বিএনপি তথা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার প্রতিরোধে ‘করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় অনুষ্ঠিত

120

ঢাকা: জাতীয়তাবাদী মিডিয়া সেল ঢাকা ১৭ নির্বাচনী আসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো “অপপ্রচার ও অপতথ্য প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, মিথ্যা তথ্য ও গুজব ছড়িয়ে জনমতকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা রোধে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘অপপ্রচার ও অপতথ্য প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক এই কর্মশালার আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী মিডিয়া সেল, সংসদীয় আসন ঢাকা–১৭।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যা ৬টায় রাজধানীর মহাখালীর এস কে এস টাওয়ারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নাজিম উদ্দিন আলম, সদস্য সচিব ও উপদেষ্টা, বিএনপি চেয়ারপারসন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এ কে এম শরিফুল ইসলাম খান, আহ্বায়ক, অনলাইন মিডিয়া সেল (ঢাকা–১৭)। উক্ত সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন অনলাইন মিডিয়া সেলের সদস্য সচিব, মুস্তফা রফিকুল ইসলাম। উক্ত অনুষ্ঠানটি এসকেএস টাওয়ারে আমানা গ্রুপের এমডি জনাব মাসুদুল হকের সার্বিক সহযোগিতায় আমানা ফুড ভ্যালিতে অনুষ্ঠিত হয়।

নাজিম উদ্দিন আলম বলেন, “আমাদের তথাকথিত প্রতিপক্ষকে আমি প্রকৃত প্রতিপক্ষ মনে করি না। তারা কী করেছে—সেটাই ইতিহাস বলে দেয়। বটগাছের গায়ে যেমন লতা-পাতা জন্মায়, তেমনি তারা কেবল অনুসঙ্গ। মূল বটগাছ হলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।”

তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক ও সংকটকালের মহানায়ক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন,

“জিয়াউর রহমানের আহ্বানেই ছাত্রসমাজ, যুবসমাজ, সেনাবাহিনী ও সাধারণ জনগণ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। ১৯৭৫-এর পর ধ্বংসপ্রায় বাংলাদেশকে তিনি নতুন করে গড়ে তুলেছেন, সেনাবাহিনীকে সুসংগঠিত ও মর্যাদাবান করেছেন এবং দেশকে আত্মনির্ভরতার পথে এগিয়ে নিয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, “তার অনুপস্থিতিতে আপসহীন নেতৃত্ব দিয়েছেন আমাদের প্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া—বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছেন।”

আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন,“তারা গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে, দেশ লুট করেছে, টাকা পাচার করেছে এবং আজ বিদেশে পালিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তারা জনগণের ও দেশের প্রতিপক্ষ।”

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ড. নিলুফার ইয়াসমিন মনি। তিনি বলেন, “মিথ্যা ও গুজবের বিরুদ্ধে এখনই রুখে দাঁড়ানোর সময়। বয়স বা অবস্থান যাই হোক, খারাপ কথা সবাইকে কষ্ট দেয়। একজন বন্ধুর কষ্ট যদি আরেক বন্ধু অনুভব না করে, তাহলে দলের কষ্টও অনুভব করা সম্ভব নয়।”

তিনি সময়ের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন,“হাতে সময় খুব কম। প্রতিদিন ১০–২০ জন করে বসে পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে হবে। কোথায় প্রতিপক্ষ কতটা সক্রিয়, আর আমরা কতটা কার্যকর—সেটার হিসাব নিয়মিত রাখতে হবে।”

ড. নিলুফার ইয়াসমিন মনি আরও বলেন,“দলের নেতা জনাব তারেক রহমানের প্রতিটি বক্তব্য প্রতিপক্ষ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তাই দলীয় কর্মীদের আরও সতর্ক ও সক্রিয় হতে হবে। ১২ তারিখ পর্যন্ত সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে (রেড সিগনাল) থেকে দিন-রাত পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করতে হবে।”

ভুয়া ও বট আইডি থেকে অপপ্রচার শনাক্ত হলে দ্রুত গ্রুপভিত্তিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, “১০ জনের একটি গ্রুপ থেকেই হাজারো মানুষের শক্তিশালী গণসংযোগ তৈরি করা সম্ভব।”

নিজের ত্যাগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন,“আমি মনোনয়ন না পেলেও নীরবে দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। বিএনপির জন্য শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত দিতে প্রস্তুত।”

উক্ত অনুষ্ঠানটি এসকেএস টাওয়ারে আমানা গ্রুপের এমডি জনাব মাসুদুল হকের সার্বিক সহযোগিতায় আমানা ফুড ভ্যালিতে অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিক, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও মিডিয়া কর্মীরা অপপ্রচার মোকাবিলায় সমন্বিত ও সংগঠিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি নিয়মিত আয়োজনের দাবি জানান।

 

পূর্বের খবরসংসদ নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণা করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান
পরবর্তি খবরনিশ্চিত জয়ের পথে বিএনপি, জামায়াতের সঙ্গে করবে না কোন ঐক্য: রয়টার্সকে তারেক রহমান