অনলাইন ডেস্কঃ কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় বিক্ষোভকারীদের হত্যা করার বিষয়ে জাতিসংঘ শিগগিরই তদন্ত শুরু করবে বলে জানালেন সংস্থাটির মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক। আজ বুধবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আলাপকালে ভরকার তুর্ক বলেন, ছাত্র আন্দোলনের সময় বিক্ষোভকারীদের হত্যা করার বিষয়ে তদন্তের জন্য খুব শিগগিরই জাতিসংঘের নেতৃত্বে একটি তদন্ত শুরু করা হবে। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের একটি দল শিগগিরই তদন্ত শুরু করতে বাংলাদেশ সফর করবে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক
বুধবার বাংলাদেশের প্রধান অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করার জন্য প্রধান উপদেষ্টা তাকে এবং তার দীর্ঘদিনের বন্ধু জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে ধন্যবাদ জানান। এ আন্দোলনকালে ছাত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর নজিরবিহীন হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
২০০৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, তার প্রশাসনের মূল ভিত্তি হবে মানবাধিকার রক্ষা এবং প্রতিটি নাগরিকের সুরক্ষা দেওয়া তার সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। প্রফেসর ইউনূস দেশের পুনর্গঠন এবং মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে জাতিসংঘের সহযোগিতা চেয়েছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ নিয়ে যা বলল জাতিসংঘ

জাতিসংঘের প্রেস ব্রিফিংয়ে আবারও উঠে এসেছে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ। গতকাল সোমবার ব্রিফিংয়ে প্রশ্ন করা হয়, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, কার্যকর অর্থনীতি, গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সরকার কত দিন ক্ষমতায় থাকতে পারে। জবাবে জাতিসংঘ মহাসচিবের উপমুখপাত্র ফারহান হক বলেন, জাতিসংঘ অন্তবর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। তারা আশা করছেন, সরকার গঠনের জন্য একটি উন্মুক্ত ও অন্তর্ভূক্তিমূলক প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। গণতান্ত্রিক শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠায় দ্রুত একটি সময়সীমা জানানো হবে।’
ব্রিফিংয়ে আরেক প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়, ছাত্র আন্দোলনের সময় তিনজন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পরও অনেক গণমাধ্যমের দপ্তর ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়েছে। জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কক্ষেও লুটপাট করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের প্রতিক্রিয়া কী?
ফারহান হক বলেন, ‘হ্যাঁ, যেকোনো জায়গায় যেকোনো কারণেই হোক না কেন, আমরা সাংবাদিকদের ওপর সব ধরনের হামলার বিরুদ্ধে। বাংলাদেশে যেসব হামলার খবর প্রকাশিত হয়েছে, তাতে আমরা শঙ্কিত।’
এ ছাড়া সাম্প্রতিক সব সহিংস ঘটনায় পূর্ণ, স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের ওপর জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস জোর দিয়েছেন বলে জানান তার উপমুখপাত্র। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছেন মহাসচিব এবং মানবাধিকারের প্রতি পূর্ণ সম্মান জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন।





