ঢাকাঃ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপে দেশে এক দশকে বেড়েছে শিশু শ্রমিক। সারাদেশে ৫-১৭ বছর বয়সি শিশু ৩ কোটি ৯৯ লাখ, কর্মজীবী শিশু ৩৫ লাখ ৩৬ হাজার ৯২৭ জন, শিশুশ্রমের সঙ্গে জড়িত ১৭ লাখ ৭৬ হাজার। ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ১০ লাখ ৬৮ হাজার শিশু। গত ১০ বছরে দেশে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা বেড়েছে ৭৭ হাজার ২০৩ জন। দেশে এখন শিশু শ্রমিকের সংখ্যা ১৭ লাখ ৭৬ হাজার ৯৭ জন। যা ২০১৩ সালে ছিল ১৬ লাখ ৯৮ হাজার ৮৯৪ জন। তবে শ্রমিকের সংখ্যা বাড়লেও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশুদের অংশগ্রহণ কমেছে। পরিসংখ্যান ভবনে জাতীয় শিশু শ্রম জরিপ ২০২২-এর তথ্যে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রতিবেদনে এ তথ্য দেখা গিয়েছিল।
কিন্তু বর্তমানে দেশে শিশুশ্রম অনেক বেড়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জাতীয় শিশুশ্রম প্রতিবেদন মতে বর্তমানে কর্মজীবী শিশুর সংখ্যা ৩৫ লাখ ৩৬ হাজার । যা ২০১৩ সালে ছিল ৩৪ লাখ ৫০ হাজার। প্রতিবেদন মতে ৮ দশমিক ৯০ শতাংশ শিশু শ্রমের সঙ্গে জড়িত। যা ২০১৩ সালে ছিল ৮ দশমিক ৭০ শতাংশ। তবে প্রতিবেদনে বলা হয় দেশে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমের হার কমেছে। ২০২২ সালের শিশুশ্রম জরিপ অনুযায়ী ১০ লাখ ৬৮ হাজার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম জড়িত। যা ২০১৩ সালে ছিল ১২ লাখ ৮০ হাজার ।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিসংখ্যান ভবনে শিশুশ্রম জরিপ ২০২২ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে জানানো হয় ৫-১৭ বছর বয়সি শিশু ৩ কোটি ৯৯ লাখ, কর্মজীবী শিশু ৩৫ লাখ ৩৬ হাজার ৯২৭ জন, শিশুশ্রমের সঙ্গে জড়িত ১৭ লাখ ৭৬ হাজার।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. শহীদুজ্জমান সরকার এমপি, বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব ড. শাহনাজ আরেফিন এনডিসি, সম্মানিত অতিথি ছিলেন এইএলওর দেশীয় পরিচালক টুমো পটিআইনেন, ব্রিটিশ হাই কমিশনের ডেপুটি কমিশনার ডেভেলপম্যান্ট ম্যাট ক্যানেল।
মো. শহীদুজ্জমান সরকার এমপি বলেন, প্রতিবন্ধকতা বিদ্যমান থাকলেও সরকার ২০২৫ সালের মধ্যে শিশুশ্রম নিরসনে কাজ করছেন। এই জরিপের ফলাফল সরকারের পরিকল্পনা গ্রহণ বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবে।
ড. শাহনাজ আরেফিন এনডিসি বলেন, শিশুরা আমাদের আবেগের সঙ্গে জড়িত। শিশুশ্রম নিরসনে সংশ্লিষ্ট সকলে সম্মিলতভাবে কাজ করলে দেশের শিশুশ্রম বন্ধ হবে।
শিশুশ্রম জরিপ ২০২৩ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর সহযোগিতায় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) কর্তৃক বাস্তবায়ন করা হয়।






