জাতীয় ঈদগাহে ও বায়তুল মোকাররম সহ দেশের কোথায় কখন ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে

189

নিউজ২১ডেস্কঃ দেশে আগামীকাল বৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হবে। জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ৩৫ হাজার মুসল্লির জন্য ঈদের নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। ভিআইপিদের জন্য ৬টিসহ মোট ১২১টি কাতারে নামাজ আদায় করবেন মুসল্লিরা। বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে আটটায় এই ময়দানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সকাল সাতটা থেকে পর্যায়ক্রমে জামাতগুলো অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া টঙ্গীতে সকাল সাড়ে আটটায় টঙ্গী বাজার সব সংলগ্ন বিশ্ব এজতেমার ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হইবে। এবারও দেশের বৃহত্তম ঈদগাহ কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদুল ফিতরের নামাজ ঈদের দিন কাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন দেশের বিভিন্ন ঈদগাহ ও মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটির সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা বলছেন, রাষ্ট্রপতি, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান, সংসদ সদস্য, রাজনীতিবিদ, সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নানা বয়সী মানুষ এ মাঠে নামাজ আদায় করেন। সে কারণে নিরাপত্তাসহ আনুষঙ্গিক বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মাঠ প্রস্তুত করা হয়েছে।

জাতীয় ঈদগাহ মাঠ প্রস্তুতের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, জাতীয় ঈদগাহে ৩৩০ জন ভিআইপি নামাজ আজাদ করতে পারবেন। তাদের মধ্যে ২৫০ জন পুরুষ ও ৮০ জন নারীর পৃথকভাবে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভিআইপিরা মাঠের সামনের অংশে থাকবেন। জায়গাটি বাঁশ দিয়ে আলাদাভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আর সাধারণ মানুষদের মধ্যে ৩১ হাজার পুরুষ আর সাড়ে ৩ হাজার নারী মাঠে নামাজ আদায় করতে পারবেন।

ঈদগাহ মাঠে প্রবেশের জন্য ভিআইপিদের জন্য একটি, জনসাধারণের জন্য দুটি (পুরুষদের জন্য একটি ও নারীদের জন্য একটি) ফটক রাখা হয়েছে। ঈদের নামাজ শেষে ভিআইপিরা একটি ফটক দিয়ে এবং জনসাধারণ ছয়টি (পুরুষদের জন্য পাঁচটি, নারীদের জন্য একটি) ফটক দিয়ে মাঠ থেকে বের হবেন।

এবার ঈদগাহ মাঠে মোট ১২১টি কাতারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মধ্যে ভিআইপিদের নামাজের জন্য ছয়টি (পুরুষের জন্য পাঁচটি এবং নারীদের জন্য একটি) ও জনসাধারণের জন্য ১১৫টি কাতার রয়েছে। জনসাধারণের ১১৫টি কাতারের মধ্যে বড় আকারের ৬৫টি কাতারে পুরুষেরা নামাজ আদায় করবেন। আর নারীরা (পৃথক ব্যবস্থায়) ৫০টি ছোট আকারের কাতারে নামাজ আদায় করবেন। একসঙ্গে ১১৩ জন পুরুষের অজু করার ব্যবস্থা রয়েছে। পৃথকভাবে একসঙ্গে ২৭ জন নারীর অজু করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তীব্র গরমের বিষয়টি মাথায় রেখে ঈদগাহ মাঠে এসির ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত পানি ও লাইটের ব্যবস্থা, খাওয়ার পানি ও প্রাথমিক চিকিৎসাসুবিধা, ভ্রাম্যমাণ গণশৌচাগার, বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাসহ নানা সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।

২০০০ সাল থেকে জাতীয় ঈদগাহ ময়দান প্রস্তুতের কাজটি করে আসছে ঢাকা সিটি করপোরেশন। করপোরেশন দুই ভাগ হওয়ার পর কাজটি করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি (ডিএসসিসি)। করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানান, এ বছর তীব্র গরমের কারণে মাঠে ৭০০টি সিলিং ফ্যান ও ১০০টি স্ট্যান্ড ফ্যান লাগানো হয়েছে। আলোর স্বল্পতা এড়াতে ৭০০ টিউব লাইট লাগানো হয়েছে। পাশাপাশি মুসল্লিদের জন্য বোতলজাত পানির পাশাপাশি ওয়াসার পানির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্র বলছে, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মাওলানা মুফতি রুহুল আমিন জাতীয় ঈদগাহ মাঠে মূল ইমামের দায়িত্বে থাকবেন। আর বিকল্প ইমামের দায়িত্বে থাকবেন বাংলাদেশ সচিবালয় জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা ওমর ফারুক।

 

বায়তুল মোকাররমে ঈদের ৫ জামাত, কোনটি কয়টায়

বায়তুল মোকাররমে ঈদের ৫ জামাত

 

এ বছর পবিত্র ঈদুল ফিতরে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সকাল সাতটা থেকে পর্যায়ক্রমে জামাতগুলো অনুষ্ঠিত হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রথম জামাত সকাল সাতটায় অনুষ্ঠিত হবে। ইমাম হিসেবে থাকবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের জ্যেষ্ঠ পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মো. মিজানুর রহমান। মুকাব্বির হিসেবে থাকবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের মুয়াজ্জিন কারি মো.ইসহাক।

দ্বিতীয় জামাত সকাল আটটায় অনুষ্ঠিত হবে। ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুফতি মুহীউদ্দিন কাসেম। মুকাব্বির থাকবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের মুয়াজ্জিন (অব.) হাফেজ মো. আতাউর রহমান।

তৃতীয় জামাত সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে। ইমামতি করবেন আজিমপুর কবরস্থান মেয়র হানিফ জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা ইমরান বিন নূরউদ্দীন। মুকাব্বির থাকবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খাদেম মো. আবদুল হাদী।

চতুর্থ জামাত সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে। ইমামতি করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফাসসির মো. আবু ছালেহ পাটোয়ারী। মুকাব্বির থাকবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খাদেম মো. জসিম উদ্দিন।

পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল পৌনে ১১টায়। ইমামতি করবেন মিরপুরের জামেয়া আরাবিয়া আশরাফিয়া ও এতিমখানার মুহতামিম মাওলানা সৈয়দ ওয়াহীদুজ্জামান। মুকাব্বির থাকবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খাদেম মো. রুহুল আমিন।

 

 দেশের বিভিন্ন স্থানে ঈদের প্রধান প্রধান জামাতের স্থান ও সময়সূচি তুলে ধরা হয়েছে।

ঢাকা: ঢাকায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে আটটায়। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে প্রথম জামাত সকাল সাতটায় অনুষ্ঠিত হবে। সকাল সাতটা থেকে পর্যায়ক্রমে এই মসজিদে পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া টঙ্গীতে সকাল সাড়ে আটটায় টঙ্গী বাজার সংলগ্ন বিশ্ব এজতেমার ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হইবে। টঙ্গী বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা প্রিন্সিপাল আকরাম উদ্দিন সাহেব।
ঢাকার সাভারের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে ঈদুল ফিতরের নামাজের প্রধান জামাত সকাল আটটায় অনুষ্ঠিত হবে।

কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে এবার ১৯৭তম ঈদের জামাত হবে। নামাজ শুরু হবে সকাল ১০টায়।
দিনাজপুর: দিনাজপুরে গোর-এ–শহীদ ময়দানে ঈদের জামাত সকাল নয়টায় অনুষ্ঠিত হবে।

সিলেট: সিলেটে শাহি ঈদগাহঈদের একমাত্র জামাত সকাল আটটায় শুরু হবে। যদি বৃষ্টি হয়, তাহলে আশপাশের মসজিদে নামাজ হবে।

বাগেরহাট: বাগেরহাটে ঐতিহ্যবাহী ষাটগম্বুজ মসজিদে তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে প্রথম জামাত সকাল সাড়ে সাতটায়, দ্বিতীয় জামাত আটটায় এবং সর্বশেষ জামাত হবে সাড়ে আটটায়।

গোপালগঞ্জে: গোপালগঞ্জে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল আটটায় পাঁচুড়িয়ায় কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে। এ ছাড়া দ্বিতীয় জামাত সকাল সাড়ে আটটায় থানাপাড়া জামে মসজিদে, তৃতীয় জামাত সকাল নয়টায় এস কে আলিয়া মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত হবে। আবহাওয়া প্রতিকূলে থাকলে সকাল আটটায় স্থানীয় লঞ্চঘাটে অবস্থিত জেলা মডেল মসজিদে এবং একই সময়ে স্থানীয় কেন্দ্রীয় কোর্ট মসজিদে জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

Untitled-1

কুমিল্লা: কুমিল্লা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে আটটায়। কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ছাড়াও শহরের ২৭টি ওয়ার্ডের ঈদের জামাত পৃথকভাবে সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে।

ফেনী: ফেনীতে জেলার ঈদের প্রধান জামাত মিজান ময়দানে সকাল আটটায় অনুষ্ঠিত হবে।

মাগুরা: মাগুরায় ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত সকাল আটটায় শহরের ঐতিহাসিক নোমানী ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে।

মেহেরপুর: মেহেরপুরে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত সকাল ৮টায় মেহেরপুর পৌর ঈদগাহে এবং দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে পুরাতন ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।

শেরপুর: শেরপুরে ঈদের প্রধান জামাত পৌর ঈদগাহ মাঠে সকাল নয়টায় অনুষ্ঠিত হবে।

নীলফামারী: নীলফামারীতে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে আটটায় কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে। এর আগে পুলিশ লাইনস ঈদগাহ মাঠে সকাল সোয়া আটটায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

 

 

পূর্বের খবরখালেদা জিয়ার ঈদ এবার ফিরোজাতেই সীমাবদ্ধ!
পরবর্তি খবরআজ খুশির ঈদুল ফিতর