বাংলাদেশিরা ভিসা ছাড়াই ঘুরে আসতে পারেন যেসব দেশে

245
ঢাকাঃ বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা ৪০টি দেশে ভিসামুক্তভাবে বা অন-অ্যারাইভাল ভ্রমণ করতে পারবে, ২০২৫ সালের সূচক অনুসারে।
আসন্ন ঈদুল ফিতরে বড় ধরনের ছুটি পেতে যাচ্ছেন চাকরিজীবীরা। টানা ৯ দিন ছুটি পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। এর সাথে ঈদের আগের বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত একদিন ছুটি নিলেই কাটানো যাবে ১১ দিনের লম্বা ছুটি। যা ভ্রমণপিপাসু ও পর্যটন প্রিয় মানুষদের জন্য বাড়তি আনন্দ যোগ করবে।

এবারের ঈদের এ লম্বা ছুটি বিদেশে ঘুরতে যাওয়ার জন্য চমৎকার একটি সুযোগ। এয়ারলাইন্স এবং ট্যুর কোম্পানিগুলোও ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে দেশ ভ্রমণের জন্য বিভিন্ন অফার দিয়ে থাকে। তাই, চাইলে আপনি এক্ষুনি প্ল্যান করে ভিসা জটিলতা ছাড়াই ঘুরে আসতে পারেন বিশ্বের প্রায় অর্ধশত দেশে। এই ঈদে ভিসা ছাড়াই আপনি যেসব দেশে ঘুরে আসতে পারেন, সেগুলো এখানে তুলে ধরা হলো।

ঈদের ছুটিতে ভিসা ছাড়াই ঘুরে আসতে পারেন যেসব দেশে

২০২৫ সালের সূচক অনুসারে, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা ৪০টি দেশে ভিসামুক্তভাবে বা অন-অ্যারাইভাল ভ্রমণ করতে পারবে। সূচকে বলা হয়েছে, এখন বাংলাদেশের পাসপোর্টধারী ব্যক্তিরা আগাম ভিসা ছাড়া বিশ্বের ৪০টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন; যেখানে গত বছর ৪২টি দেশে ভ্রমণ করতে পারতেন। ওই সময় সূচকে বাংলাদেশের সঙ্গে একই অবস্থানে ছিল উত্তর কোরিয়া।

সম্প্রতি (৮ জানুয়ারি) বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাসপোর্টের র‌্যাংকিং প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা দ্য হ্যানলি অ্যান্ড পার্টনার্স। এতে শক্তিশালী পাসপোর্টের দিক থেকে ১০০তম স্থানে উঠে আসে বাংলাদেশের নাম। বিশ্বে ভিসামুক্ত চলাচল স্বাধীনতার ওপর গবেষণা করে এ সূচক প্রকাশ করে তারা। যার ফলে বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়ে বিশ্বের ৪০টি দেশে ভিসা ছাড়াই যেতে পারবেন এদেশের নাগরিকরা।

আগাম ভিসা ছাড়া বাংলাদেশিদের ভ্রমণের এই তালিকায় আছে এশিয়ার আরও ৬ দেশ। এছাড়া আছে দক্ষিণ আমেরিকার ১টি, আফ্রিকার ১৬টি, ক্যারিবীয় ১১টি এবং ওশেনিয়ার ৮টি দেশ ও অঞ্চল। এর মধ্যে কিছু দেশ ও অঞ্চলে অন অ্যারাইভাল বা বিমানবন্দরে নামার পর ভিসার সুবিধা পান বাংলাদেশিরা। শ্রীলঙ্কা ও কেনিয়ার ক্ষেত্রে নিতে হবে ই-ভিসা।

ভিসা ছাড়াই যেসব দেশে যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা
২০২৪-এ হেনলি পাসপোর্ট ইন্ডেক্স অনুসারে পৃথিবীর ২২টি দেশ বাংলাদেশের পাসপোর্ট থাকা নাগরিকদের সম্পূর্ণ ভিসা-অব্যহতি সুবিধা দিয়েছিল। কিন্তু এবার এই সংখ্যাটি কমে দাড়িয়েছে ২১।

চলুন, বাংলাদেশের জন্য এই ভিসামুক্ত গন্তব্যের দেশগুলো এক নজরে দেখে নেওয়া যাক-

১. বাহামাস, ২. বার্বাডোস, ৩. ভুটান, ৪. ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ, ৫. কুক দ্বীপপুঞ্জ, ৬. ডমিনিকা, ৭. ফিজি, ৮. গ্রেনাডা, ৯. হাইতি, ১০. জ্যামাইকা, ১১. কিরিবাতি, ১২. মাদাগাস্কার, ১৩. মাইক্রোনেশিয়া, ১৪. মন্টসেরাট, ১৫. নিউ, ১৬. রুয়ান্ডা, ১৭. সেন্ট কিট্স এবং নেভিস, ১৮. সেন্ট ভিন‌্সেন্ট এবং গ্রেনাডাইন্স, ১৯. দ্যা গাম্বিয়া, ২০. ত্রিনিদাদ ও টোবাগো এবং ২১. ভানুয়াতু।

ভিসা ছাড়াই যেসব দেশে

২০২৪-এর সূচকের পূর্ণাঙ্গ ভিসামুক্ত ক্যাটাগরি থেকে যে দেশটি এবার বাদ পড়েছে সেটি হচ্ছে লেসোথো। দেশটিতে যেতে হলে বাংলাদেশিদের এখন থেকে দেশ ত্যাগের পূর্বেই যথাযথ আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভিসা সংগ্রহ করতে হবে। ক্যাটাগরির বাকি ২১টি দেশের প্রত্যেকটিই অপরিবর্তিত রয়েছে, কোনোটির সঙ্গেই নতুন কোনো দেশের প্রতিস্থাপন হয়নি।

অন-অ্যারাইভাল ভিসায় যেসব দেশে যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা 
এই অভিবাসন নীতি অনুসারে বিদেশ গমনকারী গন্তব্যের দেশে প্রবেশের আগ মুহুর্তে ভিসা হাতে পান। বিমানবন্দর, সমুদ্র বন্দর, কিংবা স্থলবন্দর; যেকোনো চেকপয়েন্টে এই কার্যক্রমটি সম্পন্ন করা হয়। এ ধরনের অনুমতি নিয়ে বিদেশে প্রবেশ এবং সেখানে থাকার জন্য সুনির্দিষ্ট মেয়াদ থাকে। এই সময়সীমা একেক দেশে একেক রকম। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিনামূল্যে দেওয়া হলেও কোনো কোনো দেশে এই ভিসার জন্য ফি রাখা হয়।

২০২৫-এর হেনলি পাসপোর্ট ইন্ডেক্স মতে, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের ক্ষেত্রে ১৬টি দেশে এই ভিসা-নীতি অনুসরণ করা হবে। দেশগুলোর তালিকা নিম্নরূপ-
১. বলিভিয়া, ২. বুরুন্ডি, ৩. কম্বোডিয়া, ৪. কেপ ভার্দে দ্বীপপুঞ্জ, ৫. কমোরো দ্বীপপুঞ্জ, ৬. জিবুতি, ৭. গিনি-বিসাউ, ৮. মালদ্বীপ, ৯. মৌরিতানিয়া, ১০. মোজাম্বিক, ১১. নেপাল, ১২. সামোয়া, ১৩. সিয়েরা লিওন, ১৪. সোমালিয়া, ১৫. তিমুর-লেস্তে, ১৬. টুভালু।

আগের বছর এই সংখ্যাটি ছিল ১৮। এবার এই ক্যাটাগরি থেকে বাদ পড়েছে সেশেলস  এবং টোগো। সেশেলস  এখন থেকে বাংলাদেশিদের জন্য ইটিএ পদ্ধতি অনুসরণ করবে, আর টোগো’তে থাকছে ই-ভিসা নীতি।

যেসব দেশে যেতে বাংলাদেশিদের ইটিএ প্রয়োজন হবে
ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন বা ইটিএ হচ্ছে ভ্রমণের ডিজিটাল ছাড়পত্র, যা সরাসরি পাসপোর্টের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। এই অনুমতি ভ্রমণের আগে নিতে হয়, তবে প্রক্রিয়াটির জন্য দূতাবাসে সশরীরে না যেয়ে অনলাইন থেকেই করে নেওয়া যায়। ইটিএ প্রদানকারী প্রত্যেকটি দেশের অভিবাসন ওয়েবসাইটে এই ইলেক্ট্রনিক পরিষেবাটি রয়েছে।

২০২৫-এ ৩টি দেশে ভ্রমণকালে এই ছাড়পত্র পাওয়া যাবে। দেশগুলো হলো: ১. শ্রীলঙ্কা, ২. কেনিয়া, ৩. সেশেলস।

বিগত বছরের অন-অ্যারাইভাল তালিকায় থাকা সেশেলস এ বছর যুক্ত হয়েছে ইটিএ ক্যাটাগরিতে। হেনলি ইন্ডেক্স অনুযায়ী সম্পূর্ণ ভিসা-অব্যহতি, অন-অ্যারাইভাল ও ইটিএ- এই তিন ভিসা-নীতিকে এক সঙ্গে ভিসামুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই নিরীখে চলতি বছর বাংলাদেশের জন্য ভিসামুক্ত গন্তব্যের সংখ্যা সর্বমোট ৪০ যা গত বছরে ছিল ৪২।

এই পরিবর্তনের কারণে হেনলি ইন্ডেক্সে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৭ থেকে নেমে এসেছে ১০০তে। ২০২১ সালে বাংলাদেশ সর্বনিম্ন মাত্রায় পৌঁছেছিল। তারপর থেকে একটানা তিন বছর ক্রমশ উন্নয়নের পর আবারও নিম্নগামী হলো বাংলাদেশি পাসপোর্টের মান।

যে দেশগুলো বাংলাদেশিদের ই-ভিসার সুবিধা দিচ্ছে
ইটিএ এবং ইলেক্ট্রনিক বা ই-ভিসা উভয়ের সঙ্গেই অনলাইন পদ্ধতির সম্পৃক্ততা থাকলেও দুয়ের মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। ই-ভিসা মূলত পড়াশোনা, চাকরি বা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে দীর্ঘ দিনের জন্য বিদেশ গমনের নিমিত্তে করা হয়ে থাকে। অপরদিকে, ইটিএ-এর মূল উদ্দেশ্য থাকে পর্যটন বা ট্রাঞ্জিট; তথা স্বল্প সময়ের জন্য গন্তব্যের দেশটিতে থাকা।

ডিজিটাল পদ্ধতির পরেও ই-ভিসার আবেদন প্রক্রিয়াতে প্রায় ক্ষেত্রে সহায়ক নথির প্রয়োজনীয়তা থাকায় প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়। অন্যদিকে, ইটিএ-এর জন্য খুব বেশি নথির বাধ্যবাধকতা নেই, যার কারণে প্রক্রিয়া বেশ দ্রুত এবং সহজ হয়।

এ বছর যে দেশগুলোতে যেতে বাংলাদেশের পাসপোর্টধারীদের ই-ভিসা করতে হবে, সেগুলো হলো-
১. আলবেনিয়া, ২. অ্যান্টিগুয়া এবং বারবুডা, ৩. আজারবাইজান, ৪. বাহরাইন, ৫. বেনিন, ৬. বতসোয়ানা, ৭. ক্যামেরুন, ৮. কলম্বিয়া, ৯. নিরক্ষীয় গিনি, ১০. গিনি, ১১. ইথিওপিয়া, ১২. গ্যাবন, ১৩. জর্জিয়া, ১৪. কাজাখস্তান, ১৫. কিরগিজস্তান, ১৬. মালয়েশিয়া, ১৭. মলদোভা, ১৮. মায়ানমার, ১৯. ওমান, ২০. পাকিস্তান, ২১. কাতার, ২২. সাও টোমে এবং প্রিন্সিপে, ২৩. সুরিনাম, ২৪. সিরিয়া, ২৫. তাজিকিস্তান, ২৬. তানজানিয়া, ২৭. থাইল্যান্ড, ২৮. টোগো, ২৯. তুর্কি, ৩০. উগান্ডা, ৩১. উজবেকিস্তান, ৩২. ভিয়েতনাম, ৩৩. জাম্বিয়া, ৩৪. জিম্বাবুয়ে।

২০২৪-এর তালিকা থেকে লেসোথো বাদ যাওয়ায় ২০২৫-এ বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য সম্পূর্ণভাবে ভিসামুক্ত দেশগুলোর সংখ্যা ২২ থেকে কমে ২১ হয়েছে। বর্তমানে ইটিএ পদ্ধতি অবলম্বন করা সেশেলস  বিগত বছর ছিল অন-অ্যারাইভাল তালিকায়। একই তালিকাভূক্ত টোগো এবার থেকে অনুসরণ করছে ই-ভিসা পদ্ধতি। তাই ১৮ থেকে অন-অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা দেওয়া দেশের সংখ্যা কমে দাড়িয়েছে ১৬। একই কারণে গতবারের ২টি থেকে বেড়ে বর্তমানে ৩টি দেশে রয়েছে ইটিএ ব্যবস্থা। সব মিলিয়ে ২০২৫ সালে মোট ৪০টি দেশে ভিসা ছাড়া যেতে পারবেন বাংলাদেশের পাসপোর্টধারীরা।

পূর্বের খবরডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে এশিয়াকে টিকতে হলে যা করতে হবে
পরবর্তি খবরসাংবাদিক ঐক্য পরিষদের তেঁজগাও সরকারি শিশু পরিবার এতিমখানায় এক ইফতার-দোয়া মাহফিল