈদ উদযাপন

208

নিউজ২১ডেস্কঃ ঈদ মানে খুশি। ঈদ মানে আনন্দ। ঈদ মানেই পছন্দের খাবার খাওয়া এবং ঘোরাঘুরি করা। আর ঈদের এই আনন্দকে বরণ করে নেওয়ার জন্য মুসলিম উম্মাহর সবাই অধীর আগ্রহে থাকে। ধনী-গরিব, উঁচু-নিচু সব মানুষ মেতে ওঠে ঈদের আনন্দ-উৎসবে। সব ভেদাভেদ ভুলে মানুষে মানুষে সৃষ্টি হয় সাম্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ। ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই এই একটি দিনের জন্য ভুলে যায় সকল হিংসা-বিদ্বেষ ও মান-অভিমান। সবার মাঝেই প্রকাশ পায় একরাশ ভালোবাসা ও বিনয়। বছর ঘুরে আবারো এসেছে সেই ঈদ।

আসুন জেনে নিই মুসলিম উম্মাহর এই ঈদের সূচনা এবং প্রিয় নবীজির ঈদ উদযাপন সম্পর্কে। নবীজি (সা.) মদিনায় যাওয়ার পর যখন দেখলেন সেখানকার লোকজন দুটি দিনকে খেলাধুলার মধ্য দিয়ে উদযাপন করে তখন তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, এ দুই দিনের কী তাৎপর্য আছে? তারা বলল, আমরা জাহেলি যুগে এ দুই দিনে খেলাধুলা করতাম। তখন তিনি বললেন, আল্লাহতায়ালা এ দুই দিনের পরিবর্তে তোমাদের জন্য এরচেয়ে শ্রেষ্ঠ দুটি দিন দিয়েছেন। তা হলো ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতর। (আবু দাউদ)  অতঃপর নবীজি (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের দ্বিতীয় বছর ঈদের প্রবর্তন হয়। (আবু দাউদ)

 

তবে তখনকার সময়ে বর্তমান ঈদের মতো এত এত নতুন জামা-কাপড় ও কেনাকাটার ধুমধাম না থাকলেও ঈদে আনন্দ-খুশির কোনো কমতি ছিল না। নবীজি (সা.) ঈদের দিন ছোট-বড় সবার আনন্দের প্রতিই খেয়াল রাখতেন, এমনকি মদিনার ছোট ছোট শিশু-কিশোরের সঙ্গে নবী (সা.) আনন্দ করতেন। তাদের কোনো বৈধ আনন্দ উদযাপনে বাধা দিতেন না। (সহিহ বুখারি)

আয়েশা (রা.) বলেন, একদা ঈদের দিন আবিসিনিয়ার কিছু লোক লাঠি নিয়ে খেলা করছিল। নবীজি (সা.) আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আয়েশা! তুমি কি লাঠিখেলা দেখতে চাও? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি তখন আমাকে তার পেছনে দাঁড় করান, আমি আমার গাল তার গালের ওপর রেখে লাঠিখেলা দেখতে লাগলাম। তিনি তাদের উৎসাহ দিয়ে বললেন, হে বনি আরফেদা! লাঠি শক্ত করে ধরো। অতঃপর আমি দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে পড়লাম। তিনি তখন বলেন, তোমার দেখা হয়েছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তাহলে এবার যাও। (সহিহ বুখারি ২৯০৭)

আর সাহাবিদের ঈদ আনন্দের ভাগাভাগির পদ্ধতিও ছিল ভিন্নরকম। পরস্পর দেখা হলে তারা দোয়ার মাধ্যমে ঈদের আনন্দ উদযাপন করতেন। যা ছিল প্রকৃত ঈদ আনন্দের অনন্য উদাহরণ। যেমন সাঈদ ইবনে জুবায়ের (রহ.) বলেন, ঈদের দিন সাহাবায়ে কেরাম একসঙ্গে হলে একে-অপরকে বলতেন, আল্লাহ কবুল করুন আমাদের থেকে এবং আপনাদের থেকে (সকল আমল)। (ফাতহুল বারি ২/৪৪৯)।

ইসলামে বৈধ আনন্দ-ফুর্তির ব্যবস্থা আছে। মুসনাদে আহমদের বর্ণনা, নবীজি (সা.) বলেন, ইহুদিরা যেন জানতে পারে আমাদের ধর্মে প্রশস্ততা আছে। নিশ্চয় আমি একনিষ্ঠ ও মহানুভব ধর্ম ইসলাম নিয়ে প্রেরিত হয়েছে। সুতরাং ঈদের আনন্দ হোক সকলের জন্য। আল্লাহতায়ালা আমাদের সকলের আমলগুলোকে কবুল করুন।

পূর্বের খবরগণভবনে দলীয় নেতাদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় প্রধানমন্ত্রীর
পরবর্তি খবরসারাদেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে উদ্‌যাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা