দেশে জনগণের প্রতি বিভ্রান্তকারীদের নজরে রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর 

28

নিউজ ডেস্কঃ রোববার পুরাতন কিশোরগঞ্জ স্টেডিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের সম্মানি প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, যারা দেশে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তাদেরকে ‘চোখে চোখে’ নজরদারিতে রাখতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, ‘দেশে অনেক বিভ্রান্তকারী আছে, অনেক রটনাকারী আছে। এদের ব্যাপারে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে। দেখতে হবে এরা অতীতে কী করেছে? সেই অতীত বিবেচনা করে আমাদের তাদেরকে চোখে চোখে রাখতে হবে, অতীত বিবেচনা করেই ভবিষ্যতে তারা কী করছে সেদিকে আমাদেরকে নজর রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশকে আমাদের স্থিতিশীল রাখতে হবে। কোন বিভ্রান্তকারীর কথায় বিভ্রান্ত হলে চলবে না। বিভ্রান্তকারীরা যদি বিভ্রান্ত করতে আসে অতীতের মত তাদেরকে সমুচিত জবাব দিতে হবে।’

আজ রোববার বিকেলে পুরাতন কিশোরগঞ্জ স্টেডিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, ভিক্ষু ও পাদ্রীসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের সম্মানি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ছবি : পিএমও

ছবি : পিএমও

কিশোরগঞ্জ স্টেডিয়ামে এই অনুষ্ঠান হয়। এতে জেলার নারীদের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় গুরুদের মধ্যে সন্মানি প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া অস্বচ্ছল ও প্রতিবন্ধীদের আর্থিক অনুদানের চেকও দেন তিনি। একজন প্রতিবন্ধীর হাতে তুলে দেন চাকুরির নিয়োগপত্র।

প্রধানমন্ত্রী অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকটকালে কিছু গোষ্ঠীর ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, ‘এরা অতীতে কী করেছে তা বিবেচনায় নিয়ে এদের চোখে চোখে রাখতে হবে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে, ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক ঘটনাবলী এবং বিগত ১৭ বছরের জনগণের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে রাজপথে এদের কোনো ভূমিকা ছিল না।’

তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৭ বছরের আন্দোলনে বিএনপি ও তার মিত্র দলগুলোর নেতাকর্মীরাই গুম, খুন, নির্যাতন ও অত্যাচারের শিকার হয়েছেন।

সাম্প্রতিক ‘সংস্কার’ সংক্রান্ত আলোচনার প্রতি ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর ধরে রাজপথে অনুপস্থিত থেকে যারা আজ সংস্কারের নামে বড় বড় কথা বলছেন, তারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। বিএনপিই ২০২২ সালে সর্বপ্রথম রাষ্ট্রীয় সংস্কারের রূপরেখা জনগণের সামনে উপস্থাপন করেছিল। এরও আগে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই দেশে সংস্কারের প্রথম প্রস্তাবনা তৈরি হয়।’

জনকল্যাণমূলক অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন,  সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের কার্যকর বাস্তবায়ন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা প্রদান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে হবে। পাশাপাশি কৃষি খাতের আধুনিকায়ন এবং তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে নতুন মিল-কারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

ছবি : পিএমও

ছবি : পিএমও

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষকে পেছনে রেখে বা তাদর সঠিকভাবে তৈরি করতে না পারলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারা যাবে না। আমরা যত যতই বড় স্লোগান দেই না কেন, মানুষকে যদি আমরা আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তুলতে না পারি, দেশের প্রত্যেকটি নাগরিককে যদি আমরা অর্থনৈতিকভাবে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে না পারি তাহলে কখনোই আমরা দেশকে গড়ে তুলতে পারবো না।’

অন্য কোনো দেশের অনুকরণে নয়, বাংলাদেশকে একটি আত্মনির্ভরশীল ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এমন এক বাংলাদেশ তৈরি করা হবে, যেখানে দেশের প্রতিটি শ্রেণীর মানুষ রাষ্ট্রের কাছ থেকে তার প্রাপ্য মর্যাদা ও সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা পাবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। নারীদের পেছনে ফেলে কোনো দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। নারীদের আত্মনির্ভরশীল ও ক্ষমতায়িত করতেই ফ্যামিলি কার্ডের মতো যুগান্তকারী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো সম্ভব হবে। নারীদের স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়াশোনার সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি ভালো ফলাফলের জন্য সরকারি সহায়তার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

কৃষি ও কৃষকের কল্যাণে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার। সে লক্ষ্যেই কৃষক কার্ড প্রবর্তন করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে দেশের ১৩ লাখ কৃষক সরাসরি উপকৃত হয়েছেন। ‘

‘এছাড়া সেচ সুবিধা ও পানি সংকট দূরীকরণে আগামীতে দেশব্যাপী আড়াইশ কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।’

শিক্ষাব্যবস্থা উন্নতকরনে ও তরুণ প্রজন্মের জন্য নতুন রূপরেখা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু প্রাতিষ্ঠানিক সনদ নয়, শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকা- এবং ভাষার দক্ষতায় পারদর্শী করে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।’

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চালু করা ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতা পুনরায় চালু করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ মেধা ও প্রতিভাকে সঠিকভাবে বিকাশ ঘটাতে প্রতিটি ক্ষেত্রে সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।’

সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কল্যাণে সরকারের প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘সমাজের দিকনির্দেশক হিসেবে ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব ও অন্যান্য ধর্মীয় গুরুদের আত্মনির্ভরশীল রাখতে বিশেষ সামাজিক ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি অসচ্ছল, শারীরিক প্রতিবন্ধী ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্রীয় সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘স্বৈরাচারের সময় বঞ্চনার শিকার ১ লাখ ২৩ হাজার শিক্ষকের অবসর ভাতার জটিলতা নিরসন করে অর্থ প্রদান সম্পন্ন করেছে বর্তমান বিএনপি সরকার।’

ছবি : পিএমও

ছবি : পিএমও

বিএনপি দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতি করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,  বিএনপি জনগণের কল্যাণে এমন রাজনীতি করে, যে রাজনীতি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে, শিক্ষায় সহায়তা দেয়, কৃষকের ফসল বাড়াতে ভূমিকা রাখে এবং কলকারখানা গড়ে তোলে- সেটিই বিএনপির রাজনীতি। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং এই উন্নয়ন যাত্রার প্রত্যক্ষ সাক্ষী দেশের সাধারণ মানুষ।

তিনি বলেন,  ‘অর্থাৎ আমাদের লক্ষ্যই হচ্ছে দেশের জন্য কাজ করা, মানুষের জন্য কাজ করা। মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা। দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারলেই একমাত্র দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করা যাবে।’

সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম,সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান, মাজহারুল ইসলাম, জালাল উদ্দীন প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।

 

বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই : প্রধানমন্ত্রী

 

আজ কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করার পর এক সমাবেশে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও

পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ), ১৬ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস): প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মানুষের জীবনমান উন্নয়নে জনকল্যাণমুখী বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে আগামীতে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। সেজন্য আমরা জনগণের কল্যাণে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।’

আজ রোববার কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করার পর এক জনসমাবেশে বক্তব্যকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

উপস্থিত জনসাধারণের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে আপনারা হাজার হাজার মানুষ সমর্থন দিয়ে বলেছেন যে এই পরিকল্পনাগুলো যদি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে বাংলাদেশের মানুষ উপকৃত হবে। তাই আপনাদেরকে বলতে চাই, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আপনারা যে দলের ওপর আস্থা রেখেছেন, সেই আস্থা ধরে রাখুন। বিএনপি আপনাদের সাথে ছিল, বিএনপি বাংলাদেশের জনগণের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও পাশে থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি বাংলাদেশের জনগণের জন্যই কাজ করবে, ইনশাআল্লাহ। দেশ ও জনগণের স্বার্থের বাইরে কোনো কাজ করবে না।’

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আগের সরকারের অপরিকল্পিত বিভিন্ন পদক্ষেপের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব পদক্ষেপ বর্তমান সংকট তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে। আগামী ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশন শুরু হবে। সেখানে সরকার আগামী ১০ বছরে দেশের বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা তুলে ধরবে।

বিশৃঙ্খলাকারীদের সস্পর্কে সবাইকে সর্তক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কিছু সংখ্যক ব্যক্তি রাস্তায়, রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। রাজপথে যদি বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ জনগণ। তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি ও জীবনযাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু উপকৃত হয় সেই সকল বিশৃঙ্খলাকারী।’

তিনি বলেন, ‘আজকে সবাই প্রতিজ্ঞা করি যে দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যারা কাজ করবে, যারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে, যারা জনগণের স্বার্থে নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করবে, তাদেরকে জনগণ সকল শক্তি দিয়ে প্রতিরোধ করবে।’

দেশের মানুষ এখন শান্তি চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের মানুষ এখন আইনের শাসন চায়, কর্মসংস্থান চায়, সন্তানদের জন্য শিক্ষা চায়, পরিবারের জন্য স্বাস্থ্যব্যবস্থা চায়। এই কাজগুলো যদি করতে হয়, আমাদেরকে ধৈর্য ধরতে হবে। একই সাথে যারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে, তাদের ব্যাপারে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে।’

পাকুন্দিয়ায় পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। পরে অনুষ্ঠানস্থলে প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে উঠলে হাজার হাজার নেতাকর্মী তাকে করতালি দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

 

শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের উন্নয়নে ১৭ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়েছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

আজ সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের ফলক উন্মোচন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : পিএমও

কিশোরগঞ্জ, ১৬ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের ২০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে মাঠের সার্বিক সুবিধাদি বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে ১৭ কোটি টাকার সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার।’

আজ (রোববার) সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের ফলক উন্মোচন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে প্রতি ঈদে লক্ষ লক্ষ মানুষ নামাজ আদায় করতে আসেন। আগামীতে এই মাঠের ২০০তম জামাত অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই বিশেষ উপলক্ষকে সামনে রেখে মাঠটির সার্বিক উন্নয়নে আমরা ১৭ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছি। প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসকের নিকট সরকারি তহবিল থেকে ৬ কোটি টাকা হস্তান্তর করা হয়েছে। খুব শিগগিরই দৃশ্যমান উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হবে।’

প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শোলাকিয়া মাঠের সীমানা প্রাচীর ও দৃষ্টিনন্দন প্রবেশদ্বার নির্মাণ, ওজুখানার সুব্যবস্থাসহ সংলগ্ন পুকুরের সৌন্দর্যবর্ধন এবং মাঠটিকে চলাচলের উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। এর ফলে স্থানীয় ছেলেমেয়েদের খেলাধুলা এবং সাধারণ মানুষের সকাল-সন্ধ্যাকালীন হাঁটার সুযোগ তৈরি হবে।’

পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিচারণ করেন তারেক রহমান।

তিনি বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ওমরাহ পালনের সময় সৌদি আরবের আরাফাত ময়দানে এক লাখ নিম গাছের চারা পাঠিয়েছিলেন। বর্তমানে সেগুলো বিশাল বৃক্ষরাজিতে পরিণত হয়েছে। দেশটির মানুষ এগুলোকে সম্মান জানিয়ে ‘জিয়া গাছ’ নামে ডাকে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই ধারাবাহিকতায় ঐতিহাসিক শোলাকিয়া মাঠ পরিবেশবান্ধব ও ছায়ানিবিড় করতে এখানেও প্রচুর নিম গাছ রোপণ করা হবে।

ছবি : পিএমও

ছবি : পিএমও

এ সময় তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদল আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং নিজ হাতে চারা রোপণ করে সবুজায়নের প্রতি সবাইকে উৎসাহিত করেন।

উন্নয়ন কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত জনতার উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে তাঁর উপস্থিতি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। প্রধানমন্ত্রীকে এক নজর দেখতে এবং তাঁর বক্তব্য শুনতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সেখানে সমবেত হন।

এই কর্মসূচির পর সড়ক পথে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মৎস্য, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি বাড়াতে জলাশয়ের সর্বোচ্চ ব্যবহারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

রোববার কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর মিনি স্টেডিয়ামে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : পিএমও

ঢাকা, ১৬ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মৎস্য খাতকে সমৃদ্ধ করার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে নতুন বাজার খুঁজে বের করার জন্য দেশের উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘সমগ্র বাংলাদেশে বহু নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুর ও হাওর অলস পড়ে রয়েছে। সরকার এসব জলাশয় সংস্কার করে মৎস্য পোনা ছাড়ার উদ্যোগ নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার বেকার তরুণদের মধ্যে এসব জলাশয় ব্যবহারের সুযোগ বণ্টন করা হবে, যাতে তাদের কর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।’

আজ রোববার দুপুরে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউটের মিনি স্টেডিয়ামে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের এ অনুষ্ঠানে ১৩টি ক্যাটাগরিতে ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় মৎস্য পদক (স্বর্ণ পদক) প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।

ছবি : পিএমও

ছবি : পিএমও

এবারের জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘রুপালী মৎস্য স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

দেশের মৎস্য সম্পদ রক্ষায় হাওর ও জলাশয়ের পরিবেশ রক্ষার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ হয়তো মৎস্য পেশার সঙ্গে জড়িত। মাছকে যদি আমরা বাঁচাতে চাই, তাহলে পরিবেশের সুরক্ষার প্রতিও খেয়াল রাখতে হবে। আমাদের পরিবেশকে রক্ষা করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি পরিবেশকে রক্ষা করতে পারি, তাহলে যেমন একটি সুস্থ পরিবেশে বসবাস করতে পারব, তেমনি আমাদের সন্তানরাও আগামীতে সুস্থ পরিবেশে বসবাস করতে পারবে। একইভাবে আমাদের মৎস্য, পশু-সম্পদসহ সবকিছু একটি সুস্থ পরিবেশে গড়ে তুলতে সক্ষম হব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ব্যবহৃত বিভিন্ন আবর্জনা, বিভিন্ন রকম টিস্যু পেপার ও প্লাস্টিকের পানির বোতল ফেলার কারণে ধীরে ধীরে আমাদের খাল-বিল, নদী-নালা এবং হাওর-জলাশয়ের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তবে আমরা যদি পরিবার, পরিবেশ, মাছ ও পানি রক্ষা করতে চাই এবং পরিবেশ দূষণ রোধ করতে চাই, তাহলে সবাইকে সচেতন হতে হবে।’

মৎস্য খাতের অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিশ্বের প্রায় ৫২টি দেশে মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছে। এছাড়া জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট জলজ প্রাণী উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে ৫ম এবং অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয় থেকে মাছ আহরণে ২য় স্থান অর্জন করেছে।’

মৎস্য খাতে বিভিন্ন আধুনিক ও যুগান্তকারী পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খুলনা অঞ্চলে ৩০০টি ক্লাস্টার গঠনের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৭ হাজার ৫০০টি ঘেরে উৎপাদন বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি কক্সবাজারের চকরিয়ায় ৭ হাজার একর জমিতে ‘শ্রিম্প সিটি’ বাস্তবায়নে মাস্টারপ্ল্যান ও অবকাঠামো উন্নয়ন চলছে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনে ইলিশের অবদান প্রায় ১০ শতাংশ, যা জাতীয় জিডিপির ১ শতাংশেরও বেশি। বিগত বিএনপি সরকারের সময় প্রবর্তিত ‘ইলিশ ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট অ্যাকশন প্ল্যান’-এর ধারাবাহিকতায় দেশে ইলিশ উৎপাদন অভাবনীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।’

মৎস্যজীবী ও জেলেদের সুরক্ষায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে বর্তমানে প্রায় ২ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। মৎস্য চাষীদের কৃষক কার্ড প্রদান, জেলেদের নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র প্রদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো সুন্দরবন ও হাওর অঞ্চলে মাছ ধরা নিষিদ্ধকালীন সময়ে জেলেদের ভিজিএফ সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে।’

প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও নতুন উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে সরকার ৫০০ কোটি টাকার ‘স্টার্টআপ ফান্ড’ গঠন করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার স্টার্টআপ ফান্ড গঠন করেছে।’

তিনি বলেন, ‘এই ফান্ড থেকে সম্ভাবনাময় স্টার্টআপের জন্য অর্থাৎ শিল্প উদ্যোক্তা বা শিল্প শুরু করার জন্য ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অনুদান (গ্রান্ট) দেওয়া হবে। সুতরাং এই সুযোগ গ্রহণ করে এগিয়ে আসার জন্য আমি নতুন উদ্যোক্তাদের বিশেষভাবে আহ্বান জানাতে চাই।’

বাংলাদেশের ভাগ্যোন্নয়নে মৎস্য ও পশুসম্পদ যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করতে পারে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গত জুন মাসে নাইজেরিয়াতে হ্যাচিং ডিম রপ্তানি করা হয়েছে। এভাবে বিদেশে নিত্যনতুন পণ্যের বাজার খুঁজে বের করার জন্য আমি উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ীদের প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানাই। এক্ষেত্রে সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।’

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য জালাল উদ্দীন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব দেলোয়ার হোসেন এবং মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. খালেদ কনক বক্তব্য রাখেন।

জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী শোলাকিয়া মাঠে বৃক্ষরোপণ এবং কিশোরগঞ্জ স্টেডিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

পূর্বের খবরঅস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বিশাল জয় বাংলাদেশের