জিজিএফ এর প্রাক নির্বাচনী জনমত জরিপে বিএনপি: ২২১টি আসন, জামায়াতে ইসলামী: ৫১টি আসন

65

ঢাকাঃ দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৫ জন ভোট দিতে পারবেন। ভোটের লড়াই শুরুর আগেই নির্বাচনী মাঠের সমীকরণ নিয়ে নতুন এক চমকপ্রদ সব তথ্য উঠে এসেছে দেশে সুশাসন নিয়ে কজ করা একমাত্র সংস্থা  ‘গুড গভরনেন্স ফোরাম’ (জিজিএফ) -এর এক সাম্প্রতিক জরিপে।

সোমবার রাজধানীরমহাখালী (ডিওএইচএস) এক রেস্তোরাঁয় একসংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন– গুড গভরনেন্স ফোরাম এর মুখপাত্র এ কে এম শরিফুল ইসলাম খান।

এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ এর ভোটের জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের ৯০ শতাংশের বেশি জানিয়েছেন, তাঁরা এবারের নির্বাচনে ভোট দিতে চান। আর ১০ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা এখনো ভোট দেওয়ার বিষয়ে অনিশ্চিত বা ভোটে অংশ নেওয়ার বিষয়ে পরিকল্পনা করছেন না। এছাড়া দেশের ৪০ শতাংশ মানুষ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় গণভোট সম্পর্কে সচেতন। আর ২০ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়িত হবে। ৩০ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস নির্বাচন পরবর্তী গণভোট বাস্তবায়ন নিয়ে সন্দিহান। ৫০ শতাংশ নাগরিক নির্বাচন–পরবর্তী দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী। আর ৬০ শতাংশের বেশি মানুষ সহিংসতাবর্জিত নির্বাচন হবে বলে প্রত্যাশা করেন। মানুষ চান একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তাঁদের প্রত্যাশা, নির্বাচনে কোনো কারচুপি, ভয়ভীতি ও পক্ষপাত থাকবে না।

জরিপে দাবি করা হয়েছে, আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি বড় ব্যবধানে জয়লাভ করতে যাচ্ছে। জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপি মোট ভোটের ৭৭ শতাংশ এবং সংসদের ২২০টি আসন পেতে পারে। সংস্থাটি জানায়, তারা মাঠপর্যায়ে ভোটারদের সঙ্গে সংলাপ ও উপস্থিত জরিপ করেছে। সেখানে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকালে রাজধানীর মহাখালীর সেনাকল্যাণ টাওয়ারের তৃতীয় তলায় আমানা ফুড বিলের কনফারেন্স রুমে এক প্রেস ব্রিফিং এর মাধ্যমে এই জরিপের তথ্য প্রকাশ করা হয়। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মতামতের ভিত্তিতে দলভিত্তিক সম্ভাব্য অবস্থানগুলো হলো:

বিএনপি: ৭৩ শতাংশ সমর্থন (২২১টি আসন)

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: ১৬ শতাংশ সমর্থন (৫১টি আসন)

জাতীয় পার্টি: ৩ শতাংশ সমর্থন (৫টি আসন)

এনসিপি: ৫ শতাংশ সমর্থন (৪টি আসন)

স্বতন্ত্র ও অন্যান্য:৩  শতাংশ সমর্থন (১৯টি আসন)

 

গুড গভরনেন্স ফোরাম এর জনমত জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। সোসাইটি অব অনেস্ট ইচ বাংলাদেশী এবল – সেবা ও গুড গভরনেন্স ফোরাম (জিজিএফ) যৌথভাবে এই জরিপ করেছে।

সংস্থাটি দেশের ৬৪ জেলার ১৫০টি সংসদীয় আসনে ভোটারদের ওপর এই মতামত জরিপ করেছেন। মতামত জরিপে অংশ নিয়েছেন ১০ হাজার জন। ২০২৬ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত কয়েক ধাপে জরিপটি করা হয়।

জরিপ অনুযায়ী, ৯০ শতাংশের বেশি ভোটার ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও ১০ শতাংশ ভোটার এখনো অংশগ্রহণের বিষয়ে নিশ্চিত নন। ভোটারদের ৪০ শতাংশ প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতাকে প্রাধান্য দিতে চান এবং ৪৫ শতাংশ দল ও প্রার্থী উভয়কেই বিবেচনা করবেন বলে জানিয়েছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে দুর্নীতির ইস্যু। জরিপে ৭৩ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটার ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে দুর্নীতির ইস্যুটিকে গুরুত্ব দেবেন বলে জানিয়েছেন। ৩৩ দশমিক ৭ শতাংশ ভোটার ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে ধর্মকে গুরুত্বের সঙ্গে নেবেন বলে মত দিয়েছেন।এ ছাড়া ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে মানুষ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেবেন বলে জরিপে এসেছে।

রাজনৈতিক পছন্দের বিশ্লেষণে দেখা যায়, আগে আওয়ামী লীগকে ভোট দেওয়া ভোটারদের ৬৫ শতাংশ এখন বিএনপিকে পছন্দ করছেন। ১৭ শতাংশ জামায়াত, ৫ শতাংশ এনসিপি এবং ১০ শতাংশ অন্যান্য দলকে পছন্দ করছেন। ৩ শতাংশ ভোটার এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি।

জরিপের ফল অনুযায়ী, ২০০৮ সালের পর প্রথম ভোট দেবেন —এমন ভোটারদের ৪২ শতাংশ ৭ দশমিক  জানিয়েছেন, তাঁরা এবার ভোট বিএনপিকে দেবেন। ২১ দশমিক ৫ শতাংশ জামায়াতকে, ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ এনসিপিকে ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন। আর ২০ দশমিক ৫ শতাংশ এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে জানিয়েছেন।

 

নির্বাচন বিশ্লেষকগণ মনে করেন, জরিপের ফল যেমনই হোক, নির্বাচনের দিন পরিস্থিতি কেমন হবে, ভোটাররা কতটা নিরাপত্তা পাবেন, ভোট গ্রহণ কতটা সুশৃঙ্খল থাকবে—এসব বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে কত মানুষ ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে যাবেন।

আওয়ামী লীগ যেহেতু নির্বাচনে নেই, তাই তাদের ভোট এবার কোন দিকে যাবে, সেটি এখন গুরুত্বপূর্ণ। জরিপের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো এবারের নির্বাচনে অনেক মানুষ ভোট দেওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। তবে ভোটের দিনের পরিস্থিতি কেমন হবে, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, যে ১০ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্তহীন—নিরাপত্তা ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা ভালো না থাকলে তাঁদের অনেকে ভোটকেন্দ্রে না–ও যেতে পারেন। তখন এই ১০ শতাংশ হয়ে যেতে পারে ফলাফলের আসল পরিসংখ্যান।

ভোটের দিনের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নির্বাচন কমিশন ও সরকারকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। মানুষ যাতে কোনোভাবেই উদ্বিগ্ন না থাকেন, বিশেষত নারী ও বয়স্ক ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তাঁরা যেন নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন।

 

 

 

পূর্বের খবরতারেক রহমানের (ঢাকা ১৭) নির্বাচনী কার্যালয়ে মিলাদ দোয়া-মাহফিল অনুষ্ঠিত