দেশের ১০১৯ জন বিশিষ্ট নাগরিকের ধানের শীষের সমর্থন জানিয়ে বিবৃতি প্রদান

84

ঢাকাঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ধানের শীষের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন দেশের এক হাজার ১৯ বিশিষ্টজন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে এ নির্বাচন অনুষ্ঠান করা বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পাশাপাশি দেশ রক্ষায় বিএনপিকে তথা ধানের শীষের সকল প্রাথীর পক্ষে সমর্থন সকলের দায়িত্ব হয়ে উঠেছে বলেও জানিয়েছেন তারা।

‘একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা দেশ এবং জনগণের জন্য উৎসর্গ করা সব প্রাণের প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা করতে পারি।’

দেশবাসীর উদ্দেশে বিশিষ্ট নাগরিকরা জানান, গণতান্ত্রিক উত্তোরণের এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে উপনীত বাংলাদেশ। দেশের সংবিধানের সপ্তম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। কিন্তু পতিত, পরাজিত, বিতাড়িত চক্র জনগণের কাছ থেকে রাষ্ট্রের মালিকানা কেড়ে নিয়েছিল। কেড়ে নিয়েছিল জনগণের সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার। অবশেষে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় হাজারো প্রাণের বিনিময়ে জনগণের কাছে রাষ্ট্রের মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া এক মাহেন্দ্রক্ষণ আমাদের সামনে উপস্থিত। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের জনগণের বহুল আকাঙ্ক্ষিত নির্বাচন।

বিএনপিসহ গণতন্ত্রের পক্ষের সব রাজনৈতিক দল এবং গণতান্ত্রিকমী জনগণকে দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে হয়েছে। ফ্যাসিবাদবিরোধী এই ধারাবাহিক আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষকে গুম-খুন-অপহরণ করা হয়েছিল।

আয়নাঘর নামক এক বর্বর বন্দিখানা যেন হয়ে উঠেছিল জ্যান্ত মানুষের কবরস্থান। শুধুমাত্র ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে ১৪ শতাধিক মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। আহত হয়েছেন কমপক্ষে তিন হাজার মানুষ। বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধ থেকে আজ পর্যন্ত দেশে গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বিভিন্ন সময়ে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। যারা আহত হয়েছেন, তাদের প্রতি জানাই গভীর সহানুভূতি ও সহমর্মিতা। তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি জানাই গভীর সমবেদনা।

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের আধিপত্যবাদ ও তাবেদার অপশক্তিবিরোধী বাংলাদেশ, ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, শাপলা চত্ত্বরের গণহত্যা কিংবা সর্বশেষ ২০২৪ সালের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ। ইতিহাসের এমন প্রতিটি বাঁকে হাজারো লাখ মানুষ অকাতরে জীবন দিয়েছেন। একটি প্রাণের সমাপ্তির মধ্যে দিয়ে একটি পরিবারের স্বপ্ন, সম্ভাবনা, আশা ও আকাঙ্ক্ষার মৃত্যু ঘটে। এই মানুষগুলো কেন এমন অকাতরে জীবন দিয়েছিলেন? কী ছিল তাদের চাওয়া? কোনো কিছু দিয়েই মৃত্যুর প্রতিদান হয় না?

তাহলে কি এত প্রাণের বিসর্জন বৃথা হয়ে যাবে? না। অবশ্যই বৃথা যেতে দিতে পারি না আমরা। আমরা যারা এখনও আল্লাহর রহমতে বেঁচে আছি, আমাদের উচিত সব শহীদদের আকাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা দেশ ও জনগণের জন্য উৎসর্গকৃত সব প্রাণের প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা করতে পারি আমরা।

১২ ফেব্রুয়ারি বিএনপির প্রতি আবারও আমাদের সমর্থন প্রকাশের দিন। অতীতেও জনগনের সমর্থনে বিএনপি একাধিকবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছে। দেশ পরিচালনা করতে গিয়ে সেই সময় কোনো কোনো ক্ষেত্রে হয়তো অনিচ্ছাকৃত কিছু কিছু ভুল-ত্রুটির জন্য দেশবাসীর কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে দলটি। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে অর্জনগুলোকে অবলম্বন করে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনের জন্য আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে আবারও বিএনপিকে আপনাদের সমর্থন দিন। দেশ ও জনগণের জন্য আপনার এবং আপনার পরিবারের সদস্যের জন্য যেসব পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে তারা, প্রতিটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ধানের শীষে আপনাদের সমর্থন এবং ভোট দিয়ে বিএনপিকে সরকার গঠন করার একটি সুযোগ আমরা প্রদান করি। ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদিন ধানের শীষে ভোট দিন।

রাষ্ট্র পরিচালনায় বিএনপির মূলমন্ত্র মহানবীর মহান আদর্শ ন্যায়পরায়ণতা কথায় আমরাও পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছি। ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণের বাংলাদেশে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার এই দিনে ধানের শীষের বিজয় ও সাফল্য কামনা করছি।

বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিশিষ্ট নাগরিকরা এসব কথা জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘদিনের শোষণ ও বঞ্চনার ইতিহাস থেকে মুক্ত হয়ে বাঙালি জাতি অর্জন করে লাল-সবুজের পতাকা। ১৯৭২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় বাংলাদেশের সাংবিধানিক পথচলা। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান; স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন। তাই, চলমান গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে, সংবিধান সম্মতভাবে ঘোষিত এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে স্বাগত জানাই।

একইসাথে এই শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন সম্পন্ন করতে কমিশনকে জানাই উদাত্ত আহ্বান। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে সঠিক সময়ে এই নির্বাচন অনুষ্ঠান করা বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হয়ে উঠেছে বলেই মনে করছে নাগরিক সমাজ।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী নাগরিকের মধ্যে অন্যতম হলেন- সাবেক প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী,বিচারপতি সিকদার মকবুল হক, সাংবাদিক মাহবুবল হক, সাংবাদিক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, সুলতানা কামাল, রাশেদা কে চৌধূরী, আনু মুহাম্মদ, খুশী কবির, পারভীন হাসান,  শামসুল হুদা, সারা হোসেন, সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ, সুব্রত চৌধুরী,  সাবেক মুখ্য সচিব আবদুল করিম, অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মাহবুব উদ্দিন আহমেদ, শিক্ষক ও গবেষক অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক শিল্পী হাশেম খান, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক, সাবেক আইজিপি মোহাম্মদ নুরুল হুদা, সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমেদ, দুর্নীতি দমন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. ইকবাল মাহমুদ, বেসরকারিকরণ কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মোল্লা ওয়াহেদুজ্জামান, ডা. মো: শারফুদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক ডা. আলী আজগর মোড়ল,  অধ্যাপক ডা. আব্দুল গণি মোল্লা, অধ্যাপক ডা. আবু ইউসুফ ফকির, অধ্যাপক ডা. জহুরুল হক সাচ্চু, অধ্যাপক ডা. সোহেল মাহমুদ,অধ্যাপক ডা. আব্দুল আজিজ, অধ্যাপক ডা. অসিত বরণ অধিকারী।নুর খান, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এটি আহমেদুল হক চৌধুরী, সাবেক রাষ্ট্রদূত সোহরাব হোসেন, সাবেক মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, শাহনাজ হুদা, নোভা আহমেদ, জোবাইদা নাসরীন, মোহম্মদ সেলিম হোসেন, শাহ-ই-মবিন জিন্নাহ, জাকির হোসেন, ড. রেজাউল করিম চৌধুরী, মনীন্দ্র কুমার নাথ, সাঈদ আহমেদ, আবু সালেহ আকন, মাইনুল হাসান সোহেল, মিনহাজুল হক চৌধুরী, আশরাফ আলী, শাহাদত আলম, রেজাউল হক, হানা শামস আহমেদ মুক্তাশ্রী চাকমা, বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব সেলিম ওমরাও খান, কবি শহীদুল্লাহ ফরায়েজী, চন্দা মাহজাবিন, মীর আব্দুল আলীম, শাহাদৎ স্বপন, রাশিদুল হাসান বুলবুল, দেলোয়ার হোসেন, এস এম আকাশ, মনিরুজ্জামান জুয়েল, আবু সুফিয়ান রতন, আনহার সামসাদ, রাশেদ বাবু , সালেহ মোঃ রশিদ অলক, খান নজরুল ইসলাম হান্নান, জিএম হাফিজুর রহমান, শামসাদ আনহার, লায়ন আব্দুস সালাম শান্ত আখতারুজ্জামান প্রমুখ।

পূর্বের খবরজিজিএফ এর প্রাক নির্বাচনী জনমত জরিপে বিএনপি: ২২১টি আসন, জামায়াতে ইসলামী: ৫১টি আসন
পরবর্তি খবরসরকারের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে জয়ের সুবাস পাচ্ছে বিএনপি