মার্ক জাকারবার্গ ও ইলন মাস্কেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মালিকরা সবচেয়ে বড় স্বৈরশাসক

185

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মালিক মার্ক জাকারবার্গ ও ইলন মাস্কেরা সবচেয়ে বড় স্বৈরশাসক বলে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী সাংবাদিক মারিয়া রেসা  তার বক্তব্যে এসব নাম উল্লেখ করেন।

লোহার খাঁচায় লড়বেন মাস্ক-জাকারবার্গ! | কালবেলা

 

বিশ্ব ডেস্কঃ ফেসবুকের মার্ক জাকারবার্গ ও টুইটারের ইলন মাস্কের মতো টেক প্রধানরা সবচেয়ে বড় স্বৈরশাসক বলে মন্তব্য করেছেন সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় অবদান রাখায় ২০২১ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী সাংবাদিক মারিয়া রেসা।

ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তের প্রশাসনের সময় ব্যাপক রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের শিকার হন মার্কিন-ফিলিপিনা এই সাংবাদিক। এমনকি তাকে কারাবরণও করতে হয়েছে। তবে তার মতে, ‘‘মার্ক জুকারবার্গের তুলনায় দুতের্তে অনেক ছোট স্বৈরশাসক। আর এলন মাস্ক আরেক স্বৈরশাসক।”

পাউইসে হেই সাহিত্য উৎসবে বক্তৃতা করতে গিয়ে রেসা বলেন, ‘‘জাকারবার্গ ও মাস্ক প্রমাণ করেছেন, আমরা সবাই, সংস্কৃতি, ভাষা বা ভূগোল নির্বিশেষে, আমাদের মধ্যে পার্থক্যের চেয়ে অনেক বেশি মিল রয়েছে। কারণ আমাদের সবাইকে একইভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে।”

তিনি বলেন, ‘‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর আমাদের অনুভূতি পরিবর্তন করার ক্ষমতা রয়েছে। ফলে তারা আমাদের সার্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গিকে পরিবর্তন করে দেয়। তারা আমাদের আচরণের ধরন পরিবর্তন করে।”

 

মারিয়া রেসার নোবেল শান্তি পুরস্কার জয় কেন ফেসবুকের জন্য এক বড় ধাক্কা? |  The Business Standard

রেসা বলেন, ‘‘আত্ম-পরিচয়ের রাজনীতি তথা জাতি, ধর্ম, বর্ণ বা গোত্রের রাজনীতি সম্পর্কে অনলাইনে কথোপকথন বিশ্বজুড়ে এক ধরনের মেরুকরণ সৃষ্টি করেছে।”

রেসা আরও বলেন, ‘‘কিছু প্রশ্ন আছে, যেগুলো আমরা যে স্বাধীন, তা ভাবতে উত্সাহিত করে – কিন্তু আমরা আসলে তা নই।”

‘‘যেমন ফিলিপাইনে এটা ধনী গরিবের মধ্যকার মেরুকরণ তৈরি করে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে আবার ভিন্ন। আবার ব্ল্যাক লাইভ ম্যাটার্সের মতো ঘটনা রাশিয়ান প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া হয়। মানুষ একটা বিষয় বিশ্বাস করুক, এমন চিন্তা কারো মধ্যে ছিল না। বরং সেখানে চাওয়া ছিল, মানুষের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হোক।”

এই নোবেলজয়ীর মতে, ‘‘প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে মেরুকরণকে উস্কে দিচ্ছে, ভয়, ক্রোধ ও ঘৃণার উদ্রেক করছে তার প্রভাব ব্যক্তিগত স্তর ও সামাজিক স্তরে পড়ছে।”

জনগণের ওপর প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ হ্রাসে দুটি পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

রেসা বলেন, ‘‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৯৬ সালের কমিউনিকেশনস ডিসেন্সি অ্যাক্টের ২৩০ ধারা বাতিল হওয়া উচিৎ। কারণ এই আইনের ধারাতেই এই সংস্থাগুলো দায়মুক্তি পায়। আইনটি ব্যবহারকারীদের পোস্ট করা বিষয়বস্তুর বিষয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো স্বেচ্ছাচারী মনোভাব প্রকাশ করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি আশ্রয় নেওয়া থেকে রক্ষা করে।”

‘‘আরেকটি হলো- শিশুদের যথেষ্ট বয়স না না হওয়া অব্দি তাদের ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার না করতে দেওয়া।”

তার মতে, ‘‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালিতে চীনা মালিকানাধীন টিকটক নিষিদ্ধ করার প্রচেষ্টা দুর্দান্ত। তবে শুধু টিকটক নয়, সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সামগ্রিকভাবে ইন্টারনেটের বিষয়ে তৎপরতা নিতে হবে।”

পূর্বের খবরCommuters losing faith in metro rail?
পরবর্তি খবরA rare occasion: Dhaka air good on Tuesday morning