রাজধানীতে চলবে না ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, পুরোনো ফিটনেসবিহীন বাস ডাম্পিং নয়, ধ্বংস করা হবে

200

আজ থেকে ঢাকা শহরে চলবে না ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, জানিয়েছেন সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বুধবার (১৫ মে) রাজধানীর বনানীতে সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা পরিষদের সভা শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। ওবায়দুল কাদের বলেন, ঢাকার রাস্তায় পুরোনো ফিটনেসবিহীন বাস ডাম্পিং নয়, ধ্বংস করে দেয়া হবে।

আজ থেকে রাজধানীতে চলবে না ...

নিউজ২১ডেস্কঃ রাজধানী ঢাকার অলিগলি ও প্রধান সড়কে দাপিয়ে বেড়ায় ব্যাটারিচালিত রিকশা। বিপজ্জনক উল্লেখ করে বিভিন্ন সময় এসব অবৈধ রিকশার চলাচল বন্ধের দাবি উঠলেও এতদিন তা হয়নি। এখন থেকে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে ফিটনেসবিহীন বাস জব্দ করা ও ‘নো হেলমেট নো ফুয়েল’ অর্থাৎ মোটরসাইকেল চালকদের হেলমেট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

ঢাকায় ব্যাটারি বা যন্ত্রচালিত কোনো রিকশা চলতে না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

আজ বুধবার রাজধানীর বনানীতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ভবনে সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম সভায় এই নির্দেশ দেন ওবায়দুল কাদের।

সভায় সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকায় কোনো ব্যাটারিচালিত রিকশা চালানো যাবে না। এটা আগে কার্যকর করুন। এ ছাড়া ২২ মহাসড়কে রিকশা ও ইজিবাইক নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেটা বাস্তবায়ন করুন।’

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘ঢাকা সিটিতে ব্যাটারিচালিত রিকশা যাতে না চলে, সেই বিষয়ে শুধু নিষেধাজ্ঞা আরোপ নয়, এগুলো চলতে যাতে না পারে, সেটার ব্যবস্থা করুন।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ঢাকা সিটিতে মোটরসাইকেল অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছেন। এখন মোটামুটি সবাই হেলমেট পরেন। কিন্তু ঢাকার বাইরেও একটা নীতি গ্রহণ দরকার। “নো হেলমেট, নো ফুয়েল” (হেলমেট ছাড়া তেল নয়)। সারা দেশে মোটরসাইকেলের চালকসহ দুজনের বেশি বহন করা যাবে না। আর প্রত্যেকের হেলমেট থাকতে হবে। নয়তো জ্বালানি বিক্রি করা যাবে না।’

সারা দেশে মোটরসাইকেল-ইজিবাইকের কারণে দুর্ঘটনা বেশি হচ্ছে বলে জানান সড়ক পরিবহনমন্ত্রী। তিনি বলেন, এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ফিটনেসবিহীন গাড়ি স্ক্র্যাপ (ধ্বংস) করতে হবে।

উচ্চ হর্ন নিয়ে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, এখন থেকে ১০ বছর আগেই তাঁর প্রোটেকশন গাড়িতে হুটার বাজে না। হুটার বাজানো বন্ধ করা দরকার। জরুরি সেবা ছাড়া হুটার বাজানো যাবে না।

বিআরটিএতে আপাতত আর কোনো জনবল নিয়োগ হবে না বলে জানান ওবায়দুল কাদের।

এর আগে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র শহরের মধ্যে ব্যাটারিচালিত রিকশা-অটোরিকশা বন্ধে সম্মতি জানান।

সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ভয়াবহ ব্যাপার, যখন ব্যাটারিচালিত রিকশার চালকেরা দুই পা ওপরে উঠিয়ে বেপরোয়া গতিতে চালায়। অনেক প্রতিবন্ধী আছেন, যাঁরা চোখে কিছুটা কম দেখেন, তাঁরাও এই রিকশা নিয়ে নেমে পড়েন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, সিদ্ধান্তে আসা দরকার যে ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা, অটোরিকশা, ইজিবাইক চলবে না। এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

সভায় বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাজাহান খান, সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নূরী, বিআরটিএ চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পূর্বের খবরযুক্তরাষ্ট্র কেন বাংলাদেশের নির্বাচন ও গণতন্ত্র ইস্যুতে অবস্থান পরিবর্তন করলো?
পরবর্তি খবরআরেক ভয়াবহ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া শনাক্ত অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনা টিকায়