আন্তর্জাতিক ডেস্ক ঃ ভারতের লোকসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। তাদের নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও এককভাবে তা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে নরেন্দ্র মোদির বিজেপি। ফলে আগের মতো পার্লামেন্টে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা থাকছে না তাদের। বিপরীতে বুথফেরত জরিপ মিথ্যা প্রমাণ করে চমক দেখিয়েছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট ইন্ডিয়া। তবে, ভারতে লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা চলছে। ফলে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত প্রায় ১০০ আসনে জয় পেয়েছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট। অপরদিকে ১৫০টির মতো আসনে জয় নিয়ে সরকার গঠনে এগিয়ে রয়েছে বিজেপির জোট এনডিএ। তবে প্রাথমিকভাবে পিছিয়ে থাকলেও এখনই সরকার গঠনের আশা ছাড়ছেন না মল্লিকার্জুন-রাহুল গান্ধীরা।

ভারতের লোকসভায় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে সরকার গঠন করতে হলে একটি দলকে অন্তত ২৭২টি আসন পেতে হবে। তবে বিজেপি কিংবা কংগ্রেস কেউই এই সংখ্যা অর্জন করতে সক্ষম হয়নি। ফলে জোট সরকারই একমাত্র সমাধান। সেক্ষেত্রে এগিয়ে আছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ। তবে ইন্ডিয়া জোটের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
মোদির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট এখন পর্যন্ত মোট ২৯৪টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, রাহুল গান্ধীর ইন্ডিয়া জোট এগিয়ে আছে ২৩২টি আসনে। আপাতদৃষ্টিতে সরকার গঠনের দৌড়ে মোদি এগিয়ে রয়েছে মনে হলেও মুহূর্তেই দৃশ্যপট পাল্টে যেতে পারে যদি মিত্র দলগুলো জোট বদলের সিদ্ধান্ত নেয়।
এনডিএ’র দলগুলোর মধ্যে বিজেপির পরে বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে জনতা দল (ইউনাইটেড) এবং তেলেগু দেশম পার্টি (টিডিএম) । দল দুটি পেয়েছে ৩০টি আসন। তাই তারা এনডিএ থেকে বের হয়ে যদি রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোটে যোগ দেয় তাহলে ঝুলে যাবে ভারতের পার্লামেন্ট। তখন ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে দুই জোটেরই। তখন এনডিএ জোটে থাকা যেকোনো একটি দলই হয়ে যেতে পারে ট্রাম্প কার্ড।
তবে জেএনইউ ও টিডিএমের নাম আলাদা করে বলার কারণ হচ্ছে দুটি দলই আগে ইন্ডিয়া জোটে ছিল। তাই আবার যদি জোট বদল করে তারা তাহলে পাল্টে যাবে রাজনৈতিক দৃশ্যপট। এমন ইঙ্গিত মিলেছে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর বক্তব্যেও।
দুই আসনে বিশাল ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে রাহুল বলেন, ‘আগামীকাল বুধবার আমাদের জোটের বৈঠক আছে। সেখানে আমরা জোটের শরীক দলগুলোর সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিবো।‘
এ ছাড়া ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম নেতা ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ শারদ পাওয়ারও আভাস দিয়েছেন জোট সরকারের। তিনি বলেন, এখনো সরকার গঠনের ব্যাপারে কোনো পরিকল্পনা হয়নি। আমি নিশ্চিত নই আমরা সরকার গঠন করতে পারবো কি না। আগামীকাল জোটের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে। ‘
সংবাদমাধ্যম টাইমসনাউয়ের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, নিতিশ কুমারকে উপপ্রধানমন্ত্রী পদের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল ইন্ডিয়া জোট থেকে। আর নাইডুকে অন্ধ্রপ্রদেশের বিশেষ মর্যাদার কথাও বলা হয়েছে। তবে এই দুই নেতা কী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তা জানা যায়নি।
কংগ্রেস প্রধান মল্লিকার্জুন খারগেকে সরকার গঠনের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, শরীকদের সঙ্গে বৈঠক করে কোনো কৌশল বের করা হবে।
ভারতীয় গণমাধ্যম বলছে, নির্বাচনের ফল ঘোষণা শেষ হওয়ার আগেই নরেন্দ্র মোদির এনডিএ জোটের ভেতরে-বাইরের বেশ কয়েক নেতার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে কংগ্রেস। কংগ্রেস এসব নেতাকে জোটবদল করে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোটে যোগ দিয়ে সরকার গঠনের প্রস্তাব দিচ্ছে।
হিন্দুস্তান টাইমস জানতে পেরেছে, এনডিএ জোটের শরিক অন্ধ্র প্রদেশের তেলেগু দেশম পার্টির (টিডিপি) প্রধান চন্দ্রবাবু নাইডু এবং বিহারের জনতা দল ইউনাইটেডের (জেডি-ইউ) প্রধান নীতীশ কুমারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন কংগ্রেস প্রধান মল্লিকার্জুন খাগড়ে। এ ছাড়া ওডিশার নবীন পাটনায়েকের বিজু জনতা দল (বিজেডি) এবং বিহারের লোক জনশক্তি পার্টির (রাম বিলাস) সঙ্গেও কথা হয়েছে তার।
বিহারে সবাইকে অবাক করে দিয়ে ১৫টি লোকসভা আসনে এগিয়ে রয়েছে নীতীশ কুমারের দল। রাজ্যটিতে বিজেপি পাচ্ছে মাত্র ১৩টি আসন। একই জোটের দুই দল হিসেবে জেডি-ইউ বিজেপির প্রতি সমর্থন দিয়ে আসছে। নীতীশের সঙ্গে খাগড়ের যোগাযোগের বিষয়ে জেডি-ইউর এক নেতা হিন্দুস্তান টাইমসকে বলেছেন, তার দলের অবস্থান বদলের সম্ভাবনা কম।
নীতীশ কুমার এ বছরেই এনডিএ জোটে যোগ দিয়েছেন। এর আগে তিনি কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোটের শীর্ষস্থানীয় একজন নেতা ছিলেন। কংগ্রেসের এক নেতা বলেছেন, আজ মঙ্গলবার নীতীশ কুমারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা সম্রাট চৌধুরী। তবে তিনি দেখা করেননি।
কংগ্রেস নেতাদের আশা, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডেকেও ইন্ডিয়া জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে রাজি করাতে পারবেন তারা। শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা রাজ্যটিতে ১০ আসনে এগিয়ে রয়েছে। শিবসেনার আরেক অংশের নেতা উদ্ভব ঠাকরের সঙ্গেও তাদের কথা হয়েছে।
বিজেডির নবীন পাটনায়েক বিজেপি বা কংগ্রেস—দুই দলের থেকেই সমান দূরত্ব বজায় রেখেছিল। তবে হিন্দুস্তান টাইমস জানতে পেরেছে, ওডিশা বিধানসভায় নিজেদের সুযোগ বাড়ানোর জন্য কংগ্রেসের সহায়তা চেয়েছে বিজেডি। ২০১৯ সালে রাজ্যটির বিধানসভায় কংগ্রেসের আসন ছিল নয়টি। তবে এখন দলটির দখলে রয়েছে ১৬টি আসন।





