নিজস্ব প্রতিনিধিঃ টঙ্গীর তুরাগতীরে গতকাল বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে ঐক্য, শান্তি ও কল্যাণ কামনায় আখেরি মোনাজাতে অংশ নেন লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি।
টঙ্গীর তুরাগতীরে লাখো মানুষের আখেরি মোনাজাতে সমাপ্তি ঘটল বিশ্ব ইজতেমার। মোনাজাতে বিশ্ব মুসলিমদের মধ্যে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেন ভারতের মাওলানা ইউসুফ বিন সাদ।
গতকাল রবিবার বেলা ১১টা ১৭ মিনিটে দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমার আখেরি মোনাজাত শুরু হয়; শেষ হয় ১১টা ৪৩ মিনিটে। মোনাজাতে মাওলানা ইউসুফ বিন সাদ বলেন, হে আল্লাহ সারা দুনিয়ার সব মোমিন-মোমিনাত নারী-পুরুষকে ক্ষমা করে দিন। আমাদের তওবাগুলো কবুল করে নিন। দুনিয়ার সব মানুষকে মঙ্গল ও কল্যাণ দান করুন; ঈমান দৃঢ় করে দিন। আমাদের হকের ওপর থাকার তৌফিক দিন।
গতকাল ফজরের নামাজের পর বয়ান করেন ভারতের মাওলানা মুফতি মাকসুদ। এরপর বয়ান করেন মাওলানা ইউসুফ বিন সাদ। বয়ান শেষে মোনাজাত করেন তিনি।
এর আগে আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে ভোর থেকেই গাড়িতে, হেঁটে, ট্রেনে করে ইজতেমায় হাজির হতে থাকে বিভিন্ন জেলার মানুষ। ইজতেমা ময়দান পরিপূর্ণ হওয়ায় তারা দাঁড়িয়ে যান সড়ক ও ফুটপাতসহ আশপাশের ফাঁকা জায়গায়। আশপাশের বাসাবাড়ির ছাদেও দু-হাত তুলেছেন অনেকে।
বিশেষ ব্যবস্থা চান নারীরা : এবারের ইজতেমার মোনাজাতে প্রথম পর্বের মতো দ্বিতীয় পর্বেও বিপুলসংখ্যক নারী অংশগ্রহণ করেন। তবে তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা না থাকায় তারা যে যার মতো করে মোনাজাতে শরিক হন। কামারপাড়া সড়কের পাশে কয়েক নারীর সঙ্গে কথা হয়। তাদের মধ্যে জয়নব বিবি নামের একজন বলেন, আয়োজকরা যদি নারীদের মোনাজাতে অংশগ্রহণের বিশেষ ব্যবস্থা করত, তা হলে নারীদের জন্য অংশগ্রহণ করাটা সহজ হতো।
এবার প্রথম পর্বের ইজতেমায় ২০ মুসল্লি ও দ্বিতীয় পর্বে সাত মুসল্লির মৃত্যু হয়। প্রথম পর্বে ৭২টি দেশ থেকে আট হাজার এবং দ্বিতীয় পর্বে ৬৫ দেশ থেকে ৯ হাজার ২৩১ বিদেশি অংশগ্রহণ করেন। ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাতে মন্ত্রিপরিষদের একাধিক সদস্য, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক দলের নেতা এবং সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।
প্রসঙ্গত, ১৯৪৬ সালে প্রথম কাকরাইল মসজিদে ইজতেমা আয়োজন করা হয়। ১৯৬৬ সালে গাজীপুরে টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে বর্তমান ময়দানে স্থানান্তর হয় বিশ্ব ইজতেমা। গত ২ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে ৪ ফেব্রুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে প্রথম পর্বের (জুবায়েরপন্থি) বিশ্ব ইজতেমার সমাপ্তি ঘটে। মাঝে ৪ দিন বিরতি দিয়ে ৯ ফেব্রুয়ারি দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাযের অনুসারী (মাওলানা সাদপন্থি) মুসল্লিরা বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে অংশগ্রহণ করেন।





