আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের কিছু জায়গায় গত মঙ্গলবার শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় সেসব এলাকায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে গত বুধবার। তবে পশ্চিমবঙ্গসহ দেশটির বেশিরভাগ অংশে মুসলিমদের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসব উদযাপিত হচ্ছে বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল)।
ভারতীয় সেনাবাহিনী পরিচালিত ফোর্ট উইলিয়াম সংলগ্ন ব্যস্ততম রাজপথই রেড রোড। প্রতি বছর কলকাতার সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় এই রেড রোডে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
বৃহস্পতিবার সকালেই রেড রোড পরিণত হয় শহরের বৃহত্তম ঈদগাহে। মুসল্লিরা তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দলবেঁধে নামাজ পড়তে আসেন এখানে। সকাল সাড়ে ৮টায় শুরু হয় ঈদের নামাজ। তাতে ইমামতি করেন কোয়ারি ফজলুর রহমান।
নামাজ শেষ হতেই পরিচিতদের সঙ্গে কোলাকুলি ও কুশল বিনিময় করেন ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা। হাসিমুখে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে দেখা যায় শিশু-কিশোরদের
কলকাতায় রেড রোড ছাড়াও নাখোদা মসজিদ, টিপু সুলতান মসজিদ, কলিন স্ট্রিট, খিদিরপুর, পার্ক সার্কাস ময়দানসহ শহরের বিভিন্ন ছোট-বড় মসজিদে মুসল্লিরা ঈদের নামাজ আদায় করেন।
এদিন রেড রোডে ঈদ জামাতের আয়োজনে ফিলিস্তিনের পতাকা ছিল চোখে পড়ার মতো। যুদ্ধবিধ্বস্ত উপত্যকাটির মানুষদের জন্য মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে দু’হাত তুলে দোয়া করেছেন অনেক মুসল্লি।
রেড রোডে নামাজ পড়তে আসা শমসের আলম বলেন, ঈদ সবার ভালো কাটুক। বিশেষ করে, ফিলিস্তিনিদের জন্য নামাজে দোয়া করলাম, যাতে সেখানকার মানুষেরা ভালো থাকে।
বাবার হাত ধরে নামাজ পড়তে এসেছিল শিশু মোহম্মদ ইসমাইল। সে জানায়, বাসায় গিয়ে মজার মজার খাবার খাবে। এছাড়া, নতুন জামা-কাপড় পরে শহরের বিভিন্ন দর্শনীয় জায়গায় ঘুরতে যাবে। বিশেষ করে, আলিপুর চিড়িয়াখানায় যাওয়ার জন্য উৎসুক হয়ে রয়েছে শিশুটি।
মোহাম্মদ সানাউল্লাহ ভাসানী নামে আরেক মুসল্লি বলেন, আজ আমাদের জন্য খুশির দিন। দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আজকের দিনে এমন কোনো কাজ করবেন না, যাতে কারও কষ্ট হয়। এই পবিত্র দিনে যদি কারও সঙ্গে কোনো মনোমালিন্য থেকে থাকে, তাহলে তার কাছে গিয়ে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে গলা জড়িয়ে ধরা উচিত।
প্রতি বছরের মতো এবারও রেড রোডের ঈদ জমায়েতে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। সেখান থেকেই দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিনি। এসময় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার ভাতিজা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
উৎসবের আবহে কোথাও যেন কোনো অনভিপ্রেত ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে গোটা কলকাতা শহরকে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। কলকাতা পুলিশের সদর দপ্তর লালাবাজার সূত্রে জানা গেছে, শহরজুড়ে প্রায় চার হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকছে।





