নিউজ২১ডেস্কঃ দেশের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি দূর করে শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনায় অন্তরবর্তীকালীন সরকারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে মনে করেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার। তিনি বলেন, সাধারণ সভা করে নির্বাচন করতে গেলে অনেক দেরি হয়ে যাবে। তাই তত্ত্বাধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে এনে সঠিক সময়ে নির্বাচন দেওয়াই উচিত হবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের।
নিউজ২১ডেস্কঃ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান তিনটি অগ্রাধিকার কী হওয়া উচিত?
আলী ইমাম মজুমদারঃ এই সরকার প্রধান উপদেষ্টা ডা. ইউনুস তো অনেক বড় মানুষ। সারা পৃথিবী জুড়ে তার পরিচিতি রয়েছে। এই বাছাইটা সময় উপযোগী ও ভালো হয়েছে। এছাড়া অনেক ভালো উপদেষ্টা আছেন। সবাইকে তো আর আমি জানি না। আর প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, দেশে নৈরাজ্য চলছে। এখন প্রথম কাজ হবে এটা প্রতিরোধ করা, শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। পাশাপাশি এই নৈরাজ্য প্রতিরোধের তো হাতিয়ার দরকার। সেই হাতিয়ার হচ্ছে প্রশাসন। পুলিশ এবং অন্যান্য যে প্রশাসন রয়েছে, তাদেরকে কাঠামোর মধ্যে আনতে হবে।
নিউজ২১ডেস্কঃ সর্বোচ্চ কতদিনের মধ্যে একটি অবাধ নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন হওয়া দরকার?
আলী ইমাম মজুমদারঃ এটার সর্বোচ্চ সময় কত হওয়া উচিত তা আমি বলতে পারবো না। তবে, তার জন্য একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ দরকার। তা হলেই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে পারে। তাই আগে এই সরকারকে দাঁড়াতে হবে। প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। রাষ্ট্রের সবগুলো প্রতিষ্ঠানকে সঠিক ব্যবস্থাপনার মধ্যে আনতে হবে। তারপর রাজনৈতিক দলগুলোকে একটা সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মধ্যে আনতে হবে। এরজন্য যতটুকু সময় লাগে তাদেরকে দিতে হবে। তারপরই উপযুক্ত নির্বাচনে সময় হবে।
নিউজ২১ডেস্কঃ এমন একটি নির্বাচন নিশ্চিত করতে সংবিধান পরিবর্তন করে দলনিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকারের বিধান কি সংবিধানে স্থায়ী ভাবে সংযোজন যথেষ্ট বলে মনে করেন? নাকি প্রথমে একটি সংবিধান সভা নির্বাচন করে সেখানকার নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দিয়ে একটি নতুন সংবিধান তৈরী করে তার আলোকে নতুন নির্বাচন দেয়া উচিত?
আলী ইমাম মজুমদারঃ তারা তো শপথ গ্রহণ করেছে। বলেছেন সংবিধান সংরক্ষণ করার কথা। তবে, সাধারণ সংবিধান সভা করে নির্বাচন করতে গেলে অনেক দেরি হবে। আমি মনে করি, সঠিক সময়ে নির্বাচন হওয়া উচিত। তাই আগে যেহেতু আমাদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ছিলো। সেই ব্যবস্থাটা যুক্ত করা যেতে পারে। তাহলে এবারের মতো অবস্থা হবে না। তখন ৫ বছর পর-পর একটা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। এতে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়াটা খুব সহজ হবে।





