সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণা করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান

46

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার, ৫১ দফায় ৯ প্রতিশ্রুতি। জুলাই জাতীয় সনদকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার # সংবিধানে আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস সংযোজন ষ ফ্যামিলি, কৃষক কার্ড # ১ জন সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী # ২০৩৪ সালে বাংলাদেশ এভিয়েশন হাব # দুর্নীতির বিষয়ে আপোষহীন ষ প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সমতা ও নায্যতার ভিত্তিকে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ষ ভাইস-প্রেসিডেন্ট পদ সৃষ্টি ষ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ # বিনাবেতনে সড়বাতকোত্তর পর্যন্ত নারীদের পড়াশুনা # তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও দ্বিকক্ষ সংসদ চালু # পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন কার্যকর ষ ৫ বছরে ১ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

facebook sharing button
sharethis sharing button

 

ঢাকাঃ এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণা করেছে জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। এতে ৫১ দফায় ৯টি প্রতিশ্রুতি দিয়ে ইশতেহার ঘোষণা করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার ঘোষিত ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ এর আলোকে বিএনপি একটি মানবিক অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র বিনির্মাণে জনগণের সামনে নির্বাচনী অঙ্গীকারগুলো তুলে ধরেন। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের বলরুমে এই ইশতেহার প্রকাশ করেন তিনি। এর আগে বিকাল ৩টা ৩২ মিনিটে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়। এসময় সবাই দাঁড়িয়ে সম্মান জানায়। পরে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপরে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই ইশতেহার ঘোষণা করেন। ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও দলটির নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
ইশতেহারে ৫১টি দফাকে ৫টি অধ্যায়ে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম অধ্যায়ে রয়েছে- রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কার, দ্বিতীয় অধ্যায়ে বৈষম্যহীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা অর্জন, তৃতীয় অধ্যায়ে- ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধার, চতুর্থ অধ্যায়ে- অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়ন, শেষ ও পঞ্চম অধ্যায়ে- ধর্ম, সমাজ, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও সংহতি।
৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতি :
‘সবার আগে বাংলাদেশ’- স্লোগানে ইশতেহারে ৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হয়। প্রতিশ্রুতিতে বলা হয়েছে- ১. প্রান্তিক ও নি¤œ আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। অর্থসেবার এই পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে।
২. কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ‘কৃষক কার্ড’-এর মাধ্যমে ভর্তুকি, সহজ ঋণ, কৃষিবিমা ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বাজারজাতকরণ জোরদার করা হবে। মৎস্যচাষি, পশুপালনকারী খামারি ও কৃষি খাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও এই সুবিধা পাবেন।
৩. দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশব্যাপী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হবে। জেলা ও মহানগর পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবাসহ রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।
৪. আনন্দময় ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাস্তব দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষায় সর্বাধিক গুরুত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি সহায়তা ও ‘মিড-ডে মিল’ চালু করা হবে।
৫. তরুণদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা সহায়তা, বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে যুক্তকরণসহ মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে।
৬. ক্রীড়াকে পেশা ও জীবিকার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে।
৭. পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে দেশপ্রেমী জনগণের স্বেচ্ছাশ্রম ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ১০ হাজার কিলোমিটার নদী-খালখনন ও পুনঃখনন, ৫ বছরে ১৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে।
৮. ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করা হবে।
৯. ডিজিটাল অর্থনীতি ও বৈশ্বিক সংযোগ বাড়াতে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিষ্টেম (পেপাল) চালু, ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব স্থাপন ও ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণ করা হবে।
বিএনপি বলছে, এই ইশতেহার কেবল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, এটি একটি নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তির ঘোষণা। বিএনপি প্রতিশোধ নয়, ন্যায় ও মানবিকতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। ক্ষমতা নয়, জনগণের অধিকারই বিএনপির রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। লুটপাট নয়, উৎপাদন; ভয় নয়, অধিকার; বৈষম্য নয়, ন্যায্যতা, এই নীতিতেই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে।
দলটি বলছে, জনগণের রায়ে দায়িত্ব পেলে তারা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলবে, যেখানে ভোটের মর্যাদা থাকবে। সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও বৈষম্যের অবসান হবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ থাকবে না। প্রত্যেক নাগরিক গর্ব করে বলতে পারবে- সবার আগে বাংলাদেশ।

 

রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কার :

বিএনপি ঘোষিত ইশতেহারের ৫টি অধ্যায়ের প্রথমে রাষ্ট্র ব্যবস্থার নানাদিক তুলে ধরা হয়। এতে গণতন্ত্র ও জাতিগঠন, মুক্তিযুদ্ধ ও গণঅভ্যুত্থান, সাংবিধানিক সংস্কার, সুশাসন ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে বিএনপির অঙ্গীকার উল্লেখ করা হয়েছে।
বিএনপি বলছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভোটে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে বিএনপি জবাবদিহিমূলক দায়বদ্ধ ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র ও সরকার প্রতিষ্ঠা করবে। সংবিধান ও নির্বাচন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে একটি টেকসই গণতান্ত্রিক কাঠামো গড়ে তোলা হবে। রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দর্শন হবে সবার আগে বাংলাদেশ।

গণতন্ত্র ও জাতিগঠনের ক্ষেত্রে তুলে ধরা হয়েছে- ৩১ দফা ও জুলাই সনদের বাস্তবায়ন : মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, গণতন্ত্রের মাতা বেগম খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা এবং জুলাই জাতীয় সনদে যেসকল বিষয়ে যে আঙ্গিকে ঐকমত্য ও স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেগুলো সেভাবে বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করা হবে।
মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস এবং ন্যায়পরায়ণ বাংলাদেশ গঠন, ফ্যাসিবাদ ও তাঁবেদারিত্বের পুনরাবৃত্তি দমন, বৈষম্য দূরীকরণ ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, ভোটকে রাষ্ট্রক্ষমতার একমাত্র বৈধ উৎস হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা, রাষ্ট্রের প্রত্যেক স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলসমূহকে সঙ্গে নিয়ে জনকল্যাণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন করা হবে এবং গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতির বিপরীতে ভবিষ্যৎমুখী এক নতুন ধারার রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে চায় বিএনপি। বিএনপি বিশ্বাস করে জাতি গঠন মানে কেবল রাষ্ট্র পরিচালনা নয়, বরং বিভাজন অতিক্রম করে একটি অভিন্ন জাতীয় সত্ত্বা নির্মাণ। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনের অবসান ঘটানো, আমাদের একটাই পরিচয়- আমরা সবাই বাংলাদেশী। বাংলাদেশের মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, পাহাড়ের মানুষ, সমতলের মানুষ, ধনী-দরিদ্র্য নির্বিশেষে সকলে মিলে আমরা গড়ে তুলব জাতীয় ঐক্য ও অখণ্ড জাতীয় সত্ত্বা। ‘ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং কমিশন’ গঠন।
মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান :
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ, গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের কল্যাণার্থে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন আলাদা বিভাগ প্রতিষ্ঠা, গণঅভ্যুত্থান ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের সার্বিক সহায়তা প্রদান।

সাংবিধানিক সংস্কার :
সংবিধানিক সংস্কারের উল্লেখযোগ্য বিষয় বলা হয়েছে- ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে সংবিধানে পুনঃস্থাপন করা হবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, অগণতান্ত্রিক সংশোধনী বাতিল, ৩১ দফার ভিত্তিতে সংস্কার, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, ভাইস-প্রেসিডেন্ট পদ সৃজন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ১০ বছর, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্য, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সংসদে উচ্চকক্ষ প্রবর্তন, বিরোধীদলীয় ডেপুটি স্পিকার, উচ্চকক্ষে ১০% নারী, ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন, আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বচ্ছতা, স্বাধীন নির্বাচন কমিশন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে সংস্কার, সিনিয়রিটির ভিত্তিতে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ প্রদান, প্রধান বিচারপতি প্রতিটি বিভাগে এক বা একাধিক স্থায়ী বেঞ্চ প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন, শক্তিশালী সুপ্রীম জুডিশিয়াল কাউন্সিল, পর্যায়ক্রমে জেলা পর্যায়ে স্থায়ী প্রসিকিউশন সার্ভিস, জাতীয় সংসদের বিভিন্ন কমিটির সভাপতি পদ সংসদে প্রাপ্ত আসনের সংখ্যানুপাতে বিরোধীদলের মধ্য থেকে নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে। প্রেসিডেন্টের ক্ষমায় নীতিমালা, স্থানীয় সরকারে স্বায়ত্তশাসন, পুলিশ কমিশন গঠন, স্বতন্ত্র তদন্ত সার্ভিস, জুলাই হত্যার বিচার, গণঅভ্যুত্থানকারীদের আইনি সুরক্ষা, ন্যায়পাল নিয়োগ, বেসরকারি খাতের দুর্নীতির তদন্ত ও বিচারের আইন, জাতীয় সংসদের অনুমোদন সাপেক্ষে বাংলাদেশকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘ওপেন গভরমেন্ট পার্টনারশিপ’, আয়কর রিটার্ন প্রাইভেট ডকুমেন্ট যেন আদালতের মাধ্যমে তা তলব করতে পারবে, তার নিশ্চয়তা বিধান করা হবে, রাজনৈতিক দলের সাথে বিজ্ঞ আইনজীবীদের সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা তাদের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অধিকার।

 

 

দুর্নীতি দমন:
দুর্নীতির বিষয়ে বিএনপি কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করেছে ইশতিহারে। এতে বলা হয়, ২০০১ সালে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের দায়িত্ব নিয়ে দুর্নীতি দমনে বিএনপি সরকারের কঠোর পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশ সারাবিশ্বে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কলঙ্ক থেকে মুক্তি পায়। ২০০৬ সালের অক্টোবর মাসে বিএনপি যখন রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে বিদায় নেয় তার অনেক আগেই বিশ্বে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়নের অপবাদ থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশ ইমার্জিং টাইগার হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য বেগম খালেদা জিয়া’র সরকার তৎকালীন ‘দুর্নীতি দমন ব্যুরো’কে সরকারের হস্তক্ষেপমুক্ত সম্পূর্ণ স্বাধীন সংস্থা হিসেবে ‘দুর্নীতি দমন কমিশন’ গঠন করে। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে বিএনপি সরকারের নানাবিধ পদক্ষেপের কারণে প্রথম বছর থেকেই দুর্নীতির সূচকে বাংলাদেশ অগ্রগতি লাভ করতে শুরু করে। ফলে ২০০২ সালে প্রকাশিত টিআইবি রিপোর্টে বাংলাদেশের স্কোর ০.৪ থেকে উন্নীত হয়ে ১.২ হয়। ২০০৩ সালে ১.৩, ২০০৪ সালে ১.৪, ২০০৫ সালে ১.৫ এবং ২০০৬ সালে ২.০। অর্থাৎ ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশে দুর্নীতি কমতে থাকে। পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের লাগামহীন দুর্নীতির ফলে ২০১৩ সাল থেকে বাংলাদেশের স্কোর আবারও কমতে থাকে।
এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জনগণের রায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে দুর্নীতি দমন এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণই হবে সর্বপ্রথম অগ্রাধিকার। এজন্যদুর্নীতি দমনে পদ্ধতিগত ও আইনি সংস্কার করা হবে, উন্মুক্ত দরপত্র ও রিয়েল-টাইম অডিট নিশ্চিত করা, ‘সিঙ্গেল-উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স’ প্রতিষ্ঠা ও বাস্তবায়ন, সরকারি ব্যয় ও প্রকল্পের ‘পারফরম্যান্স অডিট’ বাস্তবায়ন, অর্থপাচার রোধ ও ফ্যাসিস্ট আমলের পাচারকৃত অর্থ দেশে ফেরত আনা, অন্যায়কারীর পরিচয় শুধুই অন্যায়কারী, ন্যায়পাল নিয়োগ করবে বিএনপি।

 

সর্বস্তরে আইনের শাসন : জুলাই-আগস্ট-২০২৪ গণ-অভ্যুত্থানসহ ফ্যাসিস্ট আমলের মানবতাবিরোধী অপরাধের সুবিচার নিশ্চিতকরণ, গুম প্রতিরোধ ও আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

জনপ্রশাসন : ‘মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ’ বিনির্মাণ, স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সাথে পাঁচ লক্ষ সরকারি শূন্য পদে কর্মচারি নিয়োগ, ‘প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন’ গঠন, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গঠন, শক্তিশালী পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠন, বেসরকারি চাকুরিজীবীরা যাতে প্রাপ্য ন্যায্য সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেজন্য বেসরকারি সার্ভিস রুল প্রণয়ন করা হবে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে পেশাদারিত্ব বৃদ্ধি ও দলীয়করণ রোধ।

বিচার বিভাগ: বিচার বিভাগের কার্যকর স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, মামলার জট হ্রাস ও বিচারপ্রাপ্তি হয়রানিমুক্তকরণ, দুর্নীতিমুক্তকরণে বিচারসেবার আধুনিকায়ন, ‘সংবিধানের ৯৫(২)(গ) অনুযায়ী বিচারপতি নিয়োগ আইন’ প্রণয়ন
‘জুডিশিয়াল কমিশন’ গঠন: বর্তমান বিচার ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য সুপ্রীম কোর্টের নিয়ন্ত্রণাধীন পৃথক সচিবালয়কে আরো শক্তিশালী করা হবে। ‘সুপ্রীম জুডিশিয়াল কাউন্সিল’ ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা রক্ষা করবে বিএনপি।
পুলিশ : পুলিশ বাহিনীকে একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক

সমাজের উপযোগী ও শক্তিশালী করে জনবান্ধব ও সেবাবান্ধব পুলিশ প্রশাসন গড়ে তোলা হবে, পুলিশের নৈতিক মনোবল পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও জনআস্থা অর্জন, অন-লাইন অভিযোগ-দায়ের সুবিধা সম্প্রসারণ, ‘পুলিশ কমিশন’ আইন পুনঃনিরীক্ষণ পুলিশের দায়িত্ব পালনে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করা হবে।

 

 

স্থানীয় সরকার : বিএনপি বিশ্বাস করে, স্থানীয় সরকার হল গণতন্ত্র ও উন্নয়নের প্রাণকেন্দ্র। ক্ষমতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন শুধুমাত্র রাজধানী-কেন্দ্রিক না রেখে গ্রাম ও শহরের স্থানীয় নেতৃত্বের হাতে দায়িত্ব প্রদান করা হলে জনমুখী, কার্যকর ও টেকসই উন্নয়ন সম্ভব। স্থানীয় সমস্যা স্থানীয় পর্যায়েই সমাধান নিশ্চিতকরণ, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ডের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে একটি উপযুক্ত শক্তিশালী স্থানীয় প্রশাসন গড়ে তোলা হবে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা বৃদ্ধি ও খবরদারিমুক্তকরণ, পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিতকরণ, জনগণের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করা, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের উদ্যোগে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে বছরে অন্তত একবার উন্নয়ন কাজের উন্মুক্ত সভা আয়োজন, গ্রাম সরকারের প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে একে কার্যকর করা হবে, যাতে তৃণমূল পর্যায়ে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়, বিলবোর্ডের মাধ্যমে স্থানীয় সেবার উন্মুক্ত তথ্য প্রদান।

 

 

দ্বিতীয় অধ্যায়ে- বৈষম্যহীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ণ ও টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা
সামাজিক সুরক্ষা : বাংলাদেশের ৪ কোটি ১৭ লাখ মানুষ চরম দারিদ্র্যের কবলে নিপতিত। দারিদ্র্যের হার প্রায় ২৮ শতাংশ, অতি-দারিদ্র্য প্রায় দ্বিগুণ। বিএনপি মনে করে, দারিদ্র্য কোনো ব্যক্তিগত ব্যর্থতা নয়; এটি একটি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত সংকট। দেশের প্রায় ৫৩ লাখ বিধবা নারী, ৪৬ লাখ প্রতিবন্ধী, অসংখ্য নারীপ্রধান পরিবার, ঋণে নিমজ্জিত পরিবার, দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত জনগোষ্ঠী এবং খাদ্য-নিরাপত্তাহীন মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে বর্তমান সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা যুগোপযোগী ও টেকসই নয়। এজন্য বিএনপি মানবিক, ন্যায়সঙ্গত ও মর্যাদাভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার অঙ্গীকার করছে, যেখানে রাষ্ট্র প্রতিটি নাগরিকের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে। বিএনপি পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি পরিবারকে দিবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, মৎস্যচাষী ও প্রাণিসম্পদ খামারীদের ‘কৃষক কার্ড’ প্রদান করবে। এলক্ষ্যে সামাজিক সুরক্ষার আওতা সম্প্রসারণ ও অনিয়ম দূর করে স্বচ্ছতা আনয়ন, সামাজিক সুরক্ষা খাতে সুশাসন বাস্তবায়ন, ভাতার পরিমাণ মূল্যস্ফীতির নিরিখে বৃদ্ধি, বেসরকারি খাতে নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য বার্ধ্যক্যের দুর্দশা লাঘবের উদ্দেশ্যে পেনশন প্রদানের লক্ষ্যে ‘পেনশন ফান্ড’, দারিদ্র্য-পীড়িত ও পশ্চাৎপদ অঞ্চলে টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রতিবন্ধী মানুষবান্ধব জাতীয় নাগরিক সেবা গড়ে তোলা, পিতামাতার ভরণপোষণ আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার প্রদান, হতদরিদ্র এতিম শিশুদের জন্য বিশেষ তহবিল গঠন।
নারীর ক্ষমতায়ন : বিএনপি বিশ্বাস করে, নারী অধিকার, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হলে জাতীয় উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায় অর্জন সহজ হবে। বিএনপি নারীদের তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও সুরক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে সমাজে তাদের সম্পৃক্ততা এবং ক্ষমতাকে দৃঢ় করবে। এলক্ষ্যে-
পরিবারের নারী প্রধানের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান, স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা, নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিকাশ, নীতিনির্ধারণে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, প্রজনন ও মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা বৃদ্ধিকরণ, লিঙ্গ-ভিত্তিক ও অনলাইন সহিংসতা, বিদ্বেষ এবং বুলিং নিরোধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি বাস্তবায়ন, ইউনিয়ন পর্যায়ে বিশেষায়িত ‘নারী সাপোর্ট সেল’ প্রতিষ্ঠা, নারী উদ্যোক্তাদের আর্থিক ও দক্ষতা সহায়তা প্রদান, আনুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক খাতে নারী কর্মসংস্থান বৃদ্ধিকরণ, কর্মস্থলে ‘ডে-কেয়ার’ ও ‘ব্রেস্ট ফিডিং কর্ণার’ স্থাপন, স্বাস্থ্য ও হাইজিনের জন্য ‘ভেন্ডিং মেশিন’ স্থাপন।

কৃষক ও কৃষি উন্নয়ন : কৃষক ও কৃষি উন্নয়ন বিএনপির লক্ষ্য হলো আত্মনির্ভর, জলবায়ু-সহিষ্ণু, প্রযুক্তিনির্ভর ও কৃষক-কেন্দ্রিক একটি আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা। এজন্য কৃষক কার্ড ও কৃষকের সার্বিক সুরক্ষা, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষি ঋণ মওকুফ, ক্ষুদ্র ঋণের এক বছরের কিস্তি সরকার কর্তৃক পরিশোধ, বরেন্দ্র প্রকল্প পুনঃচালুকরণ, ফসলের ন্যায্যমূল্য ও কৃষিজমি সুরক্ষা এবং ক্রয় কেন্দ্র নির্মাণ, কৃষি বীমা ব্যবস্থা, খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, উত্তরাঞ্চলে কৃষি পণ্য রপ্তানি অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, ‘এগ্রোপ্রেনারশীপ’ স্টার্ট-আপ প্রকল্প গ্রহণ, অঞ্চলভিত্তিক কৃষি পণ্য উৎপাদন ও গবেষণায় গুরুত্ব প্রদান, প্রিসিশন এগ্রিকালচার, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও কৃষি, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলা, সমবায় পুনরুজ্জীবন, প্রাণিসম্পদ খাত উন্নয়ন, মৎস্য খাত উন্নয়ন।
নিরাপদ খাদ্য : বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপদ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণন হবে জাতীয় অগ্রাধিকার খাত।খাদ্যে ও ঔষধে ভেজাল রোধে মনিটিরিং ব্যবস্থা জোরদার ও আইনি ব্যবস্থার কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে, দেশব্যাপী নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ, নকল ও ভেজাল খাদ্য ভোগ্যপণ্য উৎপাদন, সরবরাহ ও বিপণণরোধে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও মনিটরিং বৃদ্ধি, নিরাপদ ফসল উৎপাদনের গুরুত্বারোপ, দেশজুড়ে ফল ও সবজির প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র এবং হিমাগার স্থাপন, কৃষক ও বাজারের সরাসরি সংযোগ গড়ে তোলা, শক্তিশালী ও কার্যকর ‘খাদ্য ও ঔষধ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ’ গঠন, খাদ্য আমদানিতে স্বচ্ছতা আনয়ন ও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন।

কর্মসংস্থান ও যুব উন্নয়ন : বর্তমানে দেশে বেকারের সংখ্যা প্রায় ২৭ লাখের বেশি, যার মধ্যে প্রায় ৯ লাখ স্নাতক ডিগ্রীধারী উচ্চশিক্ষিত বেকার রয়েছেন। ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ’ নীতির ভিত্তিতে বিভিন্ন খাতভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন – বিএনপি’র প্রথম ও প্রধান অগ্রাধিকার। যুব উন্নয়নে বিএনপি মূলত কারিগরি শিক্ষা, ডিজিটাল দক্ষতা, উদ্যোক্তা উদ্ভাবন ও বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ সুযোগ সম্প্রসারণে অগ্রাধিকার দেবে। ১৫-৬৪ বছরের কর্মক্ষম জনশক্তির জনমিতিক লভ্যাংশের সুবিধা ২০৪০ সাল পর্যন্ত বিদ্যমান। এই , কর্মক্ষম যুব জনগোষ্ঠীর জন্য মানসম্মত শিক্ষা, বাজারভিত্তিক দক্ষতা ও কর্মসংস্থান ও ব্যাপক কর্মমুখী কর্মসূচী গ্রহণ করে কর্মক্ষম জনসম্পদের ইতিবাচক সম্ভাবনা ও লভ্যাংশ দ্রুত আদায় নিশ্চিত করা হবে।
জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালুকরণ, বেকারভাতা প্রদান, বিদেশি ভাষা শিক্ষা ও স্টার্ট-আপ ফান্ড এবং যুব দক্ষতা উন্নয়ন অগ্রাধিকার প্রদান, চাহিদাভিত্তিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ ও ক্যারিয়ার সেন্টার, আইটি পার্কগুলোতে অফিস স্পেস ও ফ্রি ওয়াইফাই সুবিধা প্রদান, ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং প্রশিক্ষণ প্রদান, এসএমই ঋণ প্রদান ও অ্যামাজন, আলিবাবায় সংযুক্তকরণ, মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ, তথ্যপ্রযুক্তিতে নতুন শিল্প, উন্নয়ন প্রকল্পে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ট্যাক্স কাঠামো যৌক্তিক করা, আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সুবিধা চালু, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান, অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতিতে সহযোগিতা, সমঅধিকার ও অন্তর্ভুক্তি, মাধ্যমিক পর্যায়ে কারিগরি শিক্ষা অন্তর্ভুক্তি, ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়ন, ক্যারিয়ার পোর্টাল ও জব ম্যাচিং সেবা চালুকরণ, জাতীয় ডিজিটাল স্কিলস অথরিটি গঠন, রপ্তানি খাতের বৈচিত্র্য, উদ্ভাবন, স্টার্ট-আপ ও উদ্যোক্তা সহায়তা, ব্যবসা সহজ করার পরিবেশ।
শিক্ষা ও মানবসম্পদ : বাজেট ও অবকাঠামো- শিক্ষাখাতে পর্যায়ক্রমে জিডিপি’র ৫% বরাদ্দ। ফ্রি ওয়াই-ফাই, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব । মিড-ডে মিল চালু,পরিচ্ছন্ন টয়লেট ও নারী শিক্ষার্থীদের জন্য ভেন্ডিং মেশিন।
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা- বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস প্রদান ও প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার প্রসার। বাধ্যতামূলক ৩য় ভাষা শিক্ষা এবং ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কার্যক্রম। ক্রীড়া, দেশীয় সংস্কৃতি ও সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশে গুরুত্ব।
উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা- ইনোভেশন গ্রান্ট, স্টুডেন্ট লোন এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষায় সহায়তা। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে করমুক্ত রাখা ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মানোন্নয়ন। ইন্টার্নশিপ ও ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবরেশন বৃদ্ধি।
মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা- মাদরাসা শিক্ষার আধুনিকায়ন ও কওমী সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন। ক্বারী ও আলেমদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও চাকরিতে অগ্রাধিকার। সবার জন্য কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিতকরণ।
শিক্ষক ও সংস্কার- সার্বিক মানোন্নয়নে ‘শিক্ষা সংস্কার কমিশন’ গঠন। কারিকুলাম পর্যালোচনা এবং সংস্কার করা হবে। মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ, অবসর ভাতা সহজীকরণ ও রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদান। গণঅভ্যুত্থানে আহত শিক্ষার্থীদের বিশেষ সহায়তা।
স্বাস্থ্যসেবা : বাজেট ও অবকাঠামো- স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে জাতীয় বাজেটের বরাদ্দ জিডিপি’র অন্তত ৫% এ উন্নীত করা। দুর্নীতিমুক্ত স্বাস্থ্যসেবা ও ই-হেলদ কার্ড প্রদান করা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রতিটি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে দুর্নীতি নির্মূল করা।
স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ- দেশজুড়ে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হবে, যার মধ্যে ৪০% নারী, সকল মহানগর ও জেলা শহরে বসবাসকারী নাগরিকদের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, রোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্য সচেতনতা- গ্রাম পর্যায়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নারী, শিশু ও বয়স্কদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেবা প্রদান, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা- উপজেলা পর্যায়ে নিরাপদ প্রসবসহ আধুনিক মাতৃত্বকালীন ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা, প্রাণঘাতী রোগের চিকিৎসায় পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ- সরকারি সহায়তায় বেসরকারি হাসপাতালে ক্যান্সার ও হার্ট ফেইলিয়রের মতো জটিল রোগের সুলভ চিকিৎসা, ঔষধ ও ভ্যাকসিন সরবরাহের নেটওয়ার্ক- প্রয়োজনীয় ঔষধের দাম কমানো এবং বিনামূল্যে প্রাথমিক ঔষধ ও ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করা, মাবাহিত রোগ নির্মূল- বিজ্ঞান-ভিত্তিক মশা নিধন কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধ।

প্রতিরক্ষা : বিএনপি বিশ্বাস করে, সুশৃঙ্খল, রাজনীতিমুক্ত ও যুগোপযোগী সক্ষমতায় গড়ে ওঠা প্রতিরক্ষা বাহিনীই কেবল দেশকে নিরাপদ রাখতে পারে। সশস্ত্র বাহিনী যেন উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীকে অত্যাধুনিক, ক্ষিপ্র এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ করে ‘চতুর্মাত্রিক’ সশস্ত্র বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। একটি শক্তিশালী ‘ক্রেডিবল ডিটারেন্স’ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে যাতে যেকোনো বহিঃশত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করা যায়। সশস্ত্র বাহিনীকে সকল রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে রেখে সম্পূর্ণ পেশাদার ও সুশৃঙ্খল প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালনা করা হবে।‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতে একটি নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল এবং আধুনিক ‘প্রতিরক্ষা ডকট্রিন’ প্রণয়ন ও একটি ‘জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল’ প্রতিষ্ঠা করা হবে। সেনাবাহিনীর স্ট্র্যাটেজিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিমানবাহিনীর আধুনিকায়ন এবং নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ব্লু-ইকোনমির সর্বোচ্চ সুবিধা ও নৌ পথ নিশ্চিত নিরাপদ রাখার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান। সশস্ত্র বাহিনীর চাহিদা মেটাতে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ স্লোগানে স্বনির্ভর প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলা হবে। অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের মধ্যে আর্থিক সমতা আনতে ওয়ান র‌্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন নীতি কার্যকর করা হবে এবং রেশনসহ অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। গণতান্ত্রিক কাঠামোর উপযোগী সুদৃঢ় মিলিটারি-সিভিল রিলেশন স্থাপন করা হবে। সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অবস্থান নেওয়া হবে।

পররাষ্ট্রনীতি : বিএনপির পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি হলো ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। ‘বন্ধু আছে, কোনো প্রভু নেই’ এই নীতির আলোকে সমতা ও আত্মমর্যাদার ভিত্তিতে অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা হবে। বাংলাদেশ অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না এবং নিজের বিষয়েও হস্তক্ষেপ মেনে নেবে না।

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং রপ্তানি বাজার বহুমুখীকরণে অর্থনৈতিক কূটনীতিকে এবং দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি এবং বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিতে শ্রম ও অভিবাসন কূটনীতি জোরদার করা হবে। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে নিয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা হবে। পদ্মা ও তিস্তাসহ সকল অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক শক্তি এবং আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলির সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক জোরদার করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করা হবে। প্রতিবেশীদের সাথে সমতা, সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেই সম্পর্কের ভিত্তি হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়া, যা আমাদের সম্মিলিত অগ্রগতি নিশ্চিত করবে। মুসলিম বিশ্বের সাথে একটি ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ গড়ে তোলা হবে। সার্ককে কার্যকর করা এবং আসিয়ানের সদস্যপদ লাভে প্রচেষ্টা চালানো হবে। দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার মতো নতুন অঞ্চলে বাণিজ্যের প্রসার, সীমান্তে হত্যা, পুশ-ইন এবং চোরাচালান বন্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা হবে। ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও শিক্ষা বিনিময়ের মাধ্যমে ‘সফট পাওয়ার’ বাড়ানো হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসগুলোর জনবল ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে এবং প্রবাসীদের কল্যাণে সেবার মান উন্নয়ন করা হবে।

শ্রমিক কল্যাণ : প্রাইস-ইনডেক্সভিত্তিক মজুরি- মূল্যস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি ২ বছর অন্তর রিভিউ। সমান মজুরি- নারী, পুরুষ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য বৈষম্যহীন বেতন নিশ্চিতকরণ। পেনশন স্কিম- রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে শ্রমিকদের অবসরকালীন সুবিধা। রেশনিং ব্যবস্থা- শিল্প এলাকায় টিসিবি ও ওএমএস-এর মাধ্যমে সাশ্রয়ী নিত্যপণ্য। শ্রম সুরক্ষা আইন- রিকশাচালক ও গৃহকর্মীসহ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের জন্য নতুন আইন। মাতৃত্বকালীন ছুটি- সকল নারী শ্রমিকের জন্য ৬ মাসের সবেতন ছুটি। ট্রেড ইউনিয়ন- গণতান্ত্রিকভাবে ট্রেড ইউনিয়ন ও সিবিএ করার অধিকার। শিশু শ্রম নির্মূল- শিশু শ্রম পুরোপুরি বন্ধ করে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিতকরণ। চিকিৎসা ও শিক্ষা- শ্রমঘন এলাকায় বিশেষায়িত হাসপাতাল, ক্লিনিক ও স্কুল স্থাপন। কর্মপরিবেশ- আইএলও কনভেনশন মেনে নিরাপত্তা পরিদর্শন ও ক্ষতিপূরণ। নারী সুরক্ষা- যৌন হয়রানি বন্ধে জিরো টলারেন্স এবং নিরাপদ আবাসন। শিল্প চালুকরণ- বন্ধ থাকা পাট, বস্ত্র ও চিনিকল সচল করতে টাস্কফোর্স। বিচারের নিশ্চয়তা- জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের স্বীকৃতি এবং রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির দ্রুত বিচার। দক্ষতা বৃদ্ধি- চতুর্থ শিল্প বিপ্লব মোকাবিলায় শ্রমিকদের দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ।

প্রবাসীদের মর্যাদা ও সুরক্ষা : প্রবাসী কার্ড- ব্যাংকিং ও তথ্য সংবলিত বিশেষ স্মার্ট কার্ড। সাপোর্ট সেন্টার- দূতাবাস ও দেশে ওয়ান-স্টপ আইনি ও দাপ্তরিক সেবা। উদ্ধার উইং- বিদেশে নির্যাতিত বা প্রতারিত কর্মীদের আইনি সুরক্ষা। মর্যাদা নিশ্চিতকরণ- নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও বিমানবন্দরে সম্মানজনক সেবা। সহজ ঋণ- ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অভিবাসন ঋণ ও স্বল্প খরচে বিদেশ যাত্রা। ইনভেস্টমেন্ট পার্ক- প্রবাসীদের জন্য ১০০ একর জমিতে বিশেষ বিনিয়োগ জোন। রেমিট্যান্স প্রণোদনা- নিরাপদ গেটওয়ের মাধ্যমে বৈধ পথে টাকা পাঠানো। উদ্যোক্তা গঠন- প্রবাস ফেরতদের জন্য ডাটাবেজ ও এসএমই (ঝগঊ) ঋণ। প্রবাসী সিটি- আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন ‘ওয়েজ আর্নার্স গ্রীন সিটি’। মৃতদেহ প্রত্যাবর্তন- সরকারি খরচে দ্রুত ও সম্মানজনকভাবে লাশ দেশে আনা। সিন্ডিকেট নির্মূল- জনশক্তি রপ্তানিতে প্রতারণা ও আধিপত্য বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা। গবেষণা ইনস্টিটিউট- আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা বিশ্লেষণে বিশেষ প্রতিষ্ঠান। ১ কোটি কর্মসংস্থান- আগামী ৫ বছরে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন। কারিগরি সংস্কার- ৪০০০ কোটি টাকার প্রকল্প এবং ৯৫০০ জন বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষক । দক্ষতা কমিশন- কারিগরি শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক সমন্বয়। স্মার্ট স্কিল ব্যাংক- দক্ষ কর্মীদের ডিজিটাল ডাটাবেজ ও গ্লোবাল সার্টিফিকেট।
পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়ন : সবুজ বিপ্লব- ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, ৩.৫ লাখ সবুজ কর্মসংস্থান এবং ‘ট্রি মনিটরিং অ্যাপ’ চালুকরণ, নবায়নযোগ্য শক্তি- ২০৩০ সালের মধ্যে ২০% বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস (সৌর, বায়ু, বর্জ্য) থেকে উৎপাদন, সবুজ অর্থনীতি- কার্বন ট্রেডিং মার্কেট গঠন করে বছরে ১ বিলিয়ন ডলার আয় এবং গ্রিন বিল্ডিং সার্টিফিকেশন প্রবর্তন, কৃষি প্রযুক্তি- পানি সাশ্রয়ী ও মিথেন নির্গমন রোধে ধানি জমিতে অডউ প্রযুক্তি ব্যবহার।

সার্কুলার মডেল- বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করতে জেলা পর্যায়ে ‘মেটেরিয়াল রিকভারি সেন্টার’ ও ই-বর্জ্য কারখানা স্থাপন, থ্রি-আর (৩জ) নীতি- প্লাস্টিক বর্জ্য ৩০% হ্রাস এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ ও জৈব সার উৎপাদন, পরিবেশ রক্ষা- ক্ষতিকর প্লাস্টিক ও রাসায়নিক নিষিদ্ধকরণ এবং ঢাকার দূষণ রোধে বিশেষ অগ্রাধিকার।

প্রাকৃতিক সম্পদ ও পানি ব্যবস্থাপনায় জলাধার রক্ষা- নদী-খাল ও পাহাড় দখলদারদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং গ্রিন ক্যানেল ইকো-ট্যুরিজম উন্নয়ন, পানি নিরাপত্তা- তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়ন; যৌথ নদী কমিশনকে শক্তিশালীকরণ, আন্তর্জাতিক আইনি লড়াই- পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে ১৯৯৭ সালের ‘ইউনাইটেড নেশনস ওয়াটার কনভেনশন’ স্বাক্ষর।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় রেসকিউ ইউনিট- ‘জাতীয় সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ ইউনিট’ গঠন এবং প্রতিটি বিভাগে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স/হেলিকপ্টার নিশ্চিতকরণ, ফায়ার সেফটি- প্রতি উপজেলায় আধুনিক ফায়ার-রেসকিউ সেন্টার এবং ‘বিল্ডিং ফায়ার সেফটি কোড-২০২৬’ বাস্তবায়ন, পুনর্বাসন- নদী ভাঙন ও ভূমিকম্প উত্তর পুনরুদ্ধারে প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী ও পুনর্বাসন প্রকল্প।

 

তৃতীয় অধ্যায়ে ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধার
অর্থনৈতির গণতন্ত্রায়ণ- প্রতিটি নাগরিকের উৎপাদনশীল শক্তির ওপর ভিত্তি করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, অংশগ্রহণমূলক এবং সবার জন্য উন্মুক্ত অর্থনীতি গড়ে তোলা হবে। অর্থনীতিতে অলিগার্কিক কাঠামো ভেঙ্গে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ- সম্পদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করে ন্যায্য মূল্যবন্টন, অর্থায়ন এবং বাজারে সকলের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা হবে।
মধ্যবিত্তের ভিত্তি সম্প্রসারণ- উচ্চমানের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তা এবং মানসম্মত আবাসন ও শিক্ষার সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমরা মধ্যবিত্তের ভিত্তি সম্প্রসারণে অঙ্গীকারবদ্ধ। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সর্বাধিক প্রাধান্য- ঋণ-নির্ভরতার বদলে বিনিয়োগ-নির্ভর অর্থনীতি চালুর মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান ও নতুন সম্পদ তৈরি করা হবে। ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গঠন- ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি আধুনিক উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। রাজস্ব ও মুদ্রানীতির সমন্বয় সাধন-
রাজস্ব ও মুদ্রা ব্যবস্থার মধ্যে কার্যকর কৌশলগত মিল রেখে একটি গতিশীল আর্থিক ব্যবস্থাপনা তৈরি করা হবে। ব্যবসা সহায়ক পরিবেশ গঠন- বিনিয়ন্ত্রিকরণ নীতির মাধ্যমে ব্যবসার খরচ কমানো এবং একটি কার্যকর বাণিজ্যিক পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। সিঙ্গেল-উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স এবং ওয়ান স্টপ সার্ভিস বাস্তবায়ন-
হয়রানি ও জটিলতা কমাতে ডিজিটাল কর্মপ্রবাহ তৈরি এবং দাপ্তরিক কাজে সরাসরি শারীরিক উপস্থিতির প্রয়োজনীয়তা হ্রাস করা হবে।

বিনিয়োগ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানখাত সংস্কার : বিনিয়োগ ও বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ- বিনিয়োগ জিডিপি’র ২.৫ শতাংশে উন্নীতকরণ, নীতির আকস্মিক পরিবর্তন রোধ, বিডা-তে ‘সিঙ্গেল উইন্ডো’ বাস্তবায়ন, ‘এফডিআই ক্যাপ্টেন’ নিয়োগ ও ২৪/৭ ঘণ্টা সচল হেল্পডেস্ক, ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট সহজীকরণ, হয়রানিমুক্ত ও দ্রুত মুনাফার প্রত্যাবসান নিশ্চিতকরণ, ভ্যাট ও কাস্টমস রিফান্ড ডিজিটালাইজ করা, অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটালকরণ, যৌথ অংশীদারিত্বে কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গঠন, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় ‘ইনভেস্টর প্রোটেকশন রেগুলেশন’ প্রণয়ন, বাণিজ্যিক মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিকরণে ‘বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক আদালত’ প্রতিষ্ঠা, শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ, ‘নেক্সট ফ্রন্টিয়ার ইকোনমি’ ব্রা-িংয়ে বৈশ্বিক প্রচারণা, অযৌক্তিক কর সংস্কার ও আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম সহজীকরণ, অগ্রাধিকার খাত নির্ধারণ।

বেসরকারি খাত উন্নয়ন: সার্বিক নীতিগত সুবিধা প্রদান, লাইসেন্স প্রক্রিয়া সহজীকরণ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধিকরণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিল্পপার্কের সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ, সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে প্রণোদনা, রপ্তানিমুখী শিল্পে প্রণোদনা।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানখাত সংস্কার : সুদহার যৌক্তিকরণ, অবসায়িত ইসলামী ব্যাংকগুলোর আমানতকারীদের অর্থ ফেরত, ‘অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন’ গঠন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের শৃঙ্খলা, তদারকি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ ও ক্ষমতায়ন, ব্যাংকিং ডিভিশন বিলুপ্তিকরণ, ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধকরণ, খেলাপি ঋণ সমাধান ও বীমা খাত উন্নয়নে পদক্ষেপ গ্রহণ।

পুঁজিবাজার সংস্কার ও উন্নয়ন : সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন, ‘পুঁজিবাজার সংস্কার কমিশন’ গঠন, শেয়ারবাজারের স্বচ্ছতা আনয়ন, শেয়ারবাজার কারসাজি বন্ধকরণ, শক্তিশালী বন্ড ও ইক্যুইটি মার্কেট গঠন, কর্পোরেট বন্ড ও সুকুক প্রবর্তন, প্রবাসীদের জন্য ইনভেস্টমেন্ট গেটওয়ে চালুকরণ, পুঁজিবাজারে ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধিকরণ, পুঁজিবাজারে প্রবেশাধিকার সহজলভ্যকরণ স্টার্টআপ ও এসএমই খাতের জন্য ‘ডিজিটাল আইপিও এক্সপ্রেস’ ব্যবস্থা চালুকরণ, ‘পুঁজিবাজার ট্রাইব্যুনাল’ গঠন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুঁজিবাজার সংক্রান্ত শিক্ষার প্রসার।

বাণিজ্য সহজীকরণ ও আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ- অর্থনীতি উদারিকরণ ও বিনিয়ন্ত্রিতকরণ, ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট সম্পাদন, প্রতিযোগিতা সক্ষম বাণিজ্য গড়ে তোলা, রপ্তানিপণ্যের বৈচিত্রায়ন ও অর্থনৈতিক কূটনীতিতে গুরুত্বারোপ, বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে সংযুক্তিকরণ, লজিস্টিকস হাব প্রতিষ্ঠা।

নতুন শিল্পায়ন কৌশল: অভ্যন্তরীণ শিল্প ভিত্তি শক্তিশালী করা এবং শিল্পখাতের বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা প্রদানের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্পে সুনির্দিষ্ট বা টার্গেটেড সাপোর্ট প্রদানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া, বিনিয়োগবান্ধব নীতি গ্রহণ, বন্ধ শিল্প চালুকরণ ও রপ্তানিখাতে বৈচিত্র্য আনয়ন, রপ্তানিমুখী শিল্পগুলিকে বন্ডেড সুবিধা প্রদান করা হবে। বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাসকরণ, ‘ন্যাশনাল ট্রেড কম্পিটিটিভনেস কাউন্সিল’ ও ‘কৌশলগত টেক্সটাইল ফান্ড’ গঠন, অর্থায়ন ও প্রনোদনা, ‘ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড’, ‘ন্যাশনাল গ্রীন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পলিসি’, আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি।

কারু ও হস্তশিল্প এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন: এক অনচোল এক পণ্য – ফিরিয়ে আনবো হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য
নারী-নেতৃত্বাধীন হস্তশিল্প উদ্যোক্তা অর্থনীতি, দেশিও ব্র্যান্ড কে আন্তর্জাতিক বাজারে এর সাপোর্ট দেওয়া হবে।

অগ্রাহিকার খাত : কৃষিজাত পণ্য, ঔষধ, চামড়া, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং।

সৃজনশীল অর্থনীতির উন্নয়ন: জিডিপি’র ১.৫ শতাংশ অর্জন ও পাঁচ লক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আঞ্চলিক সৃজনশীল হাব গঠন ও প্রণোদনা প্রদান, দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ ও তহবিল গঠন, জাতীয় ব্রান্ড চালুকরণ ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠন।

সেবাখাত উন্নয়নে সমন্বিত কৌশল গ্রহণ: ব্যাংক, আইটি, পর্যটন ও স্বাস্থ্যসেবাসহ সকল সেবার জন্য ডিজিটাল সিঙ্গেল উইন্ডো এবং বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে আঞ্চলিক দপ্তর স্থাপনে প্রণোদনা দেওয়া হবে।
কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি বৈচিত্র্য বৃদ্ধিকরণ: সেবাখাতকে প্রযুক্তিনির্ভর ও রপ্তানিমুখী করার মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশন ও ব্র্যান্ডিংয়ে সহায়তা প্রদান: পেশাগত প্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তর্জাতিক মান সনদ অর্জন ও বৈশ্বিক ব্র্যান্ডিং তৈরিতে রাষ্ট্রীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত উন্নয়ন : উৎপাদন ও স্মার্ট গ্রিড সক্ষমতা বৃদ্ধি, ক্যাপাসিটি চার্জ ও চুক্তি সংস্কার, সর্বনি¤œ ব্যয়ভিত্তিক উৎপাদন পরিকল্পনা, জ্বালানি দক্ষতা ও বাধ্যতামূলক অডিট, জ্বালানি আমদানিতে নির্ভরতা হ্রাস, ক্রয় চুক্তিতে স্বচ্ছতা ও প্রকাশ, নতুন ক্রুড অয়েল রিফাইনারি স্থাপন, বাপেক্স শক্তিশালীকরণ ও গ্যাস অনুসন্ধান, সাশ্রয়ী ও স্বচ্ছ ট্যারিফ ব্যবস্থা, বিতরণ কাঠামো ও মূল্যনীতি সংস্কার, আঞ্চলিক জ্বালানি সংযোগ ও নিরাপত্তা, প্রান্তিক পর্যায়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সবুজ অর্থায়ন ও বিশেষ কর প্রণোদনা, ২০৩০ সালের মধ্যে ২০% নবায়নযোগ্য শক্তি, আঞ্চলিক যৌথ পানি-বিদ্যুৎ উদ্যোগ, পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার, রূপপুর প্রকল্প পর্যালোচনা ও তদন্ত, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন।
যোগাযোগ ও পরিবহন খাত : সড়ক পরিবহন নেটওয়ার্ক- জাতীয় এক্সপ্রেসওয়ে গ্রিড, দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতু এবং গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন। ব্যবস্থাপনা- স্মার্ট ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, বাস রুট রেশনালাইজেশন ও টার্মিনাল স্থানান্তর। নিরাপত্তা- নতুন সড়ক আইন, পৃথক লেন, রাইড শেয়ারিং ও শ্রমিকদের ইউনিফর্ম নিশ্চিতকরণ। নৌপরিবহন জলপথ- শহরের চারপাশে বৃত্তাকার নৌপথ খনন ও আধুনিক ‘ওয়াটার হাইওয়ে’ নির্মাণ। সংযোগ- উপকূলীয় দ্বীপের সাথে ফেরি যোগাযোগ ও বন্দরের আধুনিকায়ন।

অবকাঠামো- নদী তলদেশে টানেল নির্মাণ ও আন্তর্জাতিক মানের টার্মিনাল স্থাপন। রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণ- রেললাইন ডাবল-ট্র্যাক করা এবং উচ্চগতির ট্রেন চালু করা হবে। আধুনিকায়ন- এক্সপ্রেস সার্ভিস বৃদ্ধি ও পিপিপি (চচচ) মডেলে বেসরকারি বিনিয়োগ। ভাড়া ছাড়- শিক্ষার্থী, প্রতিবন্ধী ও সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য বিশেষ ছাড় কার্যকর।

সুনীল অর্থনীতি : টেকসই সমুদ্র অর্থনীতি ও উদ্ভাবন, জ্বালানি নিরাপত্তা ও সম্পদ আহরণ, মৎস্য সম্পদ সুরক্ষা ও লুণ্ঠন রোধ, সামুদ্রিক খাদ্য ও প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প, তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও অংশীদারিত্ব, সুনীল কর্মসংস্থান ও ইকো-ট্যুরিজম, জাতীয় সুনীল অর্থনীতি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা, পরিবেশবান্ধব জাহাজ নির্মাণ ও রিসাইক্লিং, মেরিটাইম ইনোভেশন ফান্ড ও ব্লু-বন্ড, ঔষধ শিল্পের কাঁচামাল ও গবেষণা, বন্দর আধুনিকীকরণ ও স্বচ্ছ শাসন, জাস্ট ট্রানজিশন ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা।

আইসিটি: এআই, সফটওয়্যার এবং হার্ডওয়্যার হাব- দেশকে আন্তর্জাতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও হার্ডওয়্যার উৎপাদন কেন্দ্রে রূপান্তর। ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান- সাইবার নিরাপত্তা ও এআই-সহ ৫টি খাতে ২ লাখ এবং ফ্রিল্যান্সিং/কন্টেন্ট ক্রিয়েশনে ৮ লাখ পদ সৃষ্টি। সবার জন্য দ্রুত এবং নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট- দেশব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ জনবহুল স্থানে বিনামূল্যে উচ্চগতির ইন্টারনেট নিশ্চিতকরণ। বৈশ্বিক ইন্টারনেট সংযোগ ও অবকাঠামো- সাবমেরিন ক্যাবল, এফটিটিএই ও লো অর্বিট স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ৯৯.৯৯৯% নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা।

সফটওয়্যার, অ্যাপ ও হার্ডওয়্যার শিল্পে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়ে যাওয়া
”মেইড ইন বাংলাদেশ” উদ্যোগের মাধ্যমে দেশীয় পণ্যকে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক করা।
জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা, সাইবার বুলিং ও নাগরিক তথ্য সুরক্ষা- শক্তিশালী নীতিমালা প্রণয়ন এবং জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্র স্থাপন। পে’পালসহ প্রযুক্তিভিত্তিক ক্যাশ-লাইট অর্থনীতি- লেনদেন সহজ করতে চধুচধষ এবং কেনাকাটার জন্য জাতীয় ই-ওয়ালেট চালু।

এআই-চালিত ডাটা সেন্টার ক্যাম্পাস, এজ ডাটা সেন্টর ও ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব- ক্লাউড-ফার্স্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশকে গ্লোবাল ‘এজ ডাটা সেন্টার হাব’ হিসেবে গড়ে তোলা। বিনিয়োগবান্ধব নীতি, স্টার্টআপ, ও উদ্ভাবন ফান্ড- ১০ বছরের কর সুবিধা এবং উদ্যোক্তাদের জন্য ভর্তুকিযুক্ত ঋণ ও স্টার্টআপ তহবিল। স্টার্টআপে জাতীয় ক্রাউডফান্ডিং প্ল্যাটফর্ম- নাগরিক ও প্রবাসীদের বিনিয়োগের জন্য আইনি কাঠামোর অধীনে প্ল্যাটফর্ম তৈরি। উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা সৃষ্টি ও সাশ্রয়ী সেবা নিশ্চিতকরণ- টেলিকম মার্কেট উন্মুক্ত করার মাধ্যমে ইন্টারনেটের ব্যয় হ্রাস।

রাজস্ব আয় ও ব্যয় ব্যবস্থাপনা : দ্রুত রাজস্ব- ভ্যাট সমন্বয় এবং তামাক ও দূষণকারী জ্বালানিতে কর দিয়ে জিডিপির অতিরিক্ত ২% আয়। সংস্কার- প্রশাসন সংস্কারের মাধ্যমে মধ্যমেয়াদে রাজস্ব ১০% বৃদ্ধি। রাজস্ব ন্যায্যতা- উচ্চবিত্তদের করজালে আনা, ডিজিটাল অডিট এবং বৈষম্যমূলক কর ছাড় বাতিল। অপচয় রোধ- মেগা প্রকল্পে সংসদীয় নজরদারি ও ব্যয়-লাভ বিশ্লেষণ বাধ্যতামূলক করা। কর্মসংস্থান- শ্রমঘন, ক্ষুদ্র শিল্প ও সবুজ অর্থনীতিতে সরকারি ব্যয় বাড়ানো। ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ- শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তিতে ব্যয় বাড়িয়ে দক্ষ জনশক্তি ও রপ্তানি বহুমুখীকরণ। সামাজিক চুক্তি- একটি টেকসই ও ন্যায়ভিত্তিক কর ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রজন্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

রাজস্ব বৃদ্ধির কৌশল : বিনিয়োগ-উৎপাদন-কর্মসংস্থান-ভোগ-কর চক্র সক্রিয়করণ, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ – রাজস্ব বৃদ্ধির প্রথম শর্ত, কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধি – করভিত্তির প্রাকৃতিক সম্প্রসারণ, উৎপাদন ও ভোগ বৃদ্ধি – ভ্যাট ও পরোক্ষ করের বৃদ্ধি, আয়কর ভিত্তি সম্প্রসারণ – প্রবৃদ্ধিকে রাজস্বে রূপান্তর, কর ছাড় সংস্কারের মাধ্যমে প্রণোদনা থেকে রাজস্ব ক্ষয় বন্ধ, সম্পত্তি ও সম্পদ কর, কর প্রশাসন সংস্কার।

 

অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়ন : চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী প্রতিষ্ঠা চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী ও কর্মসংস্থানের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন : উত্তরাঞ্চলের অবহেলা ঘুচিয়ে পরিকল্পিত কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন গড়ে তোলা হবে। বিশেষায়িত রপ্তানি অঞ্চল স্থাপনের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। উত্তরবঙ্গের কৃষি বিপ্লবের মাধ্যমে এ অঞ্চলের সুষম অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষির সার্বিক উন্নয়নে বরেন্দ্র প্রকল্পকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হবে। বরেন্দ্র অঞ্চলের সকল খালগুলো পুনঃ খনন করা হবে। আম সংরক্ষণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘বিশেষ হিমাগার’ স্থাপন করা হবে। তিস্তা এবং পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়নের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে পানি নিরাপত্তা, বন্যা ও মরুকরণ প্রতিরোধ নিশ্চিত করা হবে। এই উদ্যোগে ৭৫ লাখ হেক্টর জমি সেচ সুবিধা পাবে এবং ৫ কোটিরও বেশি মানুষ বন্যার কবল থেকে রক্ষা পাবে।

হাওড়-বাওড় অঞ্চলের উন্নয়ন : দুর্যোগ মোকাবিলায় টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং ‘উপকূল উন্নয়ন বোর্ড’ গঠনের মাধ্যমে নীল অর্থনীতি ও পর্যটন বিকশিত করা হবে।
উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়ন : টেকসই বেড়িবাঁধ ও আধুনিক সতর্কতা ব্যবস্থার মাধ্যমে উপকূলীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। নীল অর্থনীতি ও লবণাক্ততা সহনশীল কৃষিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। উপকূলীয় অঞ্চলের সমন্বিত উন্নয়নে একটি বিশেষায়িত ‘উপকূল উন্নয়ন বোর্ড’ গঠন করা হবে।

ভোলা-বরিশাল সেতু স্থাপন উপকূলীয় অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন করতে এবং অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ করা হবে। দেশের বৃহত্তম গঙ্গা-কপোতাক্ষ জি কে সেচ প্রকল্পের প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হবে, এতে ৪ জেলার ১৩ উপজেলার হাজার হাজার কৃষক চাষাবাদে সুফল লাভ করবে।

নগরায়ণ ও আবাসন এবং নিরাপদ ও টেকসই ঢাকা বিনির্মাণ : পরিকল্পিত আবাসন- উর্বর জমি রক্ষায় বহুতল ও গুচ্ছ আবাসন এবং নি¤œবিত্তদের জন্য সাশ্রয়ী ফ্ল্যাট। সেকেন্ডারি সিটি- ঢাকার চাপ কমাতে বড় শহরগুলোতে হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থানান্তর। ভূমি ও নাগরিক সেবা- দুর্নীতিমুক্ত ‘ভূমি ব্যাংক’ এবং আধুনিক বর্জ্য ও পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ। আধুনিক পরিবহন- মেট্রোরেল, মনোরেল, ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল এবং নারীদের জন্য ‘পিংক বাস’ চালু। নৌ-পথ ও যোগাযোগ- ঢাকার চারদিকে বৃত্তাকার নৌ-পথ ও রিং রোড দ্রুত সম্পন্ন করা। স্মার্ট সিটি- আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সকল নাগরিক সেবা নিশ্চিতকরণ।

পর্যটন খাত : ভিসা সহজীকরণ, এআই-ভিত্তিক ট্রাভেল অ্যাপ এবং দক্ষ ট্যুরিস্ট পুলিশ নিয়োগের মাধ্যমে পর্যটনকে আকর্ষণীয় করা হবে। জেলাভিত্তিক ‘কমিউনিটি ট্যুরিজম’, ইকো-ট্যুরিজম এবং নদীভিত্তিক ‘ওয়াটার ট্যুরিজম’ বিকশিত করা হবে। গ্রামীণ ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং বৈশ্বিক পরিচিতির জন্য বার্ষিক ‘ঢাকা ফুড অ্যান্ড কালচার ফেস্ট’ আয়োজন করা হবে।

ধর্ম, সমাজ, ক্রীড়া সংস্কৃতি ও সংহতি
ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার; বিভেদহীন ‘বাংলাদেশী’ পরিচয়, ধর্মীয় স্বাধীনতা: নির্বিঘেœ ধর্ম পালন ও উৎসব উদ্যাপনের নিশ্চয়তা, নিরাপত্তা- সংখ্যালঘু ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের জান-মাল এবং উপাসনালয় রক্ষায় কঠোর আইনি সুরক্ষা, ভাতা ও সম্মান- ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ সকল ধর্মীয় প্রধানের মাসিক সম্মানি ও উৎসব ভাতা,  বাজেট ও ব্যবস্থাপনা- ধর্মীয় ট্রাস্টের বাজেট বৃদ্ধি, ইসলামী গবেষণা সম্প্রসারণ এবং সাশ্রয়ী হজ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা- মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম দেশব্যাপী সম্প্রসারণ।

পাহাড় ও সমতলের নৃগোষ্ঠী : অধিকার ও নিরাপত্তা- ক্ষুদ্র ও বৃহৎ সকল নৃগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার এবং জান-মালের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, উন্নয়ন অধিদপ্তর- ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় পৃথক ‘নৃ-গোষ্ঠী উন্নয়ন অধিদপ্তর’ প্রতিষ্ঠা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা- পার্বত্য জেলা হাসপাতালগুলোর আধুনিকায়ন ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান- ইকো-ট্যুরিজম, পাহাড়ি হস্তশিল্পে বিনিয়োগ এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, পর্যটন- বেসরকারি উদ্যোগে পার্বত্য অঞ্চলে এক্সক্লুসিভ ট্যুরিজম জোন’ গড়ে তোলা, সামাজিক সুরক্ষা- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য শতভাগ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নিশ্চিতকরণ।
শিক্ষা ও তৃণমূল পর্যায় বাধ্যতামূলক শিক্ষাক্রম প্রতিভা অন্বেষণ বিকেএসপি ও বিশ্ববিদ্যালয়, অবকাঠামো ও মাঠ উন্নয়ন, ইনডোর ও স্পোর্টস ভিলেজ মাঠ পুনরুদ্ধার জাতীয় অলিম্পিক একাডেমি, সুশাসন ও নারী উন্নয়ন, রাজনীতিমুক্ত ক্রীড়াঙ্গন নারী ক্রীড়াবিদ, অর্থনীতি ও পেশাদারিত্ব, স্পোর্টস ইকোনমি পেশাদার লীগ গবেষণা ও ডিপ্লোম্যাসি ন্যাশনাল স্পোর্টস রিসার্চ ইনস্টিটিউট, পেশাদার খেলোয়াড় প্রোকলপো সকল খেলার নারী ও পুরুষ খেলোয়াড়দের পূর্ণাঙ্গ আর্থিক সহায়তা ও উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদানের লক্ষ্যে আমরা “পেশাদার খেলোয়াড় প্রকল্প” চালু করব।

 

গণমাধ্যম- পেশাগত স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা: সাংবাদিকদের কাজের সুরক্ষা প্রদান এবং দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের  ওপর সব ধরনের আগ্রাসন প্রতিরোধ, আইনি সংস্কার- ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পুনঃনিরীক্ষণ এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার, বিচার ও বিশেষ সেল- সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের বিচার নিশ্চিতকরণ এবং সুরক্ষায় ‘বিশেষ সেল’ গঠন, জবাবদিহিমূলক কাঠামো: স্বাধীন রেগুলেটরি বডি গঠন এবং ৩০ দিনের মধ্যে অনলাইন অভিযোগ নিষ্পত্তি, কল্যাণ ও বৈষম্যহীনতা- জাতীয় সাংবাদিক অবসর কল্যাণ বোর্ড গঠন এবং সরকারি বিজ্ঞাপনে রাজনৈতিক পক্ষপাত দূর করা।

পূর্বের খবরনির্বাচন কমিশনের উপর ক্ষুব্ধ বিএনপি
পরবর্তি খবরবিএনপি তথা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার প্রতিরোধে ‘করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় অনুষ্ঠিত