ঢাকাঃ বাংলাদেশ সরকারের সাবেক উপদেষ্টা (মন্ত্রী), কারাবরণকারী ভাষাসৈনিক, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, দৈনিক মানবকণ্ঠের প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক, উত্তরা মিডিয়া ক্লাবের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কবি জাকারিয়া খান চৌধুরীর আজ ২৫ মার্চ ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী। মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করে তাঁকে গভীর শ্রদ্বার সাথে স্মরণ করছেন দেশবাসী।

উল্লেখ্য, বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের অধিকারী জাকারিয়া চৌধুরীর গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার সুজাতপুর ইউনিয়নের সৎমুখা চৌধুরী বাড়ি। তার বাবা ইয়াহিয়া খান চৌধুরী ছিলেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। বাবার চাকরিসূত্রে তার জন্ম ভারতের আসাম প্রদেশের শিবসাগরে, ১৯৩৩ সালের ১৮ নভেম্বর। ইয়াহিয়া খান চৌধুরী স্বাধীনতার পর কুষ্টিয়ার মহকুমা প্রশাসক ছিলেন। পরে পাকিস্তান ন্যাশনাল অ্যাসেমব্লির সদস্যও নির্বাচিত হয়েছিলেন। ধনাঢ্য, ঐতিহ্যবাহী ও বনেদি পরিবারে জন্মগ্রহণ করলেও তার জীবনাচার ছিল একেবারে সাধারণ। জাকারিয়া খানের শিক্ষাজীবন শুরু মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়ে। তারপর করিমগঞ্জ। করিমগঞ্জে স্কুলে পড়াকালেই যুক্ত হন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে। রাজনীতিতে হাতেখড়ি বলতে গেলে তখনই। ১৯৫৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে অনার্স করে ১৯৫৭ সালে লন্ডনে লিঙ্কনস ইন-এ ‘বার-অ্যাট-ল’ পড়ার জন্য ভর্তি হন। ছাত্রাবস্থায় লন্ডনে পাকিস্তানের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হলে ১৯৬০ সালে পূর্ব বাংলা স্বাধীন করার প্রত্যয়ে ‘পূর্বসূরী’ নামে একটি গোপন রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তোলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন; একপর্যায়ে হন কারারুদ্ধ।

একটি অনলাইন পোর্টালে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কবি জাকারিয়া খান
জাকারিয়া চৌধুরী ১৯৩৩ সালের ১৮ নভেম্বর ভারতের আসাম প্রদেশের শিবসাগরে জন্মগ্রহণ করেন। স্কুলজীবনেই তিনি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে ১৯৫৫ সালে অর্থনীতিতে সম্মান ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের মিছিল করতে গিয়ে কারারুদ্ধ হন। ১৯৫৭ সালে লন্ডনে লিঙ্কনস্ ইন -এ ‘বার-এট-ল’ পড়ার জন্য ভর্তি হন। ছাত্রাবস্থায় লন্ডনে ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন এবং পরবর্তীতে ১৯৬০ সালে সংগ্রামের মাধ্যমে পূর্ব বাংলা স্বাধীন করার পরিকল্পনায় ‘পূর্বসূরি’ নামে গোপন রাজনৈতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৬৮ সালে ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার’ প্রতিবাদে লন্ডনস্থ পাকিস্তান হাই কমিশন দখলের নেতৃত্ব দেন। যুদ্ধ শুরু হলে লন্ডনে বাংলাদেশের জন্য অর্থ সংগ্রহ ও জনমত গঠন শুরু করেন। ১৯৭২ সালে জাকারিয়া চৌধুরী দেশে ফিরে আসেন। ১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সরকারের উপদেষ্টা পদে যোগ দেন। তিনি শ্রম মন্ত্রণালয়, জনশক্তি মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৯৬ সালে হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এক পর্যায়ে সক্রিয় রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে লেখালেখিতে মনোযোগ ও মানবকণ্ঠ পত্রিকা প্রকাশ করেন জাকারিয়া চৌধুরী।
জাকারিয়া চৌধুরীর স্ত্রী প্রখ্যাত ভাস্কর শামীম শিকদার। ছেলে শান্তি চৌধুরী লন্ডনে ব্যারিস্টারি অধ্যয়নরত এবং মেয়ে জাকিয়া শামীম চৌধুরীও মায়ের মতো একজন ভাস্কর। জাকারিয়া খান চৌধুরীর ভাই জাকির খান চৌধুরী ছিলেন এরশাদ সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।





