উত্তরায় অগ্নিকান্ডে ২ পরিবারের ৬ জন নিহত

259

শুক্রবার সকাল ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে উত্তরায় একটি ছয়তলা আবাসিক ভবনে আগুন লাগে। এতে বিকেল পর্যন্ত ৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। হৃদয়বিদারক এই ট্র্যাজেডিতে আগুনে ২ পরিবারের নিহত ৬ হয়।

sharethis sharing button

 

 

 

নিউজ ডেস্কঃ রাজধানীর উত্তরার একটি সাততলা আবাসিক ভবনে লাগা আগুনে ৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের স্বামী-স্ত্রী ও তাদের সন্তানসহ মোট তিনজন রয়েছেন। উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কের একটি ভবনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ভবনটির দ্বিতীয় তলায় আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সকাল ১০টার দিকে তা সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা হয়। নিহতরা হলেনÑ ফজলে রাব্বি রিজভী (৩৮), কুমিল্লার কোতোয়ালী থানার নানুয়াদিঘি পশ্চিমপাড়ার কাজীবাড়ির বাসিন্দা কাজী খোরশেদুল আলমের ছেলে। তিনি ঢাকার উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর রোডের ৩৪ নম্বর বাসায় সপরিবারে থাকতেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে মারা যান। আফরোজা আক্তার, নিহত ফজলে রাব্বি রিজভীর স্ত্রী। তার বাড়ি চাঁদপুরের মতলব উত্তর থানার সিকারকান্দি গ্রামে। তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। মো. রিশান (আড়াই বছর), ফজলে রাব্বি রিজভী ও আফরোজা আক্তার দম্পতির আড়াই বছর বয়সী শিশু সন্তান। সে ঢাকা স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। মো. হারিছ (৫২), ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থানার দড়িপাচাশি গ্রামের হাফিজ উদ্দিনের ছেলে। তিনিও উত্তরার একই বাসায় (সেক্টর ১১, রোড ১৮) বসবাস করতেন। কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। মো. রাহাব (১৭), ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ এলাকার হারিছ উদ্দিনের ছেলে। সেও উত্তরার ওই একই ঠিকানায় বসবাস করত এবং কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে মারা যায়। রোদেলা আক্তার (১৪), ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের দড়িপচাশী এলাকার শহিদুল ইসলামের মেয়ে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ভবনটির দ্বিতীয় তলায় থাকা একটি রান্নাঘর থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

 

 

ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, শুক্রবার সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কের একটি সাততলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সকাল ১০টার দিকে তা সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা হয়। অগ্নিকা-ের সময় ভবনে আটকা পড়া ১৩ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল, পরে ৬ জন মারা যান পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে বিষয়টি তদন্ত করছে।

 

 

 

নিহত আফরোজার মামাতো ভাই মো. আবু সাইদ জানান, ফজলে রাব্বির বাড়ি কুমিল্লা সদর উপজেলার নানুয়া দিঘিরপাড়। তিনি ওষুধ প্রস্তুতকারক এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডে কর্মরত ছিলেন। আর তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ। তাদের দুই ছেলে ফাইয়াজ ও রাফসান। স্বামী স্ত্রী দু’জনই কর্মজীবী হওয়ায় তাদের দুই ছেলেই উত্তরায় নানির বাসায় থাকত। আবু সাইদ আরো জানান, শুক্রবার অফিস বন্ধের দিন হওয়ায় গতরাতেই ছোট ছেলেকে নানির বাসা থেকে মায়ের বাসায় নিয়ে আসে। এরপর সকালে ওই বাসায় আগুনের সংবাদ পান স্বজনরা। পরে একে একে হাসপাতালে এসে তাদের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।

 

উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি রফিক আহমেদ জানান, ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। তদের মধ্যে তিনজন একই পরিবারের সদস্য। একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন স্বামী-স্ত্রী ও তাদের সন্তান। এই ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ওসি আরো জানান, নিহতদের মধ্যে তিনজন কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে, দু’জন উত্তরা স্পেশালাইজড হাসপাতালে এবং একজন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।

 

আগুনের সূত্রপাত নিয়ে তিনি বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত যতটুকু তথ্য তদন্তে পেয়েছি যে ভবনটির দোতলায় থাকা একটি রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। সেটি ওই রান্নাঘরের বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে হতে পারে, নয়ত গ্যাস লিকেজের কারণে হতে পারে; তবে এ বিষয়ে আমরা এখনো নিশ্চিত নই। ভয়াবহ এ ঘটনায় কোনোভাবে প্রাণে বেঁচে ফেরেন চতুর্থ তলার বাসিন্দা শিবলু। তিনি সেখানে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে থাকেন। শিবলু জানান, ঘটনার সময় ঘুমাচ্ছিলেন তিনি। হঠাৎ ওপর তলা থেকে বৃষ্টির মতো গ্লাস ভেঙে পড়ার শব্দে ঘুম ভাঙে তার। পরিবার নিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করলে আটকে পড়েন তিনি। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় ভবন থেকে সপরিবারে নিরাপদে বের হয়ে আসেন। শিবলু বলেন, যখন আগুনের ঘটনা ঘটে তখন আমরা ঘুমাচ্ছিলাম। হঠাৎ করে ওপর থেকে গ্লাস ভেঙে পড়ার শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। আগুন যে লেগেছে এটা বুঝতে পারিনি। শব্দ পাচ্ছি ওপর তলায় গ্লাসের মতো কি যেন ভেঙে ভেঙে গুঁড়ো হয়ে ফ্লোরজুড়ে পড়ছে বৃষ্টির মতো। তখনই আমার ঘুম ভেঙে যায়। সবাইকে নিয়ে দৌড়ে বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু এতো ধোঁয়া, ধোঁয়া দেখে দরজা বন্ধ করে দিয়ে ভেতরে নিরাপদে থাকার চেষ্টা করি। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় আমরা নিরাপদে বের হই। সরেজমিনে দেখা গেছে, সাততলা ভবনটির দোতলা ও তিন তলা ধোঁয়ার কালিতে আচ্ছন্ন হয়ে আছে। ভেঙে গেছে জানালা ও ব্যালকনির গ্লাস। ভবনের সামনের সড়কে ভিড় করেছেন এলাকার উৎসুক জনতা। ভেতরে অবস্থান করছেন পুলিশ ও সিআইডির সদস্যরা। একইসঙ্গে উৎসুক জনতার প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে সিআইডির ক্রাইম সিন টেপ দিয়ে ভবনের প্রধান ফটক ঘিরে রাখা হয়েছে।

পূর্বের খবরনাগরিক শোকসভায় খালেদা জিয়ার ত্যাগ-সংযম-দৃঢ়তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ
পরবর্তি খবরস্বাধীনতা বিরোধীরা জান্নাতের টিকিট বিক্রির রাজনীতি মানুষকে ঠকাচ্ছে : তারেক রহমান