অনলাইন ডেস্ক:
দুই মাসে শতাধিক মা কাছিমের মরদেহ উদ্ধার
আইন না মেনে যত্রতত্র মৎস্য আহরণ করছে বাণিজ্যিক ট্রলার
অবৈধ শিকারিদের তৎপরতায় উপকূলে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে
অলিভ রিডলে সি টার্টল বা জলপাইরঙা সাগর কাছিম। পান্না কাছিম নামে আছে আলাদা পরিচিতি। বঙ্গোপসাগরের কক্সবাজার উপকূল এ প্রজাতির কাছিমের অন্যতম প্রজননক্ষেত্র। প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগরের হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মা পান্না কাছিমের দল ডিম দিতে ছুটে আসে কক্সবাজার উপকূলে। কিন্তু এবারের প্রজনন মৌসুমটি মা কাছিমদের জন্য যেন পরিণত হয়েছে মৃত্যুফাঁদে।
২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের তফসিল-১ অনুযায়ী, কাছিমের এ প্রজাতিটি সংরক্ষিত হলেও শুধু গত দুই মাসে কক্সবাজার উপকূল থেকেই শতাধিক মা পান্না কাছিমের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। সবশেষ শুক্রবার একদিনেই কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে ভেসে আসে ২৪টি মৃত মা কাছিম। যাদের প্রতিটির পেটে ছিল ডিম।
গবেষক ও স্থানীয় জেলেরা জানান, সামুদ্রিক মৎস্য আইন ২০২০ অনুসারে বাণিজ্যিক ট্রলারগুলো ৪০ মিটারের অধিক গভীরতায় মৎস্য আহরণ করতে পারে। কিন্তু উদ্বেগের সঙ্গে দেখা যাচ্ছে, চলতি মৌসুমে বাণিজ্যিক ট্রলারগুলো আইন না মেনে নির্ধারিত গভীরতার ওপরে যত্রতত্র মৎস্য আহরণ করছে। ফলে জালে আটকে আহত ও মারা যাচ্ছে ডিম দিতে আসা মা পান্না কাছিম।
এছাড়া অনুমোদহীন ট্রলার ও জাল ব্যবহার করে মাছ শিকারের কারণে বঙ্গোপসাগরে এ প্রজাতির কাছিম বিলুপ্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ভেসে আসা সামুদ্রিক প্রাণীর মরদেহের নমুনা সংগ্রহ করে তার মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে গবেষণা করছেন বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বোরি) জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘এ নিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ৮৩টি মৃত মা কাছিম ভেসে আসার তথ্য পেয়েছি। তবে মৃত কাছিমের প্রকৃত সংখ্যাটি আরও অনেক বেশি।’
জলপাইরঙা সাগর কাছিম বিশ্বজুড়ে গ্রীষ্মপ্রধান এলাকার উপকূলে দেখা যায়। নভেম্বর থেকে মার্চ অলিভ রিডলি টার্টেলের প্রজননের সময়কাল। স্ত্রী কাছিম হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তাদের জন্মস্থানে ফিরে আসে ডিম পাড়তে। রাতে জোয়ারের সময় কাছিমেরা সমুদ্রতটে উঠে বালি খুঁড়ে তাদের বাসা বানায় ও গড়ে প্রায় ৩০ থেকে ১৬০টি ডিম পাড়ে। শিকারিদের থেকে ডিমগুলো বাঁচানোর জন্য তারা তাদের বাসা বালি চাপা দিয়ে দেয়। তবে এবার অবৈধভাবে উপকূলের কাছাকাছি চলে আসা বাণিজ্যিক ট্রলারের জালে আটকে ও নানাভাবে মা কাছিমদের করুণ মৃত্যু হচ্ছে।
☰
Logo
ভিডিও
EN
Home/ জাতীয়
বঙ্গোপসাগরে মৃত্যুফাঁদ, বিলুপ্তির শঙ্কায় পান্না কাছিম
আবু আজাদ | প্রকাশিত: ১২:১২ পিএম, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
বঙ্গোপসাগরে মৃত্যুফাঁদ, বিলুপ্তির শঙ্কায় পান্না কাছিম কক্সবাজার সৈকতে ভেসে আসা মৃত পান্না কাছিম/জাগো নিউজ
দুই মাসে শতাধিক মা কাছিমের মরদেহ উদ্ধার
আইন না মেনে যত্রতত্র মৎস্য আহরণ করছে বাণিজ্যিক ট্রলার
অবৈধ শিকারিদের তৎপরতায় উপকূলে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে
অলিভ রিডলে সি টার্টল বা জলপাইরঙা সাগর কাছিম। পান্না কাছিম নামে আছে আলাদা পরিচিতি। বঙ্গোপসাগরের কক্সবাজার উপকূল এ প্রজাতির কাছিমের অন্যতম প্রজননক্ষেত্র। প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগরের হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মা পান্না কাছিমের দল ডিম দিতে ছুটে আসে কক্সবাজার উপকূলে। কিন্তু এবারের প্রজনন মৌসুমটি মা কাছিমদের জন্য যেন পরিণত হয়েছে মৃত্যুফাঁদে।
বিপিএল টি২০ – ২০২৪
খুলনা টাইগার্স: ১২৮/৮ (২০ ওভার)
সিলেট স্ট্রাইকার্স: ১৩০/৪ (১৮.০ ওভার)
ফল: সিলেট স্ট্রাইকার্স ৬ উইকেটে জয়ী।
বিজ্ঞাপন
২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের তফসিল-১ অনুযায়ী, কাছিমের এ প্রজাতিটি সংরক্ষিত হলেও শুধু গত দুই মাসে কক্সবাজার উপকূল থেকেই শতাধিক মা পান্না কাছিমের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। সবশেষ শুক্রবার একদিনেই কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে ভেসে আসে ২৪টি মৃত মা কাছিম। যাদের প্রতিটির পেটে ছিল ডিম।
গবেষক ও স্থানীয় জেলেরা জানান, সামুদ্রিক মৎস্য আইন ২০২০ অনুসারে বাণিজ্যিক ট্রলারগুলো ৪০ মিটারের অধিক গভীরতায় মৎস্য আহরণ করতে পারে। কিন্তু উদ্বেগের সঙ্গে দেখা যাচ্ছে, চলতি মৌসুমে বাণিজ্যিক ট্রলারগুলো আইন না মেনে নির্ধারিত গভীরতার ওপরে যত্রতত্র মৎস্য আহরণ করছে। ফলে জালে আটকে আহত ও মারা যাচ্ছে ডিম দিতে আসা মা পান্না কাছিম।
এছাড়া অনুমোদহীন ট্রলার ও জাল ব্যবহার করে মাছ শিকারের কারণে বঙ্গোপসাগরে এ প্রজাতির কাছিম বিলুপ্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ভেসে আসা সামুদ্রিক প্রাণীর মরদেহের নমুনা সংগ্রহ করে তার মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে গবেষণা করছেন বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বোরি) জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘এ নিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ৮৩টি মৃত মা কাছিম ভেসে আসার তথ্য পেয়েছি। তবে মৃত কাছিমের প্রকৃত সংখ্যাটি আরও অনেক বেশি।’
বিজ্ঞাপন
আমরা এর আগে কখনো একসঙ্গে এত বেশি কাছিমের মৃত্যুর খবর পাইনি। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, উপকূলে প্রাণীর বিচরণ ও বাসস্থানে কোনো বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি খুব গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দেখা উচিত।- বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দার
জলপাইরঙা সাগর কাছিম বিশ্বজুড়ে গ্রীষ্মপ্রধান এলাকার উপকূলে দেখা যায়। নভেম্বর থেকে মার্চ অলিভ রিডলি টার্টেলের প্রজননের সময়কাল। স্ত্রী কাছিম হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তাদের জন্মস্থানে ফিরে আসে ডিম পাড়তে। রাতে জোয়ারের সময় কাছিমেরা সমুদ্রতটে উঠে বালি খুঁড়ে তাদের বাসা বানায় ও গড়ে প্রায় ৩০ থেকে ১৬০টি ডিম পাড়ে। শিকারিদের থেকে ডিমগুলো বাঁচানোর জন্য তারা তাদের বাসা বালি চাপা দিয়ে দেয়। তবে এবার অবৈধভাবে উপকূলের কাছাকাছি চলে আসা বাণিজ্যিক ট্রলারের জালে আটকে ও নানাভাবে মা কাছিমদের করুণ মৃত্যু হচ্ছে।
শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়কের উখিয়া উপজেলার সোনার পাড়া থেকে টেকনাফ সৈকত এবং মহেশখালী উপজেলার সোনাদিয়া উপকূলে ভেসে আসে ২৪টি মৃত মা কাছিম। যাদের অধিকাংশের পেটেই ডিম পাওয়া গেছে। গতকাল পর্যন্ত ৭৮টি মৃত মা পান্না কাছিম থেকে ৯ হাজার ১০৭টি ডিম সংগ্রহ করা হয়েছে।
বিজ্ঞানী তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা যেসব মৃত কাছিম উদ্ধার করেছি তার অধিকাংশের স্লিপার কাটা পেয়েছি। এছাড়া গলায় ফাঁস ও হাত-পা কেটে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে এমন কাছিমও পেয়েছি। মূলত জালে আটকে পড়া মা কাছিমদের এভাবে নির্দয়ভাবে আহত করে সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যারা দু-এক সপ্তাহ পর্যন্ত কষ্ট পেয়ে মারা যাচ্ছে। পরে পচা-গলা মা কাছিমের মরদেহ ভেসে আসছে সাগর তীরে।’
‘নিয়ম অনুযায়ী বাণিজ্যিক ট্রলারে টার্টল এক্সক্লুডার ডিভাইস (টিইডি) ব্যবহারের কথা থাকলেও সেটি ব্যবহার না হওয়ায় এবং জালে আটকে পড়া কাছিম ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা না থাকায় মা কাছিমরা নির্দয়ভাবে মারা যাচ্ছে।’, বলেন বিজ্ঞানী তরিকুল ইসলাম।
বাংলাদেশ মেরিন ফিশারিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এসকে আবিদ হুসাইনের দাবি, ৪০ মিটারের অভ্যন্তরে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ মাছ শিকার করে না
তিনি বলেন, ‘কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন উপকূলের বাইরে আমাদের ট্রলারগুলো মাছ শিকার করে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চিংড়ি ধরার জন্য বটম ট্রলিং (সাগরের তলদেশে) করা হয়। আর কাছিম হলো সাগরের মধ্যস্তরের প্রাণী। তাই আমাদের জালে পড়ে কাছিমের মৃত্যুর বিষয়টি সত্য নয়।’
‘দু-একটি কাছিম যদি জালে আসে, তা টার্টল এক্সক্লুডার ডিভাইস দিয়ে বের করে দেওয়া হয়। না জেনে অভিযোগ তোলা হলে আইইউসিএনসহ প্রকৃতির সুরক্ষা নিয়ে কর্মরত প্রতিষ্ঠানগুলো প্রশ্ন তুলে আমাদের মাছ ধরাই বন্ধ করে দেবে। তা দেশের জন্য ভালো হবে না।’ বলেন এসকে আবিদ হুসাইন।
তিনি অভিযোগ করেন, ‘বাণিজ্যিক ট্রলার নয়, বরং কক্সবাজার উপকূলে নতুন কিছু ফিশিং বোট চালু হয়েছে। যারা ৪০ মিটারের ভেতরে-বাইরে নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছ ধরছে। এছাড়া তারা অনুমোদনবিহীন দ্রুতগতির ইঞ্জিন ব্যবহার করছে। মূলত এ কারণেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মা কচ্ছপরা।’
আমরা যেসব জাহাজকে মাছ ধরার অনুমতি দেই, তাদের উপকূলের ৪০০ মিটারের অভ্যন্তরের মাছ ধরার অনুমতি নেই। যদি কেউ করে তাহলে তাদের লাইসেন্স বাতিল হয়।- সামুদ্রিক মৎস্য দপ্তর, চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক ড. মো. খালেদ কনক
সম্প্রতি সেন্টমার্টিন ভ্রমণে গিয়ে একই চিত্র দেখতে পান গবেষক ড. মোহাম্মদ আরশাদ উল আলম। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘সেন্টমার্টিনের সৈকতে বেশ কয়েকটি মা কাছিমের মরদেহ দেখেছি। এসব কাছিমের অধিকাংশের মৃত্যু হয়েছে সাত থেকে আটদিন আগে, তবে তাদের শরীরের ক্ষতগুলো তখনো স্পষ্ট ছিল।’





