অনলাইন ডেস্কঃ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্থিতিশীল করার জন্য সাম্প্রতিক মাসগুলোতে চীনের উচ্চপর্যায়ে ‘শর্তযুক্ত’ যোগাযোগ বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এক্ষেত্রে চীনও খেলছে কৌশলে। কারণ তারা এমন একটি ধারণা তৈরি করতে চায় যে, দুই পক্ষের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগটা আসছে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকেই। এক্ষেত্রে মধ্যবর্তী একটি অবস্থানে থেকে মনস্তাত্ত্বিক লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে শি প্রশাসন।
তবে সব কিছুর মধ্যেও বেইজিং-ওয়াশিংটন যে নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চালাচ্ছে- তা স্বীকার করছেন বিশ্লেষকরাও।
সম্প্রতি চীন সফর করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই অঞ্চলে এখনও নিজেদের শক্ত অবস্থান আছে- যুক্তরাষ্ট্রের সেই বিশ্বাস থেকেই বেইজিং সফর করেন ব্লিঙ্কেন। যদিও চীন মনে করে, বিষয়টি এমন নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র তার ‘আপেক্ষিক দুর্বলতার ক্ষতিপূরণের’ জন্যই নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে।
‘কূটনীতির খেলা’
নিজেদের অর্থনৈতিক সংকট ও বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশাধিকারের গুরুত্ব সম্পর্কে চীন খুব ভালোভাবেই অবগত। তারা এটিও জানে যে, বেইজিংয়ের অগ্রগতিকে মন্থর করার চেষ্টার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র শুধু উন্নত প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে অস্বীকৃতিই জানাচ্ছে না, তার ইউরোপীয় মিত্রদের ওপরও এ নিয়ে চাপ প্রয়োগ করছে।
ফলে মারমুখী কূটনীতি থেকে আরও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের দিকে যাত্রা, শি জিনপিংয়ের একটি কৌশলী পদক্ষেপ। তবে চীনের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নীতির মৌলিক বিষয়গুলো অপরিবর্তিত রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, চীন সামরিক কৌশলে তাইওয়ানকে হুমকি দিয়ে চলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার করা সত্ত্বেও দেশটি দক্ষিণ চীন সাগরে ফিলিপিন্সের ‘সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন’ থেকে পিছপা হচ্ছে না।
এছাড়া বেইজিংয়ের অর্থনৈতিক কৌশল এখনও গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল এবং প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই কেন্দ্রীভূত, যা নিশ্চিত করে যে অন্যান্য দেশগুলো এর ওপর নির্ভরশীল থাকবে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, চীন তার বিশাল শিল্প ক্ষমতা ব্যবহার করে অতিরিক্ত পণ্য উৎপাদন করে এবং তারপর প্রতিযোগিতা শেষ করে দেয়ার জন্য তা আন্তর্জাতিক বাজারে ছেড়ে দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের জানাও নেই যে, কীভাবে তারা চীনের উৎপাদন ঠেকাবে। ১৯৮৫ সালে জাপানের ওপর প্রয়োগ করা ‘প্লাজা অ্যাকর্ডের’ মতো কোনো পথ বেছে নেয়ারও উপায় নেই যুক্তরাষ্ট্রের। কারণ, নিজেদের নিরাপত্তায় জাপানের মতো যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নিরর্ভরশীল নয় চীন।
অন্যদিকে চীনকে নিয়ন্ত্রণ করতে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাকেও (ডব্লিউটিও) ব্যবহার করতে পারবে না পশ্চিমারা। এখানে সেখানে চীন এখনও নিজেকে একটি ‘উন্নয়নশীল’ দেশ হিসেবে চিহ্নিত করে।
‘স্ববিরোধী নীতি’
চীনের প্রতি বর্তমান মার্কিন কৌশলকে ‘স্ববিরোধী’ বলছেন অনেকে। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বেইজিংকে ‘বড় হুমকি’ হিসেবে দেখে যুক্তরাষ্ট্রসহ তার পশ্চিমা মিত্ররা। তবুও, সামরিক স্তরে সংলাপ পুনরায় শুরু করাসহ উভয় পক্ষের মধ্যে স্থিতিশীল সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার জন্য চীনের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনায় আগ্রহ দেখাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
কিন্তু আগের চেয়ে আরও জাতীয়তাবাদী ও সামরিকভাবে শক্তিশালী এবং ক্ষেত্রভেদে প্রযুক্তিতে পশ্চিমাদের চেয়েও উন্নত হয়ে ওঠা চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে ‘খাপ খাওয়াবে’, সেটি স্পষ্ট নয়।
এছাড়া আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নিজের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী বেইজিং। দেশটি এরইমধ্যে জাতিসংঘসহ সেসব জায়গায় প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেছে, যেখানে এখন পর্যন্ত প্রভাবশালী শক্তি ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।





